ময়মনসিংহের হালুয়াঘাটে যুবলীগ নেতা আসাদুজ্জামান আকন্দ নামে এক চিকিৎসকের ভুল চিকিৎসায় এক প্রসূতি মায়ের মৃত্যুর অভিযোগ উঠেছে। আসাদুজ্জামান আকন্দ ধোবাউড়া উপজেলা যুবলীগের সভাপতি। ঘটনা গত ২৪ জুলাই ঘটলেও চিকিৎসকসহ একটি দালালচক্র বিষয়টি ধামাচাপা দেয় বলে অভিযোগ। বিষয়টি দৈনিক ব্রহ্মপুত্র এক্সপ্রেসের নজরে আসলে কয়েক দিনের অনুসন্ধানে সামনে আসে প্রকৃত বিষয়টি। এদিকে মৃত্যুর ঘটনাটি নিয়ে কোনো অভিযোগ না ওঠার নেপথ্যের কারণ জানতে গিয়ে অর্থ লেনদেনের ঘটনা জানা যায়।
সূত্রমতে, ২০২৪ সালের ৫ আগস্ট শেখ হাসিনা সরকার পতনের পর ডা. আসাদুজ্জামান আকন্দ সাগর হালুয়াঘাটে এক বিএনপি নেতার ছত্রছায়ায় আল সিফা হাসপাতাল অ্যান্ড ডায়াগনস্টিক সেন্টার নামে একটি প্রতিষ্ঠান চালু করেন। তথ্যমতে, প্রতিষ্ঠানটির লাইসেন্সসহ বৈধ কোনো কাগজপত্রও নেই। ইতিপূর্বে একবার প্রতিষ্ঠানটিকে ৫০ হাজার টাকা জরিমানা করা হয়।
স্থানীয়রা জানান, এই চিকিৎসাকেন্দ্রের বিরুদ্ধে বিভিন্ন সময়ে ভুল চিকিৎসার অভিযোগ রয়েছে। হালুয়াঘাট পুরাতন বাসস্ট্যান্ডে দ্বিতীয় তলায় একটি ফ্ল্যাট ভাড়া নিয়ে গোপনে তাদের কার্যক্রম চালিয়ে আসছিল। জানা যায়, সম্প্রতি ২৪ জুলাই হালুয়াঘাট উপজেলার খন্ডকপাড়া গ্রামের জিয়ার উদ্দিনের কন্যা জেসমিন কতিপয় দালালের প্ররোচনায় সিজার করতে আল শিফা হাসপাতালে যান। ওই দিনই বিকেলে সিজার করতে গিয়ে চিকিৎসক আসাদুজ্জামান আকন্দের হাতে মারা যান প্রসূতি জেসমিন। তবে সন্তানটি বেঁচে যায়।
তথ্য নিয়ে জানা যায়, ঘটনার দিন রাতে হালুয়াঘাট থানায় জড়িত চিকিৎসকের বিরুদ্ধে অভিযোগ নিয়ে উপস্থিত হন প্রসূতির স্বামী রাজু মিয়া, পিতা জিয়ার উদ্দিন ও প্রসূতির ভাই আলমগীর হোসেন। খবর পেয়ে থানায় আসেন চিকিৎসক আসাদুজ্জামান আকন্দ সাগরসহ স্থানীয় এক বিএনপি নেতা। ওই রাতেই ৪০ হাজার টাকা প্রসূতির মৃত্যু বাবদ তার স্বামী রাজু মিয়াকে দিয়ে ঘটনাটি ধামাচাপা দেওয়া হয় বলে অভিযোগ।
ঘটনাটি দৈনিক ব্রহ্মপুত্র এক্সপ্রেসের নজরে আসলে খবর নিতে প্রসূতির পিত্রালয়ে উপস্থিত হন প্রতিবেদক। চিকিৎসকের ভুল চিকিৎসায় মৃত্যুর বিষয়টি স্বীকার করেন প্রসূতির পিতা জিয়ার উদ্দিন, ভাই আলমগীরসহ স্বজনরা। তবে চিকিৎসকের বিরুদ্ধে অভিযোগ না করার কারণ জানতে চাইলে নানাভাবে এড়িয়ে যান তারা।
কথা বলেন প্রসূতির স্বামী রাজু মিয়া। তিনি জানান, ১৩ হাজার টাকার চুক্তিতে আল শিফা হাসপাতাল অ্যান্ড ডায়াগনস্টিক সেন্টারে সিজার করান। রক্তশূন্য হয়ে মারা যান জেসমিন। টাকা লেনদেনের বিষয়টি অস্বীকার করেন তিনি।
এ বিষয়ে বারবার কথা বলার চেষ্টা করলেও কথা বলতে রাজি হননি চিকিৎসক আসাদুজ্জামান আকন্দ সাগর। নানান অজুহাতে পাশ কাটিয়ে গেলেও মাত্র ৪০ হাজার টাকার বিনিময়ে নিহত নারীর স্বামীসহ পরিবারকে ম্যানেজ করেন চিকিৎসকসহ দালালচক্রটি—এমন তথ্য পাওয়া গেছে দৈনিক ব্রহ্মপুত্র এক্সপ্রেসের অনুসন্ধানে।
হালুয়াঘাট উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. প্রাণেশ চন্দ্র পণ্ডিত বলেন, এই হাসপাতালের নামে বৈধ কোনো কাগজপত্র বা লাইসেন্স নেই। যে কোনো সময় ভ্রাম্যমাণ আদালতের মাধ্যমে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।
হালুয়াঘাট থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মোহাম্মদ ফেরদৌস আলম এ বিষয়ে কিছুই অবগত নন বলে জানান। তিনি বলেন, প্রসূতি মৃত্যুর বিষয়ে কোনো অভিযোগ পাননি তিনি।
উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ফয়সাল আহমেদ বলেন, আমরা প্রসূতি মৃত্যুর খবরটি শুনেছি। পরিবারের পক্ষ থেকে অভিযোগ না করলেও হাসপাতালের বৈধতা রয়েছে কি না, তা খতিয়ে দেখা হবে।
হালুয়াঘাট প্রতিনিধি 






















