০৮:২৭ পূর্বাহ্ন, বুধবার, ১৯ অগাস্ট ২০২৬, ৪ ভাদ্র ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

ড্রামে খণ্ডিত দেহ, বন্ধুই হত্যার প্রধান আসামি

 

হাইকোর্ট সংলগ্ন জাতীয় ঈদগাহের প্রবেশদ্বারের কাছে ড্রামের ভেতর থেকে খণ্ডিত মরদেহ উদ্ধারের ঘটনায় অবশেষে মামলা হয়েছে। নিহত আশরাফুল হকের বন্ধু জরেজ মিয়াকে মামলার প্রধান আসামি করা হয়েছে এবং অজ্ঞাত আরও কয়েকজনকে সহআসামি হিসেবে অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে।

 

শুক্রবার (১৪ নভেম্বর) সকালে শাহবাগ থানায় আশরাফুলের বোন আনজিনা বেগম বাদী হয়ে এই হত্যা মামলা দায়ের করেন। শাহবাগ থানার ওসি খালিদ মনসুর জানান, ড্রামের ভেতর থেকে উদ্ধার করা ২৬ টুকরো মরদেহটি ব্যবসায়ী আশরাফুল হকের—এ বিষয়টি নিশ্চিত হওয়ার পর আজ মামলা গ্রহণ করা হয়। তিনি বলেন, নিহতের বন্ধু জরেজ মিয়াকে প্রধান করে অজ্ঞাত কয়েকজনকে আসামি করা হয়েছে। তবে এখনো কাউকে গ্রেপ্তার করা সম্ভব হয়নি।

 

তিনি আরও বলেন, ঘটনাস্থল ও আশেপাশের সিসিটিভি ফুটেজ সংগ্রহ করে বিশ্লেষণ করা হচ্ছে। এছাড়া অন্যান্য প্রমাণ যাচাই করে দ্রুত জড়িতদের শনাক্ত করতে পুলিশ কাজ করছে।

 

বৃহস্পতিবার (১৩ নভেম্বর) ডিএমপি রমনা বিভাগের উপ-পুলিশ কমিশনার মাসুদ আলম সাংবাদিকদের জানান, গত মঙ্গলবার আশরাফুল বাড়ি থেকে ঢাকায় আসেন এবং বুধবার রাত ৯টা পর্যন্ত পরিবারের সঙ্গে যোগাযোগ ছিল। এরপর হঠাৎ তার ফোন বন্ধ হয়ে যায়। আশরাফুল ভারত ও মিয়ানমার থেকে পেঁয়াজ-আলু আমদানির ব্যবসা করতেন এবং এ বিষয়ে তার সরকারি লাইসেন্সও ছিল।

 

গত বৃহস্পতিবার সন্ধ্যায় নীল রঙের ড্রামের ভেতর থেকে মানবদেহের খণ্ডিত অংশ উদ্ধার করে পুলিশ। প্রাথমিকভাবে পরিচয় নিশ্চিত করা না গেলেও পরে ফিঙ্গারপ্রিন্ট বিশ্লেষণে নিশ্চিত হওয়া যায় যে নিহত ব্যক্তি রংপুরের বদরগঞ্জের গোপালপাড়ার বাসিন্দা মো. আশরাফুল হক (৪২)। তার বাবা আব্দুর রশিদ ও মা মোছা. এছরা খাতুন।

 

ময়নাতদন্ত রিপোর্টের অপেক্ষায় রয়েছে পুলিশ, যা তদন্তে আরও গুরুত্বপূর্ণ তথ্য দিতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে। এ ঘটনায় সাধারণ মানুষের মধ্যেও আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়েছে, এবং তারা দ্রুত বিচার দাবি করেছেন।

 

Share this news as a Photo Card

ট্যাগ :
অধিক পঠিত

ময়মনসিংহে 'প্রযুক্তি গ্রাম' পরিদর্শনে এমরান সালেহ প্রিন্স

18 August 2026
« « « বিস্তারিত কমেন্টে » » »
www.dailybexpress.com

ড্রামে খণ্ডিত দেহ, বন্ধুই হত্যার প্রধান আসামি

পোষ্টের সময় : ০৩:০৯:১৯ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ১৪ নভেম্বর ২০২৫

 

হাইকোর্ট সংলগ্ন জাতীয় ঈদগাহের প্রবেশদ্বারের কাছে ড্রামের ভেতর থেকে খণ্ডিত মরদেহ উদ্ধারের ঘটনায় অবশেষে মামলা হয়েছে। নিহত আশরাফুল হকের বন্ধু জরেজ মিয়াকে মামলার প্রধান আসামি করা হয়েছে এবং অজ্ঞাত আরও কয়েকজনকে সহআসামি হিসেবে অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে।

 

শুক্রবার (১৪ নভেম্বর) সকালে শাহবাগ থানায় আশরাফুলের বোন আনজিনা বেগম বাদী হয়ে এই হত্যা মামলা দায়ের করেন। শাহবাগ থানার ওসি খালিদ মনসুর জানান, ড্রামের ভেতর থেকে উদ্ধার করা ২৬ টুকরো মরদেহটি ব্যবসায়ী আশরাফুল হকের—এ বিষয়টি নিশ্চিত হওয়ার পর আজ মামলা গ্রহণ করা হয়। তিনি বলেন, নিহতের বন্ধু জরেজ মিয়াকে প্রধান করে অজ্ঞাত কয়েকজনকে আসামি করা হয়েছে। তবে এখনো কাউকে গ্রেপ্তার করা সম্ভব হয়নি।

 

তিনি আরও বলেন, ঘটনাস্থল ও আশেপাশের সিসিটিভি ফুটেজ সংগ্রহ করে বিশ্লেষণ করা হচ্ছে। এছাড়া অন্যান্য প্রমাণ যাচাই করে দ্রুত জড়িতদের শনাক্ত করতে পুলিশ কাজ করছে।

 

বৃহস্পতিবার (১৩ নভেম্বর) ডিএমপি রমনা বিভাগের উপ-পুলিশ কমিশনার মাসুদ আলম সাংবাদিকদের জানান, গত মঙ্গলবার আশরাফুল বাড়ি থেকে ঢাকায় আসেন এবং বুধবার রাত ৯টা পর্যন্ত পরিবারের সঙ্গে যোগাযোগ ছিল। এরপর হঠাৎ তার ফোন বন্ধ হয়ে যায়। আশরাফুল ভারত ও মিয়ানমার থেকে পেঁয়াজ-আলু আমদানির ব্যবসা করতেন এবং এ বিষয়ে তার সরকারি লাইসেন্সও ছিল।

 

গত বৃহস্পতিবার সন্ধ্যায় নীল রঙের ড্রামের ভেতর থেকে মানবদেহের খণ্ডিত অংশ উদ্ধার করে পুলিশ। প্রাথমিকভাবে পরিচয় নিশ্চিত করা না গেলেও পরে ফিঙ্গারপ্রিন্ট বিশ্লেষণে নিশ্চিত হওয়া যায় যে নিহত ব্যক্তি রংপুরের বদরগঞ্জের গোপালপাড়ার বাসিন্দা মো. আশরাফুল হক (৪২)। তার বাবা আব্দুর রশিদ ও মা মোছা. এছরা খাতুন।

 

ময়নাতদন্ত রিপোর্টের অপেক্ষায় রয়েছে পুলিশ, যা তদন্তে আরও গুরুত্বপূর্ণ তথ্য দিতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে। এ ঘটনায় সাধারণ মানুষের মধ্যেও আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়েছে, এবং তারা দ্রুত বিচার দাবি করেছেন।

 

Share this news as a Photo Card