আজ ২১ মে, বিশ্বজুড়ে পালিত হচ্ছে ‘বিশ্ব চা দিবস’ (International Tea Day)। জাতিসংঘের খাদ্য ও কৃষি সংস্থা (FAO) ২০২০ সালে দিনটি আনুষ্ঠানিকভাবে স্বীকৃতি দেয়। চা উৎপাদক ও ভোক্তাদের মধ্যে সচেতনতা বৃদ্ধির লক্ষ্যে এই দিবসটি উদযাপিত হয়। বিশ্বের অন্যান্য দেশের মতো বাংলাদেশেও নানা কর্মসূচির মাধ্যমে দিনটি পালিত হচ্ছে।
বাংলাদেশে চা শিল্পের ইতিহাস প্রায় ১৬০ বছরের পুরনো। ১৮৫৪ সালে সিলেটের মালনীছড়ায় প্রথম চা বাগানের সূচনা হয়। বর্তমানে বাংলাদেশে প্রায় ১৬৮টি চা বাগান রয়েছে, যার অধিকাংশই সিলেট, মৌলভীবাজার, চট্টগ্রাম ও পঞ্চগড় জেলায় অবস্থিত।
২০২৪ সালে বাংলাদেশে প্রায় ১০ কোটি কেজির বেশি চা উৎপাদিত হয়েছে, যা দেশের ইতিহাসে একটি রেকর্ড। বর্তমানে বাংলাদেশ বিশ্বের অন্যতম চা উৎপাদনকারী দেশ হিসেবে পরিচিত। অভ্যন্তরীণ চাহিদা মিটিয়ে কিছু চা রপ্তানিও করা হচ্ছে।
বাংলাদেশের উত্তরাঞ্চলের পঞ্চগড় জেলা চা উৎপাদনে এক নতুন সম্ভাবনার নাম। সেখানে ক্ষুদ্র ও মাঝারি কৃষকরা ২০০০-এর দশকের শুরু থেকে চা চাষ শুরু করেন। আজ সে অঞ্চল থেকে বছরে গড়ে ১৪-১৫ মিলিয়ন কেজি চা উৎপাদিত হচ্ছে।
চা শিল্পে কর্মরত প্রায় ১ লাখ ৩০ হাজার শ্রমিকের অধিকাংশই নারী। তাদের দৈনিক মজুরি এখনও তুলনামূলকভাবে অনেক কম—সর্বশেষ মজুরি নির্ধারিত হয়েছে ১৭০ টাকা। শিক্ষা, স্বাস্থ্য ও আবাসন খাতে সরকারি ও বেসরকারি সহযোগিতা থাকলেও শ্রমিকদের জীবনমান এখনো উন্নয়নের দাবিতে মুখর।
চা রপ্তানি বাংলাদেশের জন্য একসময় একটি উল্লেখযোগ্য খাত ছিল। তবে অভ্যন্তরীণ চাহিদা বেড়ে যাওয়ায় রপ্তানি কমে গেছে। বর্তমানে মধ্যপ্রাচ্য, পাকিস্তান ও ইউরোপের কিছু দেশে সীমিত পরিমাণে চা রপ্তানি হয়। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, বিশ্বমানের চা প্রক্রিয়াজাতকরণ ও ব্র্যান্ডিং নিশ্চিত করা গেলে বাংলাদেশ আবার রপ্তানি বাজারে প্রতিযোগিতায় ফিরে আসতে পারে।
অনলাইন প্ল্যাটফর্মে চা উৎপাদন ও বিপণনে উদ্ভাবনী উদ্যোগ নিয়ে তরুণ উদ্যোক্তাদের মতবিনিময়।
চা শুধু একটি পানীয় নয়—এটি বাংলাদেশের ইতিহাস, ঐতিহ্য এবং অর্থনীতির গুরুত্বপূর্ণ অংশ। বিশ্ব চা দিবসে বাংলাদেশের চা শিল্প নতুন করে আলোচনায় এসেছে। টেকসই নীতি, শ্রমিক কল্যাণ, গবেষণা ও বাজার সম্প্রসারণে মনোযোগ দিলে আগামী দিনে বাংলাদেশের চা বিশ্ববাজারে গর্বের স্থান করে নিতে পারে।

























