নেত্রকোণার কেন্দুয়া পৌরসভার বাদে আঠারবাড়ী এলাকার বাসিন্দা মোছা. জেসমিন আক্তার তার দুই এতিম কন্যার ন্যায্য অধিকার ও স্বামীর বিক্রি করা পৈতৃক সম্পদের বকেয়া টাকা আদায়ের দাবিতে সংবাদ সম্মেলন করেছেন।
শনিবার (৬ জুন) বিকালের দিকে কেন্দুয়া প্রেসক্লাব অডোটোরিয়ামে সংবাদ সম্মেলনে লিখিত বক্তব্যে তিনি জানান, তার শ্বশুর মরহুম আব্দুল গনি, সাবেক ইউপি সদস্য, প্রায় ছয় বছর আগে মারা যান। মৃত্যুকালে তিনি এক ছেলে, চার মেয়ে ও স্ত্রী রেখে যান। এছাড়া বসতভিটা এবং কেন্দুয়া বাজারের খাদ্য গুদামের উত্তর পাশে দোকানসহ একতলা ভবন রেখে যান।
জেসমিন আক্তারের দাবি, পারিবারিক কলহের কারণে তিনি স্বামী ও সন্তানদের নিয়ে বাবার বাড়িতে বসবাস শুরু করেন। পরে তার স্বামী জুয়েল মিয়া গ্রামের গণ্যমান্য ব্যক্তিদের উপস্থিতিতে পৈতৃক বসতভিটার ৭.৫৯ শতাংশ জমি চার বোনের কাছে ৪০ লাখ টাকায় বিক্রি করেন। এর মধ্যে ১৫ লাখ টাকা নগদ এবং ১২ লাখ ৫০ হাজার টাকা মূল্যের একটি আবাদি জমি রেজিস্ট্রির মাধ্যমে প্রদান করা হয়। বাকি ১২ লাখ ৫০ হাজার টাকা দুই মাসের মধ্যে পরিশোধের প্রতিশ্রুতি দেওয়া হয়েছিল বলে তিনি উল্লেখ করেন।
তিনি আরও বলেন, চুক্তির কিছুদিন পর তার স্বামী মারা যান। এরপর থেকে তিনি ও তার দুই কন্যা বকেয়া টাকা আদায়ের চেষ্টা চালিয়ে আসলেও অভিযুক্তরা নানা অজুহাতে সময়ক্ষেপণ করছেন। এমনকি তার স্বামীর রেখে যাওয়া দোকানঘরের ভাড়াও জোরপূর্বক নিয়ে নেওয়া হচ্ছে বলে অভিযোগ করেন তিনি।
জেসমিন আক্তার বলেন, বিষয়টি নিয়ে একাধিকবার স্থানীয়ভাবে সালিশ বৈঠক অনুষ্ঠিত হয় এবং সালিশে তাদের পাওনা টাকা পরিশোধের সিদ্ধান্ত হলেও তা বাস্তবায়ন হয়নি। বরং তাদের ওপর বিভিন্ন ধরনের মানসিক নির্যাতন ও চাপ সৃষ্টি করা হচ্ছে বলে অভিযোগ করেন তিনি।
সংবাদ সম্মেলনে তিনি তার দুই এতিম কন্যার ভবিষ্যৎ ও ন্যায্য অধিকার বিবেচনায় বকেয়া পাওনা আদায় এবং প্রয়োজনীয় আইনগত সহায়তা প্রদানের জন্য প্রশাসন ও সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের হস্তক্ষেপ কামনা করেন।
তবে এ বিষয়ে অভিযুক্ত পক্ষের বক্তব্য পাওয়া যায়নি।
কেন্দুয়া প্রতিনিধি 




















