আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে ভোট উৎসব হবে, বলে আশাবাদ ব্যক্ত করেছেন ময়মনসিংহ-২ (ফুলপুর-তারাকান্দা) আসনের ধানের শীষের প্রার্থী মোতাহার হোসেন তালুকদার। তিনি বলেন, বিগত ১৫ বছর মানুষ ভোট দিতে পারেনি। দীর্ঘ সময় ভোটাধিকার বঞ্চিত মানুষ ভোট দিতে মুখিয়ে আছে। গ্রামে বা পাড়া মহল্লায় যেখানেই যাচ্ছি, সবাই বলছে এবার ভোট দিতে যাব। এতে আমি আশাবাদি আগামী ১২ ফেব্রুয়ারি বাংলাদেশে সুষ্ঠ ও অবাধ, নিরপেক্ষ নির্বাচনে ভোট উৎসব হবে। সেখানে জনগণ তাদের পছন্দের প্রতিক ধানের শীষে ভোট দিয়ে রাষ্ট্র মেরামতে অংশগ্রহন করবে।
শনিবার (১৭ জানুয়ারি) তারাকান্দা উপজেলার রামপুর ইউনিয়নের সীমান্তলী বাজার এলাকায় সীমিত পরিসরে গণসংযোগকালে এই আশাবাদ ব্যক্ত করেন।
ময়মনসিংহ-২ (ফুলপুর-তারাকান্দা) আসনের ধানের শীষের প্রার্থী মোতাহার হোসেন তালুকদার উত্তর জেলা বিএনপির একমাত্র যুগ্ম আহবায়ক এবং তারাকান্দা উপজেলা পরিষদের সাবেক চেয়ারম্যান।
গণসংযোগকালে মোতাহার হোসেন তালুকদার আরও বলেন, বিএনপির দীর্ঘ আন্দোলন সংগ্রামের প্রধান দাবি ছিল একটি অবাধ ও নিরপেক্ষ নির্বাচন। আমরা বিশ্বাস করি বিএনপি যতবার নির্বাচনে গিয়েছে, ততবার জনগনের ভালোবাসা পেয়েছে। এবারও সারাদেশের ন্যায় ফুলপুর ও তারাকান্দা উপজেলার মানুষ ধানের শীষে ভোট দিবে। কারণ এই নির্বাচনে যারা প্রার্থীতা করছে, তারা বিগত ১৭ বছর জনগনের পাশে ছিল না। কিন্তু আমিসহ বিএনপির নেতাকর্মীরা জুলুম নির্যতন উপেক্ষা করে গুম, খুন ও আয়না ঘরের মুখোমুখি হয়েও জনগনের পাশে ছিলাম, রাজপথের আন্দোলন সংগ্রামে ছিলাম। এসব মূল্যায়ন করেই দল আমাকে মনোনয়ন দিয়েছে, আশা করছি আগামী ১২ ফেব্রুয়ারি এ অঞ্চলের জনগণ এলাকার উন্নয়নের স্বার্থে ধানের শীষে ভোট দিয়ে বিএনপিকে সরকার গঠনের সুযোগ দিবে।
বিগত ফ্যাসিস্ট সরকারের লাগামহীন লুটপাটে দেশের অর্থনীতিতে ভঙ্গুর অবস্থা বিরাজ করছে জানিয়ে এই প্রার্থী আরও বলেন, বর্তমানে দেশের অর্থনীতিতে ভঙ্গুর অবস্থা বিরাজ করছে। সারাদেশে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির চরম অবনতি। বিচারহীনতা সর্বত্রই ছড়িয়ে পড়েছে। তবে বর্তমান অন্তবর্তী সরকার দেশের আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির উন্নয়নে কাজ করছে। কিন্তু আমি মনে করি- দেশের আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক হওয়ার ক্ষেত্রে একটি নির্বাচিত গণতান্ত্রিক সরকার এখন অপরিহার্য। আসন্ন নির্বাচনে আমাদেও নেতা তারেক রহমানের নেতৃত্বে দেশ একটি পূনাঙ্গ গণতান্ত্রিক সরকার পাবে বলে আমরা আশাবাদি।
এ সময় আরও উপস্থিত ছিলেন জেলা উত্তর স্বেচ্ছাসেবক দলের আহবায়ক সাইফুল ইসলাম কামাল, ইউনিয়ন বিএনপির সদস্য সচিব শহীদ মুন্সি, বিএনপি নেতা এরশাদ মন্ডলসহ বিএনপি ও অঙ্গ সংগঠনের বিভিন্ন পর্যায়ের নেতৃবৃন্দ।
প্রসঙ্গত, এবারের নির্বাচনে ময়মনসিংহ-২ (ফুলপুর-তারাকান্দা) আসনের ধানের শীষের প্রার্থী মোতাহার হোসেন তালুকদার। তার সঙ্গে এ আসনে ১০ দলীয় জোট থেকে প্রতিদ্বন্দ্বীতা করছেন বাংলাদেশ খেলাফত মজলিসের প্রার্থী মুফতি মুহাম্মাদুল্লাহ হুমাইদী। এছাড়াও আসনটিতে বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনে হামলার মামলায় কারাগারে বন্দি থেকে স্বতন্ত্র প্রার্থীতা করছেন বিএনপি থেকে বহিস্কৃত সাবেক এমপি শাহ শহীদ সারোয়ার।
স্থানীয় বিএনপির নেতাকর্মীদের অভিযোগ, রাজনীতির মাঠে শাহ শহীদ সারোয়ার পল্টিবাজ হিসাবে সমাধিক পরিচিত। জাতীয় পার্টি থেকে বিএনপিতে এসে এমপি নির্বাচিত হয়ে বিগত ফ্যাসিস্ট সরকারের সময়ে একটি গোয়েন্দা সংস্থার যোগসাজসে আওয়ামী লীগের ঢামি প্রার্থী হিসাবে নির্বাচন করেছিল। এ কারণে তিনি বিএনপি থেকে বহিস্কার হয়েছেন। কিন্তু এবারও তিনি পরিকল্পিতভাবে ভোটে মাঠে বিশৃঙ্খলা করার জন্য অপর একটি দলের যোগসাজসে ডামি প্রার্থী হয়েছেন।
তবে এ অভিযোগ বিষয়ে জানতে চেষ্টটা করেও কারাগারে বন্দি থাকার কারণে শাহ শহীদ সারোয়ারের বক্তব্য জানা সম্ভব হয়নি।
সূত্র জানায়, এ আসনে ১৯৭০, ১৯৭৩, ১৯৮৬, ১৯৯১ ও ১৯৯৬ সালের নির্বাচনে এই আসনে আওয়ামী লীগ থেকে এমপি নির্বাচিত হন বঙ্গবন্ধুর ঘনিষ্ট সহচর একুশে পদকপ্রাপ্ত (মরনোত্তর) ভাষা সংগ্রামী এম শামছুল হক। ১৯৭৯ সালের নির্বাচনে মুসলীম লীগের প্রার্থী এ্যাডভোকেট ইসমাইল হোসেন তালুকদার, ১৯৮৮ সালের নির্বাচনে জাতীয় পার্টির প্রার্থী রজব আলী ফকির, ১৯৯৬ সালের ১৫ ফেব্রুয়ারির নির্বাচনে বিএনপি এ্যাডভোকেট আবুল বাশার আকন্দ, ২০০১ সালের নির্বাচনে প্রয়াত রজব আলী ফকিরের পুত্র বিএনপির প্রার্থী শাহ শহীদ সারোয়ার, ২০০৮ সালের নির্বাচনে আওয়ামী লীগের হায়াতুর রহমান খান বেলাল এবং গত ২০১৪, ২০১৮ ও ২০২৪ সালের নির্বাচনে আওয়ামী লীগ থেকে এমপি নির্বাচিত হন প্রয়াত এম. শামছুল হকের পুত্র সাবেক গণপুর্ত মন্ত্রী শরীফ আহমেদ।
এবারের নির্বাচনে ময়মনসিংহ-২ (ফুলপুর-তারাকান্দা) আসনে মোট ভোটার সংখ্যা ৫ লাখ ৭৬ হাজার ১৬৭টি। এর মধ্যে ফুলপুর উপজেলায় ভোটার সংখ্যা ২ লাখ ৯৮ হাজার ৫৯০টি এবং তারাকান্দা উপজেলায় ভোটার সংখ্যা ২ লাখ ৭৭ হাজার ৫৭৭ টি।
স্টাফ রিপোর্টার 




















