ময়মনসিংহ নগরীর ব্রহ্মপুত্র নদের ওপরে নির্মানাধীন দেশের একমাত্র স্টিল আর্চ সেতু বাস্তবায়ন হলে যোগাযোগের ক্ষেত্রে এক বৈপ্লবিক উন্নয়ন ঘটবে বলে আশাবাদ ব্যক্ত করেছেন ময়মনসিংহ সদর আসনের সংসদ সদস্য আবু ওয়াহাব আকন্দ ওয়াহিদ।
তিনি বলেন, স্টিল আর্চ সেতু একটি দৃষ্টি নন্দন প্রকল্প। এটি বাস্তবায়নের মধ্যদিয়ে এলাকাটিতে পর্যটন স্পটের মতো পরিবেশের সৃষ্টি হবে। তবে এই প্রকল্পে কিছু গ্যাপ রয়েছে। জনচাহিদা পূরণে নির্মাণ পরিকল্পনায় কিছু সংশোধনী আনতে হবে। এতে ওভারপাস এবং আন্ডারপাসের গ্যাপ কমাতে হবে| তবেই সেতুটি বাস্তবায়ন হলে ময়মনসিংহ, শেরপুর, জামালপুর, নেত্রকোনা, কিশোরগঞ্জ, সুনামগঞ্জ এবং কুড়িগ্রামের মানুষ প্রকৃত সুফল ভোগ করবে
শনিবার (৪ জুলাই) বিকাল সাড়ে ৬টায় নগরীর কেওয়াটখালী, রঘুরামপুর, র্যালী মোড় এলাকাজুড়ে সেতু নির্মাণ কাজের বিভিন্ন স্পট পরিদর্শনকালে তিনি সাংবাদিকদের এসব কথা বলেন।
এ সময় নির্মাণ কাজের ধীরগতি নিয়ে উষ্মা প্রকাশ করে এমপি বলেন, নির্মাণ কাজে অনেকটাই ধীরগতি চলছে। তবে সব ধরনের সমস্য মোকাবেলা করেই তড়িগতিতে নির্মাণ কাজ শেষ করতে হবে| এক্ষেত্রে জমি অধিগ্রহন দ্রুত শেষ করে স্থাপনাগুলো অপসারণ করতে জেলা প্রশাসনের সঙ্গে আলোচনা করা হবে। আশার কথা হলো এই প্রকল্পটির নির্মাণ কাজ দ্রুত শেষ করতে ময়মনসিংহ বিভাগের প্রায় ৩০ জন সংসদ সদস্য ঐক্যমত পোষণ করেছেন।
পরিদর্শন দলে ময়মনসিংহ উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের চেয়ারম্যান মোতাহার হোসেন তালুকদার, মহানগর বিএনপির সদস্য ˆসয়দ শরীফ, বিএনপি নেতা জামাল উদ্দিন, মহানগর ছাত্রদলের সভাপতি গোবিন্দ রায়, ওলামা দল নেতা আমীর হামজাসহ স্থানীয় বিএনপি ও অঙ্গ সংগঠনের নেতৃবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন|।
এ সময় সেতু নির্মাণ পরিকল্পনায় কিছুটা গ্যাপ রয়েছে মন্তব্য করে মোতাহার হোসেন তালুকদার বলেন, সেতু নির্মাণ পরিকল্পনায় রঘুনাথপুর ও শম্ভুগঞ্জ মোড়ে জ্যাম কমানোর উদ্যোগ নিতে হবে| এজন্য শম্ভুগঞ্জ মোড়ে একটি ফ্লাইওভার হলে জনচাহিদার পূর্নাঙ্গ রূপ পাবে, লাঘব হবে জনদুর্ভোগ| এক্ষেত্রে প্রয়োজনীয় সংশোধনী আনতে হবে|।
এ সময় প্রকল্প ব্যবস্থাপক (পিডি) প্রকৌশলী দিদারুল আলম তরফদার পরিদর্শন দলের কাছে প্রকল্পের বিস্তারিত তুলে ধরে বলেন, সেতুর মূল দৈর্ঘ্য হবে ৩২০ মিটার| তবে মূল সেতু হবে ১১ শত মিটার। থাকবে ওভারপাস এবং আন্ডারপাস। তবে নগরীর জ্যাম কমাতে হলে আরও ২টি ওভারপাসের পরিকল্পনা রয়েছে। এক্ষেত্রে আমাদের আর্থিক সীমাবদ্ধতাও রয়েছে|।
এ সময় নির্মাণ কাজের ধীরগতি প্রসঙ্গে তিনি জানান, ভূমি অধিগ্রহন জটিলতার কারণে নির্মান কাজে কিছু ধীরগতি রয়েছে| তবে অধিগ্রহনকৃত ভূমির স্থাপনাগুলো সরিয়ে নিলে কাজের গতি বাড়বে| ২০২৩ সালের ডিসে¤^র থেকে শুরু হওয়া এই নির্মাণ কাজের মাত্র ২১ ভাগ অগ্রগতি হয়েছে| তবে ভূমি অধিগ্রহন নিয়ে এর অগ্রগতির পরিমান ৪৬ ভাগ| আমাদের চুক্তি অনুযায়ি এ বছরের ডিসে¤^রে কাজ শেষ হবার কথা রয়েছে। কিন্তু ভূমি অধিগ্রহন ও রাজনৈতিক অস্থিরতাসহ নানা কারণে বিগত সময়ে নির্মাণ কাজের প্রত্যশিত অগ্রগতি হয়নি| ফলে ১ হাজার ১০০ মিটার দীর্ঘ এ সেতু নির্মাণ কাজ শেষ হতে আরো কিছুটা সময় লাগবে।
জানা যায়, নকশা অনুযায়ি স্টিটল আর্চ সেতুর মূল ˆদর্ঘ্য ৩২০ মিটার এবং ৭৮০ মিটার অ্যাপ্রোচ সেতু নির্মাণ করা হবে। এছাড়া ৫৫১ মিটার সড়ক ওভারপাস ও ২৪০ মিটার রেলওয়ে ওভারপাস এবং ৬ দশমিক ২০ কিলোমিটার স্লো মুভিং ভেইকুলার ট্রাফিক লেনসহ চারলেন মহাসড়ক নির্মাণ করা হবে| এতে ৩ হাজার ২৬৩ কোটি টাকা বরাদ্দ থাকলেও ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে অধিগ্রহন ব্যতিত চুক্তি হয়ে ২ হাজার ১৩৭ কোটি টাকা।
প্রকল্প সংশ্লিষ্টরা জানান, ‘কেওয়াটখালী সেতু হবে বাংলাদেশের সর্বপ্রথম দৃষ্টিনন্দন স্টিল আর্চ সেতু। এটি নির্মাণ হলে ঢাকা ও ময়মনসিংহ বিভাগের জেলাগুলোর মাঝে যোগাযোগ ব্যবস্থার বৈপ্লবিক উন্নয়ন ঘটবে। এতে ময়মনসিংহ অঞ্চলে অবস্থিত স্থলবন্দর, ইপিজেড ও অর্থনৈতিক অঞ্চলের সঙ্গে রাজধানী ঢাকার যোগাযোগের পথ আরো সুগম হবে।’

স্টাফ রিপোর্টার 























