১২:০৮ পূর্বাহ্ন, শুক্রবার, ০৬ নভেম্বর ২০২৬, ২১ কার্তিক ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

দুপুরের ঘুম: অলসতা নাকি স্বাস্থ্যের জন্য উপকারী?

  • ডেস্ক রিপোর্ট
  • পোষ্টের সময় : ০৪:৪৭:২৭ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ১ মে ২০২৫
  • ৬৩৩ ভিউ :

 

নিত্যদিনের ব্যস্ত জীবনযাত্রায় দুপুরের খাবারের পর শরীরে ক্লান্তি অনুভব করাটা খুবই স্বাভাবিক। এই সময় অনেকেই অনুভব করেন, যদি একটু শুয়ে বিশ্রাম নেওয়া যেত, তাহলে ভালো লাগত। বিশেষ করে কর্মজীবীরা কখনও কখনও কাজের ফাঁকে চেয়ারেই চোখ বুজে নেন কয়েক মিনিটের জন্য। এটি শুধু আরামের খোঁজে নয়, বরং দেহ ও মস্তিষ্কের পুনরুজ্জীবনের জন্য এক স্বাভাবিক চাহিদা।

 

এই দুপুরের ঘুম নিয়ে নানা জনের নানা মত রয়েছে। কেউ বলেন, দুপুরে ঘুমানো শরীরের জন্য ভালো নয়, আবার কেউ মনে করেন, এটি শরীর ও মস্তিষ্কের জন্য খুবই উপকারী। তবে আধুনিক গবেষণা এবং বিশেষজ্ঞদের মতে, সঠিক সময় এবং পরিমাণে দুপুরের ঘুম (যাকে অনেকেই ‘ভাতঘুম’ বলেন) মানবদেহের জন্য অত্যন্ত উপকারী।

 

প্রথমত, দুপুরে ঘুমের ফলে রক্তচাপ নিয়ন্ত্রণে থাকে। অনেকেই বলেন, রাতের তুলনায় দুপুরের ঘুম অনেক বেশি শান্তিময় ও আরামদায়ক হয়, কারণ এই ঘুমে সাধারণত অ্যালার্মের তাড়া থাকে না, ফলে ঘুম হয় গভীর ও নির্ভেজাল।

 

দুপুরে ঘুমালে মানসিক চাপ কমে, স্মৃতিশক্তি উন্নত হয় এবং চিন্তাশক্তি বৃদ্ধি পায়। বিশেষজ্ঞরা বলেন, দুপুরের একটি হালকা ঘুম মানুষের সৃজনশীলতাও বাড়াতে সহায়তা করে। যারা লেখালেখি, গবেষণা, শিল্পকর্ম বা উদ্ভাবনী কাজে যুক্ত, তাদের জন্য দুপুরের এই স্বল্প বিশ্রাম নতুন চিন্তা ও আইডিয়া নিয়ে আসতে পারে।

 

শুধু তাই নয়, অনেক সময় রাতের ঘুম পূর্ণ না হলে শরীর ও মনের উপর বিরূপ প্রভাব পড়ে। তখন দুপুরে কিছুক্ষণ ঘুম, সেই ঘাটতি পূরণে সহায়ক হয় এবং পুনরায় কর্মক্ষম করে তোলে।

 

তাই প্রতিদিন যদি সুযোগ থাকে, অন্তত ২০ থেকে ৩০ মিনিটের একটি ঘুম আপনার দৈহিক ও মানসিক স্বাস্থ্য রক্ষায় ইতিবাচক ভূমিকা রাখতে পারে। দুপুরের এই ছোট্ট বিশ্রাম আপনার মনকে করবে সতেজ, শরীরকে করবে চনমনে এবং দিনটিকে করবে আরও উৎপাদনমুখী।

 

যারা প্রতিদিন কর্মব্যস্ততার মধ্যে থাকেন, তাদের জন্য এই স্বল্প সময়ের বিশ্রাম হতে পারে এক অনবদ্য প্রাকৃতিক টনিক। তাই সময় পেলে, একটু চোখ বুজে নিতে দ্বিধা করবেন না।

 

Share this news as a Photo Card

ট্যাগ :
অধিক পঠিত

কেন্দুয়ায় নতুন কুঁড়ি স্পোর্টস সিজন-২ এর শুভ উদ্বোধন

ইউক্রেনের স্কুলভবনে রুশ বোমা হামলায় নিহত ৩৩, নিখোঁজ ৫০

04 November 2026
« « « বিস্তারিত কমেন্টে » » »
www.dailybexpress.com

দুপুরের ঘুম: অলসতা নাকি স্বাস্থ্যের জন্য উপকারী?

পোষ্টের সময় : ০৪:৪৭:২৭ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ১ মে ২০২৫

 

নিত্যদিনের ব্যস্ত জীবনযাত্রায় দুপুরের খাবারের পর শরীরে ক্লান্তি অনুভব করাটা খুবই স্বাভাবিক। এই সময় অনেকেই অনুভব করেন, যদি একটু শুয়ে বিশ্রাম নেওয়া যেত, তাহলে ভালো লাগত। বিশেষ করে কর্মজীবীরা কখনও কখনও কাজের ফাঁকে চেয়ারেই চোখ বুজে নেন কয়েক মিনিটের জন্য। এটি শুধু আরামের খোঁজে নয়, বরং দেহ ও মস্তিষ্কের পুনরুজ্জীবনের জন্য এক স্বাভাবিক চাহিদা।

 

এই দুপুরের ঘুম নিয়ে নানা জনের নানা মত রয়েছে। কেউ বলেন, দুপুরে ঘুমানো শরীরের জন্য ভালো নয়, আবার কেউ মনে করেন, এটি শরীর ও মস্তিষ্কের জন্য খুবই উপকারী। তবে আধুনিক গবেষণা এবং বিশেষজ্ঞদের মতে, সঠিক সময় এবং পরিমাণে দুপুরের ঘুম (যাকে অনেকেই ‘ভাতঘুম’ বলেন) মানবদেহের জন্য অত্যন্ত উপকারী।

 

প্রথমত, দুপুরে ঘুমের ফলে রক্তচাপ নিয়ন্ত্রণে থাকে। অনেকেই বলেন, রাতের তুলনায় দুপুরের ঘুম অনেক বেশি শান্তিময় ও আরামদায়ক হয়, কারণ এই ঘুমে সাধারণত অ্যালার্মের তাড়া থাকে না, ফলে ঘুম হয় গভীর ও নির্ভেজাল।

 

দুপুরে ঘুমালে মানসিক চাপ কমে, স্মৃতিশক্তি উন্নত হয় এবং চিন্তাশক্তি বৃদ্ধি পায়। বিশেষজ্ঞরা বলেন, দুপুরের একটি হালকা ঘুম মানুষের সৃজনশীলতাও বাড়াতে সহায়তা করে। যারা লেখালেখি, গবেষণা, শিল্পকর্ম বা উদ্ভাবনী কাজে যুক্ত, তাদের জন্য দুপুরের এই স্বল্প বিশ্রাম নতুন চিন্তা ও আইডিয়া নিয়ে আসতে পারে।

 

শুধু তাই নয়, অনেক সময় রাতের ঘুম পূর্ণ না হলে শরীর ও মনের উপর বিরূপ প্রভাব পড়ে। তখন দুপুরে কিছুক্ষণ ঘুম, সেই ঘাটতি পূরণে সহায়ক হয় এবং পুনরায় কর্মক্ষম করে তোলে।

 

তাই প্রতিদিন যদি সুযোগ থাকে, অন্তত ২০ থেকে ৩০ মিনিটের একটি ঘুম আপনার দৈহিক ও মানসিক স্বাস্থ্য রক্ষায় ইতিবাচক ভূমিকা রাখতে পারে। দুপুরের এই ছোট্ট বিশ্রাম আপনার মনকে করবে সতেজ, শরীরকে করবে চনমনে এবং দিনটিকে করবে আরও উৎপাদনমুখী।

 

যারা প্রতিদিন কর্মব্যস্ততার মধ্যে থাকেন, তাদের জন্য এই স্বল্প সময়ের বিশ্রাম হতে পারে এক অনবদ্য প্রাকৃতিক টনিক। তাই সময় পেলে, একটু চোখ বুজে নিতে দ্বিধা করবেন না।

 

Share this news as a Photo Card