দুই দিনের টানা বর্ষণ ভারত থেকে নেমে আসা পাহাড়ি ঢলে ময়মনসিংহের সীমান্তবর্তী হালুয়াঘাট উপজেলার নিম্নাঞ্চল প্লাবিত হয়েছে। নদ-নদীর পানি দ্রুত বৃদ্ধি পাওয়ায় বসতভিটা, কৃষিজমি ও গ্রামীণ সড়কে পানি উঠে পড়েছে। এতে নিম্নাঞ্চলের হাজারো মানুষ পানিবন্দি হয়ে পড়েছেন। ব্যাহত হচ্ছে স্বাভাবিক জীবনযাত্রা ও সড়ক যোগাযোগ।
স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, টানা বৃষ্টিপাতের ফলে উপজেলার দর্শা, কছন্দরা, কংস ও গাঙ্গিনা নদীর পানি বিপৎসীমার কাছাকাছি পৌঁছে আশপাশের নিম্নাঞ্চলে ছড়িয়ে পড়েছে। এর ফলে হালুয়াঘঅট সদর, গাজীরভিটা, নড়াইলসহ উপজেলার বিভিন্ন ইউনিয়নের নিচু এলাকা পানিতে তলিয়ে গেছে।
অনেক কাঁচা ও আংশিক পাকা গ্রামীণ সড়ক পানির নিচে চলে যাওয়ায় যানবাহন চলাচল ব্যাহত হচ্ছে। কোথাও কোথাও নৌকাই হয়ে উঠেছে মানুষের একমাত্র ভরসা, আবার অনেকেই বিকল্প পথ ব্যবহার করে গন্তব্যে পৌঁছানোর চেষ্টা করছেন।
পানির কারণে আমন ধানের বীজতলা, শাকসবজির ক্ষেতসহ নিম্নাঞ্চলের বিস্তীর্ণ কৃষিজমি ক্ষতির মুখে পড়েছে। এছাড়া অনেক পুকুর ও মাছের ঘেরে পানি প্রবেশ করায় মাছ ভেসে যাওয়ার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে। কৃষকদের ভাষ্য, বৃষ্টিপাত অব্যাহত থাকলে ফসলের ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি হতে পারে।
নিম্নাঞ্চলের বাসিন্দারা জানান, অনেক বাড়ির উঠান ও ঘরে পানি ঢুকে পড়েছে। শিশু, নারী ও বয়স্কদের নিয়ে চরম দুর্ভোগে দিন কাটছে তাদের। প্রয়োজনীয় কাজে ঘরের বাইরে বের হওয়া কঠিন হয়ে পড়েছে। দ্রুত পানি না কমলে পরিস্থিতির আরও অবনতি হতে পারে বলে আশঙ্কা করছেন তারা।
হালুয়াঘাট উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) ফয়সাল আহমেদ বলেন, উপজেলার বন্যা পরিস্থিতি সার্বক্ষণিক পর্যবেক্ষণ করা হচ্ছে। ইতোমধ্যে ক্ষতিগ্রস্ত এলাকার তথ্য সংগ্রহের কাজ শুরু হয়েছে। প্রয়োজনীয় ত্রাণ ও সহায়তা প্রদানের জন্য উপজেলা প্রশাসন প্রস্তুত রয়েছে। পরিস্থিতি অনুযায়ী দ্রুত প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
হালুয়াঘাট প্রতিনিধি 


















