বিশ্বের বৃহত্তম আঞ্চলিক বাণিজ্যিক জোট আরসিইপি (Regional Comprehensive Economic Partnership) সম্প্রতি বাংলাদেশসহ আরও তিন অর্থনীতিকে সম্ভাব্য নতুন সদস্যপদ নিয়ে সবুজ সংকেত দিয়েছে। এ তালিকায় বাংলাদেশ ছাড়াও শ্রীলঙ্কা, চিলি ও হংকং-এর নাম রয়েছে। সংস্থাটির সর্বশেষ বৈঠকে আলোচনার পর জানানো হয়, এই চারটি অর্থনীতি আরসিইপির অন্তর্ভুক্ত হতে প্রাথমিকভাবে যোগ্য হিসেবে বিবেচিত হয়েছে।
আরসিইপি বর্তমানে বিশ্বের সবচেয়ে বড় বাণিজ্য চুক্তি, যেখানে চীন, জাপান, দক্ষিণ কোরিয়া, অস্ট্রেলিয়া, নিউজিল্যান্ডসহ দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার আসিয়ানভুক্ত দেশগুলো যুক্ত আছে। ফলে এ জোটে যুক্ত হলে বাংলাদেশ তার বাণিজ্যিক অংশীদারিত্ব বহুগুণে বাড়াতে পারবে। বিশেষ করে রপ্তানি খাতের জন্য এটি একটি বড় সুযোগ হিসেবে দেখা হচ্ছে।
কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, আলোচনায় সদস্য রাষ্ট্রগুলো প্রস্তাবিত দেশগুলোর অন্তর্ভুক্তি নিয়ে ইতিবাচক মনোভাব প্রকাশ করেছে। যদিও এখনও চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত হয়নি, তবে আপত্তি তোলা হয়নি বলেই এটিকে বড় ধরনের অগ্রগতি হিসেবে দেখা হচ্ছে। আগামী অক্টোবর মাসে আরসিইপির পরবর্তী সম্মেলনে আনুষ্ঠানিকভাবে সদস্যপদ অনুমোদনের সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে।
বাংলাদেশের অর্থনীতিবিদরা মনে করছেন, আরসিইপিতে যোগ দিলে দেশীয় পণ্য নতুন বাজারে পৌঁছাতে সহজ হবে এবং বৈদেশিক বিনিয়োগ আকর্ষণের সম্ভাবনাও বাড়বে। একইসঙ্গে আঞ্চলিক অর্থনীতির সঙ্গে প্রতিযোগিতা করার অভিজ্ঞতা ও দক্ষতা অর্জনের সুযোগ তৈরি হবে। তবে বিশেষজ্ঞরা সতর্ক করে বলেছেন, শুল্ক হ্রাস এবং বাজার উন্মুক্ত হলে কিছু স্থানীয় শিল্প খাত চাপের মুখে পড়তে পারে। তাই সুফলের পাশাপাশি সম্ভাব্য চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় সুনির্দিষ্ট পরিকল্পনা নেওয়া জরুরি।
সর্বোপরি, আরসিইপিতে বাংলাদেশের সম্ভাব্য অন্তর্ভুক্তি আন্তর্জাতিক পরিমণ্ডলে একটি বড় অর্জন হতে পারে। যদি চূড়ান্ত অনুমোদন মেলে, তবে এটি দেশের বাণিজ্য ও অর্থনীতিকে বৈশ্বিক প্রতিযোগিতার নতুন মাত্রায় উন্নীত করবে।
আন্তর্জাতিক ডেস্ক 






















