নাইজেরিয়ার উত্তর-পূর্বাঞ্চলের বোরনো রাজ্যের লাসা শহরের একটি মাধ্যমিক বিদ্যালয়ে সশস্ত্র হামলার পর অন্তত ৩৭ শিক্ষার্থী ও একজন শিক্ষক নিখোঁজ রয়েছেন। সোমবার (৩০ জুন) পরীক্ষা চলাকালে এ হামলা চালানো হয় বলে জানিয়েছে দেশটির কর্তৃপক্ষ।
কর্তৃপক্ষের তথ্যমতে, হামলাটি চালিয়েছে ইসলামিক স্টেট ওয়েস্ট আফ্রিকা প্রভিন্স (আইএসডব্লিউএপি)-এর সদস্যরা। এ ঘটনায় এক সেনাসদস্য ও এক শিক্ষকসহ অন্তত তিনজন নিহত হয়েছেন।
সেনাবাহিনী জানিয়েছে, অভিযান চালিয়ে ১০ জনকে উদ্ধার করা হয়েছে। পরে বোরনো রাজ্যের শিক্ষামন্ত্রী লাওয়ান আব্বা ওয়াকিলবে জানান, এখনও ২৫ জন ছাত্রী, ১১ জন ছাত্র এবং একজন শিক্ষক সশস্ত্র গোষ্ঠীর হাতে আটক রয়েছেন। তবে স্কুলের উপাধ্যক্ষসহ আটজনকে মুক্তি দেওয়া হয়েছে।
স্থানীয় সরকার কাউন্সিলর ইজাগলা ইজাবিলা নিখোঁজ শিক্ষার্থীদের একটি তালিকা সাংবাদিকদের কাছে হস্তান্তর করেছেন। একটি গোয়েন্দা সূত্রও তালিকাটির সত্যতা নিশ্চিত করেছে।
আল জাজিরার প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, মুক্তিপণের জন্য শিক্ষার্থী অপহরণ নাইজেরিয়ার সংঘাতপ্রবণ উত্তর ও মধ্যাঞ্চলে সশস্ত্র গোষ্ঠীগুলোর একটি সাধারণ কৌশলে পরিণত হয়েছে।
২০১৪ সালে বোকো হারাম চিবোক শহর থেকে শত শত স্কুলছাত্রীকে অপহরণ করে বিশ্বজুড়ে আলোড়ন সৃষ্টি করেছিল। এরপরও দেশটিতে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান থেকে অপহরণের ঘটনা অব্যাহত রয়েছে।
গত মে মাসে বোরনো রাজ্যের মুসা গ্রাম থেকে ৪০ জনের বেশি শিক্ষার্থী অপহৃত হয়, যাদের এখনও মুক্তি দেওয়া হয়নি। একই মাসে ওয়ো রাজ্যের তিনটি স্কুল থেকেও কয়েক ডজন শিক্ষার্থীকে অপহরণ করা হয়।
২০০৯ সাল থেকে সশস্ত্র বিদ্রোহ মোকাবিলা করছে নাইজেরিয়া। গত এক দশকে সহিংসতা কিছুটা কমলেও গত বছর থেকে দেশটিতে আবারও হামলার সংখ্যা বাড়তে শুরু করেছে।

আন্তর্জাতিক ডেস্ক 















