বিশ্বের সবচেয়ে মর্যাদাপূর্ণ আন্তর্জাতিক স্বীকৃতিগুলোর একটি হচ্ছে নোবেল শান্তি পুরস্কার। সম্প্রতি ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেঞ্জামিন নেতানিয়াহু যুক্তরাষ্ট্রের সাবেক প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পকে এ পুরস্কারের জন্য মনোনয়ন দেওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন। এতে প্রশ্ন উঠেছে—নোবেল শান্তির এই গৌরবময় স্বীকৃতি কি এবার ট্রাম্পের হাতেই উঠতে পারে?
যদি ট্রাম্প বিজয়ী হন, তবে তিনিই হবেন যুক্তরাষ্ট্রের পঞ্চম প্রেসিডেন্ট যিনি শান্তিতে নোবেল পেয়েছেন—এর আগে এ সম্মান পেয়েছেন থিওডোর রুজভেল্ট, উড্রো উইলসন, জিমি কার্টার এবং বারাক ওবামা।
নোবেল শান্তি পুরস্কার কীভাবে দেওয়া হয়?
১৮৯৫ সালে আলফ্রেড নোবেল তার অধিকাংশ সম্পদ (৯৪%) উইলের মাধ্যমে এই পুরস্কার প্রবর্তনের জন্য রেখে যান। তার নির্দেশনা অনুযায়ী, শান্তি, পদার্থবিজ্ঞান, রসায়ন, চিকিৎসাবিজ্ঞান ও সাহিত্যে নোবেল পুরস্কার চালু হয়। পরে ১৯৬৮ সালে অর্থনীতিকে অন্তর্ভুক্ত করা হয়।
শান্তি পুরস্কারটি পরিচালনা করে নরওয়েজিয়ান নোবেল কমিটি, যা নরওয়ের সংসদ কর্তৃক নিযুক্ত পাঁচ সদস্যবিশিষ্ট একটি সংস্থা। সাধারণত রাজনীতিতে অভিজ্ঞ, অবসরপ্রাপ্ত ব্যক্তি এতে নিযুক্ত হন। মনোনয়নের শেষ তারিখ ৩১ জানুয়ারি। সেই হিসাবে নেতানিয়াহুর সাম্প্রতিক মনোনয়নের সুপারিশটি আগামী বছরের জন্য বিবেচনায় আসবে।
কে মনোনয়ন দিতে পারেন?
বিশ্বের যেকোনো দেশের সংসদ সদস্য, সরকারপ্রধান, রাষ্ট্রপতি, বিশ্ববিদ্যালয়ের নির্দিষ্ট বিষয়ের অধ্যাপক এবং পূর্ববর্তী নোবেল শান্তি পুরস্কারজয়ীরা মনোনয়ন দিতে পারেন। তবে কেউ নিজেকে মনোনয়ন দিতে পারেন না।
নির্বাচনের প্রক্রিয়া কী?
মনোনয়ন পর্ব শেষ হওয়ার পর ফেব্রুয়ারিতে কমিটির সদস্যরা একটি প্রাথমিক তালিকা তৈরি করেন। এরপর বিশেষজ্ঞদের সহায়তায় মনোনীতদের কর্মকাণ্ড মূল্যায়ন করা হয়। চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত আসে সদস্যদের সর্বসম্মতি কিংবা সংখ্যাগরিষ্ঠ মতের ভিত্তিতে। পুরস্কারপ্রাপ্তদের নাম ঘোষণা করা হয় অক্টোবরের প্রথম সপ্তাহে এবং আনুষ্ঠানিকভাবে পুরস্কার প্রদান করা হয় ১০ ডিসেম্বর, আলফ্রেড নোবেলের মৃত্যুদিনে।
নোবেল শান্তি পুরস্কার নিয়ে বিতর্ক
এ পুরস্কার নিয়ে রাজনৈতিক বিতর্ক নতুন নয়। যেমন, প্রেসিডেন্ট ওবামা দায়িত্ব নেওয়ার কয়েক মাসের মধ্যেই ২০০৯ সালে পুরস্কার পেলে তা নিয়ে ব্যাপক সমালোচনা হয়। এমনকি ১৯৭৩ সালে হেনরি কিসিঞ্জার ও লে ডুক থোকে সম্মানিত করায় নোবেল কমিটির দুই সদস্য পদত্যাগ করেছিলেন। ১৯৯৪ সালে ইয়াসির আরাফাত, শিমন পেরেস ও ইতজাক রবিনকে সম্মাননা দেওয়ার পরেও একই ঘটনা ঘটে।
বিজয়ীরা কী পান?
পুরস্কার হিসেবে দেওয়া হয় একটি পদক, একটি সম্মাননা ডিপ্লোমা এবং ১ কোটি ১০ লাখ সুইডিশ ক্রোনার (প্রায় ১.১৫ মিলিয়ন ডলার)। তবে আর্থিক পুরস্কারের চেয়েও গুরুত্বপূর্ণ হলো বৈশ্বিক মর্যাদা ও স্বীকৃতি।
১৯০১ থেকে ২০২৪ সাল পর্যন্ত মোট ১১৪ বার এই পুরস্কার দেওয়া হয়েছে। এর মধ্যে ১১১ জন ব্যক্তি ও ৩০টি প্রতিষ্ঠান সম্মান পেয়েছে। সবচেয়ে বেশি তিনবার পুরস্কার পেয়েছে রেড ক্রস। জাতিসংঘের শরণার্থী বিষয়ক সংস্থা পেয়েছে দুইবার। বাংলাদেশের পক্ষ থেকে ২০০৬ সালে ড. মুহাম্মদ ইউনূস ও গ্রামীণ ব্যাংক যৌথভাবে শান্তি পুরস্কার অর্জন করেন।
তাহলে ট্রাম্পের সম্ভাবনা কতটা?
যেহেতু মনোনয়নের সময়সীমা ইতিমধ্যে পেরিয়ে গেছে, তাই ২০২৫ সালের শান্তি পুরস্কারের তালিকায় ট্রাম্প নেই। তবে তার মনোনয়ন বিবেচনা হতে পারে ২০২৬ সালে। শান্তির জন্য তার কার্যক্রম যদি কমিটিকে সন্তুষ্ট করে, তাহলে আগামী বছর পুরস্কার পাওয়ার সম্ভাবনা উড়িয়ে দেওয়া যায় না।
সূত্র: রয়টার্স
























