বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী বলেছেন, ফ্যাসিস্ট আওয়ামী দুঃশাসনের বিরুদ্ধে জাতীয়তাবাদী ছাত্রদলের দীর্ঘ ১৭ বছরের ধারাবাহিক আন্দোলনের সর্বোচ্চ বহিঃপ্রকাশ ঘটেছে জুলাই-আগস্টের গণঅভ্যুত্থানে। তিনি বলেন, জুলাইয়ের শহীদদের আত্মত্যাগ দেশের মানুষকে অন্যায়, স্বৈরাচার ও ফ্যাসিবাদের বিরুদ্ধে লড়াইয়ের প্রেরণা জোগাবে।
বুধবার (১ জুলাই) প্রথম প্রহরে কেন্দ্রীয় শহীদ মিনারে জুলাই-আগস্টের গণঅভ্যুত্থানের দ্বিতীয় বর্ষপূর্তি উপলক্ষে ছাত্রদল আয়োজিত ‘আলোয় স্মৃতি সমুজ্জ্বল’ শীর্ষক মোমবাতি প্রজ্বালন অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।
রিজভী বলেন, ‘এই আলো শুধু অন্ধকার দূর করার জন্য নয়, এটি আমাদের প্রেরণার প্রতীক। জুলাইয়ের স্মৃতি আমাদের আলোকিত করবে এবং অন্যায়ের বিরুদ্ধে নতুন সংগ্রামের শক্তি জোগাবে।’
তিনি আরও বলেন, ‘জাতীয়তাবাদী ছাত্রদল শুভ সময়ে জন্ম নেয়নি। দীর্ঘ ১৭ বছর ধরে দমন-পীড়ন, নির্যাতন ও সংগ্রামের মধ্য দিয়ে পথ চলেছে। জুলাই গণঅভ্যুত্থান সেই দীর্ঘ আন্দোলনেরই শ্রেষ্ঠ প্রকাশ।’
শহীদদের স্মরণ করে রিজভী বলেন, তাদের আত্মত্যাগ কেবল একটি দিন বা মাসের জন্য নয়, বরং প্রতিদিন জাতিকে গণতন্ত্র ও স্বাধীনতার চেতনায় উজ্জীবিত করবে। ভবিষ্যতে যেন কোনো স্বৈরাচারী শক্তি মাথাচাড়া দিয়ে উঠতে না পারে, সে জন্য সবাইকে সজাগ থাকার আহ্বান জানান তিনি।
আওয়ামী লীগ সরকারের সমালোচনা করে রিজভী বলেন, ফ্যাসিবাদ পরাজিত হলেও এর অবশিষ্ট প্রভাব এখনো সমাজের বিভিন্ন স্তরে রয়েছে। তাই ছাত্রসমাজকে সবসময় সতর্ক থাকতে হবে।
অনুষ্ঠানে ছাত্রদলের কেন্দ্রীয় সভাপতি রাকিবুল ইসলাম রাকিব বলেন, গণঅভ্যুত্থানে শহীদ হওয়া ছাত্র-জনতা এবং ছাত্রদলের ১৪২ জন নেতাকর্মী ও সমর্থকের স্মরণে এ কর্মসূচির আয়োজন করা হয়েছে। প্রতিবছরই এ কর্মসূচি অব্যাহত থাকবে বলেও জানান তিনি।
ছাত্রদলের সাংগঠনিক সম্পাদক আমান উল্লাহ আমান বলেন, গণঅভ্যুত্থানে জাতীয়তাবাদী ছাত্রদল সবচেয়ে বেশি ত্যাগ স্বীকার করেছে। তিনি বলেন, দেশের স্বার্থে ছাত্রদল কখনো আপস করেনি এবং ভবিষ্যতেও করবে না।
গভীর রাত পর্যন্ত চলা মোমবাতি প্রজ্বালন কর্মসূচিতে ছাত্রদলের কেন্দ্রীয় নেতাকর্মীরা অংশ নেন। অনুষ্ঠানে জুলাই-আগস্টের গণঅভ্যুত্থানে শহীদ ও আহতদের প্রতি গভীর শ্রদ্ধা জানানো হয়।

স্টাফ রিপোর্টার 














