বঙ্গোপসাগরে সৃষ্ট নিম্নচাপের কারণে দেশের সমুদ্রবন্দরগুলোতে তিন নম্বর স্থানীয় সতর্ক সংকেত জারি করেছে আবহাওয়া অধিদফতর। এর ফলে চট্টগ্রাম, কক্সবাজার, মোংলা ও পায়রা সমুদ্রবন্দরকে সতর্ক অবস্থায় থাকতে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। এ অবস্থায় সমুদ্রবন্দরের আশপাশে জাহাজ ও নৌযান চলাচলে সীমিত সতর্কতা মানতে বলা হয়েছে।
আবহাওয়া অধিদফতর জানায়, গত কয়েক ঘণ্টায় ঢাকাসহ দেশের বিভিন্ন স্থানে ভারী বৃষ্টিপাত হয়েছে। রাজধানী ঢাকায় একটানা ৬ ঘণ্টায় ১৩২ মিলিমিটার বৃষ্টিপাত রেকর্ড করা হয়েছে, যা স্বাভাবিকের তুলনায় অনেক বেশি। আবহাওয়াবিদরা ধারণা করছেন, আগামী ৪ অক্টোবর পর্যন্ত দেশে এ ধরনের বৃষ্টিপাত অব্যাহত থাকতে পারে।
বৃষ্টিপাতের কারণে রাজধানীর বিভিন্ন এলাকায় জলাবদ্ধতা তৈরি হয়েছে। এতে কর্মজীবী মানুষ ও যানবাহন চলাচলে চরম ভোগান্তি দেখা দিয়েছে। এ ছাড়া দেশের উত্তরাঞ্চল, বিশেষ করে রংপুর, রাজশাহী ও ময়মনসিংহ বিভাগেও ভারী থেকে অতিভারী বৃষ্টিপাতের সম্ভাবনা রয়েছে বলে জানানো হয়েছে। এসব এলাকায় নদনদীর পানি প্রবাহ হঠাৎ বেড়ে যেতে পারে এবং নিম্নাঞ্চলে জলাবদ্ধতার পরিস্থিতি তৈরি হওয়ার ঝুঁকি আছে।
আবহাওয়া অধিদফতরের তথ্যমতে, নিম্নচাপের প্রভাবে সমুদ্রবন্দরে উচ্চ জোয়ার এবং নদীর তীরবর্তী এলাকায় স্বাভাবিকের চেয়ে বেশি পানি প্রবাহিত হতে পারে। এজন্য জেলে ও উপকূলীয় বাসিন্দাদের সতর্ক থাকতে বলা হয়েছে। নৌকাযোগে গভীর সমুদ্রে যাওয়া থেকে বিরত থাকার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।
বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, এ ধরনের বৃষ্টিপাত কৃষি খাতেও প্রভাব ফেলতে পারে। অনেক এলাকায় ধানক্ষেত ও সবজির জমি পানির নিচে ডুবে যেতে পারে, ফলে কৃষকদের আর্থিক ক্ষতির আশঙ্কা রয়েছে। অন্যদিকে এ সময় পর্যাপ্ত বৃষ্টিপাত কিছু ক্ষেত্রে সেচ নির্ভর জমিতে ইতিবাচক প্রভাবও ফেলতে পারে।
পরিস্থিতি মোকাবিলায় স্থানীয় প্রশাসনকে প্রস্তুত থাকার পরামর্শ দিয়েছে আবহাওয়া অধিদফতর। জনগণকেও অপ্রয়োজনে ঘরের বাইরে বের না হওয়ার আহ্বান জানানো হয়েছে।

স্টাফ রিপোর্টার 


























