ইসরায়েলের বিরুদ্ধে ইরানের সাম্প্রতিক ক্ষেপণাস্ত্র হামলায় ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতির ঘটনা ঘটেছে। ১২ দিনের টানা সংঘাতের পর যুদ্ধবিরতি কার্যকর হলেও ইরানি হামলার প্রভাবে ক্ষতিগ্রস্ত ইসরায়েলিদের মধ্যে ক্ষোভ ও ক্ষতিপূরণ দাবির স্রোত বইছে। দেশটির বিভিন্ন অঞ্চলের প্রায় ৩৯ হাজার মানুষ ক্ষতিপূরণ চেয়ে আবেদন করেছেন।
তুরস্কভিত্তিক বার্তাসংস্থা আনাদোলুর এক প্রতিবেদনে জানা যায়, মঙ্গলবার ইসরায়েলি সংবাদমাধ্যম জানিয়েছে যে, সরকারের ট্যাক্স কর্তৃপক্ষের অধীন ক্ষতিপূরণ তহবিলে এখন পর্যন্ত ৩৮ হাজার ৭০০টিরও বেশি দাবি জমা পড়েছে।
সবচেয়ে বেশি ক্ষয়ক্ষতির দাবি এসেছে ভবন ধ্বংস বা ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার কারণে—সংখ্যা প্রায় ৩০ হাজার ৮০০টি। এছাড়া যানবাহনের ক্ষতির জন্য প্রায় ৩ হাজার ৭০০ এবং বিভিন্ন যন্ত্রপাতি ও সামগ্রী হারানোর কারণে ৪ হাজারের বেশি আবেদন জমা পড়েছে।
ইসরায়েলের জনপ্রিয় দৈনিক ইয়েদিয়থ আহারোনোথের বরাতে জানা যায়, ১৩ জুন সংঘাত শুরু হওয়ার পর সবচেয়ে বেশি ক্ষতিপূরণ আবেদন জমা পড়েছে রাজধানী তেল আবিব থেকে—প্রায় ২৪ হাজার ৯০০টি। এরপরে রয়েছে আশকেলন শহর, যেখান থেকে জমা পড়েছে ১০ হাজার ৭০০-এর বেশি দাবি।
তবে সরকারিভাবে এখনও এই বিপুল সংখ্যক দাবির আর্থিক মূল্যায়ন প্রকাশ করা হয়নি। অনুমান করা হচ্ছে, আরও বহু ভবন ও স্থাপনা ক্ষতিগ্রস্ত হলেও এখনো আবেদন জমা পড়েনি।
উল্লেখ্য, ইসরায়েল অভিযোগ করেছিল যে ইরান পারমাণবিক অস্ত্র তৈরির দ্বারপ্রান্তে রয়েছে। এর জেরে ১৩ জুন থেকে ইসরায়েল ইরানের সামরিক ও পারমাণবিক স্থাপনায় বিমান হামলা চালায়। জবাবে ইরানও ড্রোন ও ক্ষেপণাস্ত্র দিয়ে পাল্টা হামলা শুরু করে। সংঘাত এমন পর্যায়ে পৌঁছে যে যুক্তরাষ্ট্র পর্যন্ত হস্তক্ষেপ করে এবং তিনটি ইরানি পারমাণবিক স্থাপনায় হামলা চালায়।
পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে গত সোমবার গভীর রাতে যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প যুদ্ধবিরতির ঘোষণা দেন। এর মধ্য দিয়ে ইরান-ইসরায়েল দ্বন্দ্ব আপাতত থেমেছে।
























