০১:৫৬ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ২৪ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ৯ আশ্বিন ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

ময়মনসিংহে সরকারের অগ্রাধিকার কর্মসূচি নিয়ে তথ্য অফিসের প্রচার

 

বর্তমান সরকারের নির্বাচনি ইশতেহার বাস্তবায়নে প্রবর্তিত কৃষক কার্ড, কৃষিঋণ মওকুফ, ফ্যামিলি কার্ড, খাল খনন ও পুণর্খনন, নারীর জন্য গাড়ি এবং বৃক্ষরোপণ কর্মসূচির জনমুখী সুবিধাদি সাংবাদিকদের কাছে তুলে ধরে প্রেস ব্রিফিং করেছে ময়মনসিংহ জেলা তথ্য অফিস।

 

মঙ্গলবার বিকেলে ময়মনসিংহ প্রেসক্লাব সম্মেলন কক্ষে গণযোগাযোগ অধিদপ্তরের অধীন জেলা তথ্য অফিসের পরিচালক মীর আকরাম উদ্দীন আহম্মদ সরকারের এ অগ্রাধিকার কর্মসূচিগুলো সম্পর্কে বিস্তারিত বর্ণনাকালে বলেন, সাংবাদিকরা এই নতুন ধারার কর্মসূচিগুলোর উপকারিতার তথ্য সকলের মাঝে ছড়িয়ে দিলে আরো বেশি মানুষ জানবে, উপকার পাবে।

 

তথ্য অধিদফতরের আঞ্চলিক তথ্য অফিসের উপপ্রধান তথ্য অফিসার মো: মাসুদ মিয়া, জেলা তথ্য অফিসের সহকারী পরিচালক আফসানা ফেরদৌস মিষ্টি ব্রিফিং-এ অংশ নেন। ময়মনসিংহ প্রেসক্লাবের সাধারণ সম্পাদক এম এ কাইয়ূমসহ জেলার প্রিন্ট ও ইলেক্ট্রনিক গণমাধ্যমের প্রতিনিধিবর্গ এ সময় উপস্থিত ছিলেন। সাংবাদিকবৃন্দ কর্মসূচিগুলোর ওপর প্রামাণ্যচিত্র প্রদর্শনী ও ব্রিফিং শেষে স্বত:স্ফূর্ত প্রশ্ন-উত্তর পর্বে অংশ নেন ও তথ্য অফিসের কাজের পরিধি বৃদ্ধিকল্পে পরামর্শ দেন।

 

জেলা তথ্য অফিসের ব্রিফিং-এ জানানো হয়-কৃষক কার্ডের মাধ্যমে কৃষকেরা মূলত ১০টি প্রধান সুবিধা ভোগ করেন। এর মধ্যে রয়েছে, সরকারি ভর্তুকি ও প্রণোদনা, সহজে কৃষি উপকরণ প্রাপ্তি, ভর্তুকি মূল্যে সেচ সুবিধা, সহজ শর্তে ও স্বল্প সুদে কৃষিঋণ প্রাপ্তি, স্বল্প মূল্যে আধুনিক কৃষি যন্ত্রপাতি কেনা ও ব্যবহারের সুযোগ, কৃষি বীমা ও পণ্য বিক্রয়, প্রশিক্ষণ ও পরামর্শ, আবহাওয়ার পূর্বাভাস ও বাজার তথ্য, পরিচয়ের স্বীকৃতি এবং স্বচ্ছতা ও দুর্নীতি হ্রাস।

 

কৃষি ঋণ মওকুফ বিষয়ে বলা হয়, সরকার শস্য, ফসল, মৎস্য ও পশুপালন খাতে ১০ হাজার টাকা পর্যন্ত মূল ঋণের পাশাপাশি তার ওপর অর্জিত সব ধরনের সুদ মওকুফ করার সিদ্ধান্ত গ্রহণ করেছে। এই সুবিধার আওতায় দেশের প্রায় ১২ লাখ ক্ষুদ্র ও প্রান্তিক কৃষক সরাসরি উপকৃত হচ্ছেন।

 

ফ্যামিলি কার্ড বর্তমান সরকারের একটি ডিজিটাল সামাজিক নিরাপত্তা কর্মসূচি উল্লেখ করে বলা হয়- এর মাধ্যমে দেশের প্রান্তিক ও নিম্নআয়ের পরিবারগুলোকে প্রতি মাসে সরাসরি নগদ আর্থিক সহায়তা এবং টিসিবির মাধ্যমে সাশ্রয়ী মূল্যে নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্য প্রদান করা হচ্ছে।

 

পরিচালক মীর আকরাম খাল খনন ও পুনর্খনন পরিবেশ ও কৃষিনির্ভর অর্থনীতিতে বহুমুখী উপকারিতা নিয়ে আসে উল্লেখ করে জানান, এটি শুষ্ক মৌসুমে সেচ সুবিধা নিশ্চিত করে কৃষি উৎপাদন বাড়ায়, বর্ষায় জলাবদ্ধতা ও বন্যা নিয়ন্ত্রণ করে, ভূগর্ভস্থ পানির স্তর সমৃদ্ধ করে এবং স্থানীয় পর্যায়ে মাছ চাষ ও জীববৈচিত্র্য সংরক্ষণে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে।

 

ব্রিফিং-এ বলা হয়, মানুষ ও প্রাণিকুলের অস্তিত্ব, বিশুদ্ধ পরিবেশ এবং প্রাকৃতিক ভারসাম্য রক্ষায় বৃক্ষরোপণের গুরুত্ব অপরিসীম। গাছ আমাদের অক্সিজেন দেয়, ক্ষতিকর কার্বন ডাই-অক্সাইড শোষণ করে এবং জীবনধারণের জন্য প্রয়োজনীয় খাদ্য, কাঠ ও ওষুধ সরবরাহ করে। এছাড়া, ভূমিক্ষয় রোধ ও দুর্যোগ মোকাবিলাসহ নানাবিধ উপকার রয়েছে এ কর্মসূচির।

 

নারীর জন্য গাড়ি সম্পর্কে আলোকপাত করে পরিচালক জানান, সরকার নারীদের নিরাপদ ও স্বাচ্ছন্দ্যময় যাতায়াত নিশ্চিত করতে সম্পূর্ণ নারী পরিচালিত ও নিয়ন্ত্রিত ‘পিংক বাস সার্ভিস’ (ইলেকট্রিক বাস) চালুর উদ্যোগ নিয়েছে। প্রস্তাবিত বাজেটে এই উদ্যোগের কথা জানানো হয়, যেখানে বাস চালক, হেল্পার ও সুপারভাইজার—সবাই হবেন নারী। নারীদের নিরাপদ যাতায়াত ও গাড়ি চালনায় কর্মসংস্থানের সুযোগ তৈরিতে সরকার এ উদ্যোগ গ্রহণ করেছে।

 

Share this news as a Photo Card

ট্যাগ :
অধিক পঠিত

নান্দাইলে ইয়াবাসহ মাদক ব্যবসায়ী গ্রেফতার

ময়মনসিংহ রেঞ্জের শ্রেষ্ঠ এএসআই ঈশ্বরগঞ্জের শাহ আলম

21 September 2026
« « « বিস্তারিত কমেন্টে » » »
www.dailybexpress.com

ময়মনসিংহে সরকারের অগ্রাধিকার কর্মসূচি নিয়ে তথ্য অফিসের প্রচার

পোষ্টের সময় : ০৮:০৭:৫৫ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ৩০ জুন ২০২৬

 

বর্তমান সরকারের নির্বাচনি ইশতেহার বাস্তবায়নে প্রবর্তিত কৃষক কার্ড, কৃষিঋণ মওকুফ, ফ্যামিলি কার্ড, খাল খনন ও পুণর্খনন, নারীর জন্য গাড়ি এবং বৃক্ষরোপণ কর্মসূচির জনমুখী সুবিধাদি সাংবাদিকদের কাছে তুলে ধরে প্রেস ব্রিফিং করেছে ময়মনসিংহ জেলা তথ্য অফিস।

 

মঙ্গলবার বিকেলে ময়মনসিংহ প্রেসক্লাব সম্মেলন কক্ষে গণযোগাযোগ অধিদপ্তরের অধীন জেলা তথ্য অফিসের পরিচালক মীর আকরাম উদ্দীন আহম্মদ সরকারের এ অগ্রাধিকার কর্মসূচিগুলো সম্পর্কে বিস্তারিত বর্ণনাকালে বলেন, সাংবাদিকরা এই নতুন ধারার কর্মসূচিগুলোর উপকারিতার তথ্য সকলের মাঝে ছড়িয়ে দিলে আরো বেশি মানুষ জানবে, উপকার পাবে।

 

তথ্য অধিদফতরের আঞ্চলিক তথ্য অফিসের উপপ্রধান তথ্য অফিসার মো: মাসুদ মিয়া, জেলা তথ্য অফিসের সহকারী পরিচালক আফসানা ফেরদৌস মিষ্টি ব্রিফিং-এ অংশ নেন। ময়মনসিংহ প্রেসক্লাবের সাধারণ সম্পাদক এম এ কাইয়ূমসহ জেলার প্রিন্ট ও ইলেক্ট্রনিক গণমাধ্যমের প্রতিনিধিবর্গ এ সময় উপস্থিত ছিলেন। সাংবাদিকবৃন্দ কর্মসূচিগুলোর ওপর প্রামাণ্যচিত্র প্রদর্শনী ও ব্রিফিং শেষে স্বত:স্ফূর্ত প্রশ্ন-উত্তর পর্বে অংশ নেন ও তথ্য অফিসের কাজের পরিধি বৃদ্ধিকল্পে পরামর্শ দেন।

 

জেলা তথ্য অফিসের ব্রিফিং-এ জানানো হয়-কৃষক কার্ডের মাধ্যমে কৃষকেরা মূলত ১০টি প্রধান সুবিধা ভোগ করেন। এর মধ্যে রয়েছে, সরকারি ভর্তুকি ও প্রণোদনা, সহজে কৃষি উপকরণ প্রাপ্তি, ভর্তুকি মূল্যে সেচ সুবিধা, সহজ শর্তে ও স্বল্প সুদে কৃষিঋণ প্রাপ্তি, স্বল্প মূল্যে আধুনিক কৃষি যন্ত্রপাতি কেনা ও ব্যবহারের সুযোগ, কৃষি বীমা ও পণ্য বিক্রয়, প্রশিক্ষণ ও পরামর্শ, আবহাওয়ার পূর্বাভাস ও বাজার তথ্য, পরিচয়ের স্বীকৃতি এবং স্বচ্ছতা ও দুর্নীতি হ্রাস।

 

কৃষি ঋণ মওকুফ বিষয়ে বলা হয়, সরকার শস্য, ফসল, মৎস্য ও পশুপালন খাতে ১০ হাজার টাকা পর্যন্ত মূল ঋণের পাশাপাশি তার ওপর অর্জিত সব ধরনের সুদ মওকুফ করার সিদ্ধান্ত গ্রহণ করেছে। এই সুবিধার আওতায় দেশের প্রায় ১২ লাখ ক্ষুদ্র ও প্রান্তিক কৃষক সরাসরি উপকৃত হচ্ছেন।

 

ফ্যামিলি কার্ড বর্তমান সরকারের একটি ডিজিটাল সামাজিক নিরাপত্তা কর্মসূচি উল্লেখ করে বলা হয়- এর মাধ্যমে দেশের প্রান্তিক ও নিম্নআয়ের পরিবারগুলোকে প্রতি মাসে সরাসরি নগদ আর্থিক সহায়তা এবং টিসিবির মাধ্যমে সাশ্রয়ী মূল্যে নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্য প্রদান করা হচ্ছে।

 

পরিচালক মীর আকরাম খাল খনন ও পুনর্খনন পরিবেশ ও কৃষিনির্ভর অর্থনীতিতে বহুমুখী উপকারিতা নিয়ে আসে উল্লেখ করে জানান, এটি শুষ্ক মৌসুমে সেচ সুবিধা নিশ্চিত করে কৃষি উৎপাদন বাড়ায়, বর্ষায় জলাবদ্ধতা ও বন্যা নিয়ন্ত্রণ করে, ভূগর্ভস্থ পানির স্তর সমৃদ্ধ করে এবং স্থানীয় পর্যায়ে মাছ চাষ ও জীববৈচিত্র্য সংরক্ষণে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে।

 

ব্রিফিং-এ বলা হয়, মানুষ ও প্রাণিকুলের অস্তিত্ব, বিশুদ্ধ পরিবেশ এবং প্রাকৃতিক ভারসাম্য রক্ষায় বৃক্ষরোপণের গুরুত্ব অপরিসীম। গাছ আমাদের অক্সিজেন দেয়, ক্ষতিকর কার্বন ডাই-অক্সাইড শোষণ করে এবং জীবনধারণের জন্য প্রয়োজনীয় খাদ্য, কাঠ ও ওষুধ সরবরাহ করে। এছাড়া, ভূমিক্ষয় রোধ ও দুর্যোগ মোকাবিলাসহ নানাবিধ উপকার রয়েছে এ কর্মসূচির।

 

নারীর জন্য গাড়ি সম্পর্কে আলোকপাত করে পরিচালক জানান, সরকার নারীদের নিরাপদ ও স্বাচ্ছন্দ্যময় যাতায়াত নিশ্চিত করতে সম্পূর্ণ নারী পরিচালিত ও নিয়ন্ত্রিত ‘পিংক বাস সার্ভিস’ (ইলেকট্রিক বাস) চালুর উদ্যোগ নিয়েছে। প্রস্তাবিত বাজেটে এই উদ্যোগের কথা জানানো হয়, যেখানে বাস চালক, হেল্পার ও সুপারভাইজার—সবাই হবেন নারী। নারীদের নিরাপদ যাতায়াত ও গাড়ি চালনায় কর্মসংস্থানের সুযোগ তৈরিতে সরকার এ উদ্যোগ গ্রহণ করেছে।

 

Share this news as a Photo Card