১০:০৯ পূর্বাহ্ন, সোমবার, ১২ অক্টোবর ২০২৬, ২৭ আশ্বিন ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

নতুন জামা নয়, ঈদে গাজার শিশুরা চায় এক টুকরো রুটি

 

মধ্যপ্রাচ্যের দেশগুলোতে আজ শুক্রবার (৬ জুন) পালিত হতে যাচ্ছে ঈদুল আজহা। সারা বিশ্বে মুসলিমরা ঈদের দিনটি উদযাপন করেন নতুন পোশাক, কোরবানির পশু, ও পরিবারের সঙ্গে আনন্দঘন সময় কাটিয়ে। কিন্তু ফিলিস্তিনের গাজায় সেই আনন্দের কোনো ছোঁয়া নেই। ইসরায়েলি হামলায় বিপর্যস্ত এই ভূখণ্ডে ঈদ মানে এখন আর উৎসব নয়—বরং বেঁচে থাকার সংগ্রাম, অনিশ্চয়তা, আর অশ্রুভেজা দিন।

 

এক সময় ঈদে পরিবারের জন্য নতুন জামাকাপড় ও খাবার কিনে দিতেন গাজার জেইতুন এলাকার বাসিন্দা হুসাম আবু আমের। কিন্তু এখন বাস্তুচ্যুত হয়ে তিনি আশ্রয় নিয়েছেন খান ইউনিসের একটি স্কুলে, যেখানে তাঁবুতে থাকছেন সন্তানদের নিয়ে। বোমা হামলায় তিনি হারিয়েছেন নিজের বাড়ি ও স্বজনদের।

 

দ্য নিউ আরবকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে হুসাম বলেন, “আগে ঈদ ছিল আমাদের জীবনের শ্রেষ্ঠ সময়। আমি আমার সন্তানদের জন্য জামা, খেলনা কিনতাম। কিন্তু এবার ঈদে তাদের একমাত্র চাওয়া শুধু একটু রুটি। মিষ্টি বা খেলনার কোনো চাহিদা নেই—শুধু খাবার চাই।”

 

তিনি জানান, গত বছর সন্তানদের আশ্বস্ত করেছিলেন—আগামী ঈদের আগেই যুদ্ধ শেষ হবে এবং আগের মতো সবকিছু স্বাভাবিক হয়ে যাবে। কিন্তু সেই আশ্বাস এখন তাঁর কাছে শুধুই একটি বেদনাদায়ক মিথ্যা।

 

হুসাম বলেন, “আমি সেই মানুষ ছিলাম যে পরিবারকে রক্ষা করতাম, সবকিছু দিতাম। এখন আমি শুধু গল্প বলি যেন বোমার শব্দে শিশুরা ভয় না পায়, ক্ষুধা ভুলে থাকে।”

 

৩৭ বছর বয়সী এই বাবা এখন আর কান্না করার শক্তিও খুঁজে পান না। তার ভাষায়, “ঈদ আমাদের জন্য কোনো উৎসব নয়। ঈদ এখন আমাদের শুধু মনে করিয়ে দেয়, আমরা কী হারিয়েছি।”

 

Share this news as a Photo Card

ট্যাগ :
অধিক পঠিত

বকশীগঞ্জে ইউনিয়ন মাল্টি স্টেকহোল্ডার প্লাটফর্মের বার্ষিক পুষ্টি কর্মপরিকল্পনা অনুষ্ঠিত

নান্দাইলে ৩১ পূজামণ্ডপে নিরাপত্তা জোরদার, সম্প্রীতি রক্ষায় প্রতিমন্ত্রীর আহ্বান

11 October 2026
« « « বিস্তারিত কমেন্টে » » »
www.dailybexpress.com

নতুন জামা নয়, ঈদে গাজার শিশুরা চায় এক টুকরো রুটি

পোষ্টের সময় : ০১:০০:১৩ পূর্বাহ্ন, শুক্রবার, ৬ জুন ২০২৫

 

মধ্যপ্রাচ্যের দেশগুলোতে আজ শুক্রবার (৬ জুন) পালিত হতে যাচ্ছে ঈদুল আজহা। সারা বিশ্বে মুসলিমরা ঈদের দিনটি উদযাপন করেন নতুন পোশাক, কোরবানির পশু, ও পরিবারের সঙ্গে আনন্দঘন সময় কাটিয়ে। কিন্তু ফিলিস্তিনের গাজায় সেই আনন্দের কোনো ছোঁয়া নেই। ইসরায়েলি হামলায় বিপর্যস্ত এই ভূখণ্ডে ঈদ মানে এখন আর উৎসব নয়—বরং বেঁচে থাকার সংগ্রাম, অনিশ্চয়তা, আর অশ্রুভেজা দিন।

 

এক সময় ঈদে পরিবারের জন্য নতুন জামাকাপড় ও খাবার কিনে দিতেন গাজার জেইতুন এলাকার বাসিন্দা হুসাম আবু আমের। কিন্তু এখন বাস্তুচ্যুত হয়ে তিনি আশ্রয় নিয়েছেন খান ইউনিসের একটি স্কুলে, যেখানে তাঁবুতে থাকছেন সন্তানদের নিয়ে। বোমা হামলায় তিনি হারিয়েছেন নিজের বাড়ি ও স্বজনদের।

 

দ্য নিউ আরবকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে হুসাম বলেন, “আগে ঈদ ছিল আমাদের জীবনের শ্রেষ্ঠ সময়। আমি আমার সন্তানদের জন্য জামা, খেলনা কিনতাম। কিন্তু এবার ঈদে তাদের একমাত্র চাওয়া শুধু একটু রুটি। মিষ্টি বা খেলনার কোনো চাহিদা নেই—শুধু খাবার চাই।”

 

তিনি জানান, গত বছর সন্তানদের আশ্বস্ত করেছিলেন—আগামী ঈদের আগেই যুদ্ধ শেষ হবে এবং আগের মতো সবকিছু স্বাভাবিক হয়ে যাবে। কিন্তু সেই আশ্বাস এখন তাঁর কাছে শুধুই একটি বেদনাদায়ক মিথ্যা।

 

হুসাম বলেন, “আমি সেই মানুষ ছিলাম যে পরিবারকে রক্ষা করতাম, সবকিছু দিতাম। এখন আমি শুধু গল্প বলি যেন বোমার শব্দে শিশুরা ভয় না পায়, ক্ষুধা ভুলে থাকে।”

 

৩৭ বছর বয়সী এই বাবা এখন আর কান্না করার শক্তিও খুঁজে পান না। তার ভাষায়, “ঈদ আমাদের জন্য কোনো উৎসব নয়। ঈদ এখন আমাদের শুধু মনে করিয়ে দেয়, আমরা কী হারিয়েছি।”

 

Share this news as a Photo Card