০৮:০৯ অপরাহ্ন, বুধবার, ০৫ অগাস্ট ২০২৬, ২১ শ্রাবণ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

নতুন প্রধানমন্ত্রীর নেতৃত্বে শান্ত হতে শুরু করেছে নেপাল

 

নেপালে দীর্ঘদিন ধরে চলা রাজনৈতিক অস্থিরতা ও জেন-জি বিক্ষোভের পর অবশেষে অন্তর্বর্তী সরকারের দায়িত্ব নিয়েছেন নতুন প্রধানমন্ত্রী সুশীলা কার্কি। শুক্রবার রাতে শপথ নেওয়ার পর শনিবার থেকেই তিনি দায়িত্ব পালন শুরু করেন। বাংলাদেশের প্রধান উপদেষ্টা ড. মুহাম্মদ ইউনূস, ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদিসহ বিশ্বের বিভিন্ন দেশের নেতারা তাকে অভিনন্দন জানিয়েছেন।

 

দায়িত্ব নেওয়ার প্রথম দিনেই তিনি আহত বিক্ষোভকারীদের খোঁজখবর নিতে ন্যাশনাল ট্রমা সেন্টার ও সিভিল সার্ভিস হাসপাতালে যান। সেখানে চিকিৎসক ও কর্তৃপক্ষের সঙ্গে কথা বলে আহতদের সর্বোচ্চ চিকিৎসা সহায়তা নিশ্চিতের আশ্বাস দেন। এর মাধ্যমে জনগণের পাশে থাকার বার্তা দিতে সক্ষম হন তিনি। পাশাপাশি প্রশাসনিক কার্যক্রমেও নজর দিচ্ছেন নতুন প্রধানমন্ত্রী।

 

প্রধানমন্ত্রীর দায়িত্ব গ্রহণের পর দেশজুড়ে জারি থাকা কারফিউ ও বেশ কিছু নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহার করা হয়। তবে কাঠমান্ডুর কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ এলাকায় এখনো সমাবেশ, বিক্ষোভ, অবস্থান কর্মসূচি এবং জনসমাবেশের ওপর নিষেধাজ্ঞা বহাল আছে। সিংহ দরবার, সংসদ ভবন, প্রধানমন্ত্রীর বাসভবন ও রাষ্ট্রপতির কার্যালয়সহ কয়েকটি স্থানে এই বিধিনিষেধ কার্যকর রয়েছে।

 

বিক্ষোভের কারণে টানা পাঁচ দিন বন্ধ থাকার পর শনিবার থেকে কাঠমান্ডুতে গণপরিবহন পুনরায় চালু হয়েছে। ট্রাফিক পুলিশের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, পাবলিক বাস, ট্যাক্সি এবং সরকারি যান চলাচলের অনুমতি দেওয়া হয়েছে। একইসঙ্গে জেলা প্রশাসন নিরাপত্তা পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করে নতুন নির্দেশনা জারি করেছে।

 

এদিকে, আন্দোলনের সময় অগ্নিসংযোগে ক্ষতিগ্রস্ত প্রধানমন্ত্রীর পুরোনো কার্যালয় থেকে আসবাবপত্র ও গুরুত্বপূর্ণ সরঞ্জাম নতুন ভবনে স্থানান্তরের কাজ চলছে। সিংহ দরবারের উত্তর-পশ্চিম অংশে নির্মিত নতুন ভবনে তার কার্যালয় প্রস্তুত করা হচ্ছে। সেনা ও প্রশাসনিক কর্মীরা পুরোনো অফিস থেকে টেবিল, চেয়ার, সোফা ও কম্পিউটারসহ অক্ষত সরঞ্জাম সরিয়ে নিচ্ছেন। যদিও ক্ষয়ক্ষতির চিহ্ন এখনো দৃশ্যমান—পোড়া যানবাহন, নথি ও অন্যান্য উপকরণ সরানোর কাজ চলছে। শিক্ষা ও প্রযুক্তি মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র জানিয়েছেন, আপাতত পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতার কাজ চলছে এবং ধীরে ধীরে রক্ষণাবেক্ষণের কাজ শুরু হবে।

 

আন্তর্জাতিক মানবাধিকার সংস্থাগুলো ইতোমধ্যে নেপালের অন্তর্বর্তী সরকারকে আইনের শাসন প্রতিষ্ঠা এবং মানবাধিকার নিশ্চিতে মনোযোগী হওয়ার আহ্বান জানিয়েছে। অ্যামনেস্টি ইন্টারন্যাশনাল, হিউম্যান রাইটস ওয়াচ, ইন্টারন্যাশনাল ফেডারেশন অব হিউম্যান রাইটসসহ বিভিন্ন সংস্থা যৌথ বিবৃতিতে জানিয়েছে, গণতন্ত্র ও মানবাধিকারের মান রক্ষা এখন সবচেয়ে জরুরি।

 

সব মিলিয়ে, সুশীলা কার্কির দায়িত্ব গ্রহণের পর নেপাল ধীরে ধীরে স্থিতিশীলতার পথে ফিরছে। নতুন অন্তর্বর্তী সরকারের অধীনে দেশ কেমনভাবে সামনের দিকে এগোয়, সেটিই এখন সবার নজরে।

 

Share this news as a Photo Card

ট্যাগ :
অধিক পঠিত

জুলাই গণঅভ্যুত্থান দিবসে ফুলপুরে শহিদদের প্রতি শ্রদ্ধা, জুলাইযোদ্ধাদের সংবর্ধনা 

হালুয়াঘাটে দুই দিনের টানা বর্ষণ ও ভারতের পাহাড়ি ঢলে নিম্নাঞ্চল প্লাবিত

04 August 2026
« « « বিস্তারিত কমেন্টে » » »
www.dailybexpress.com

নতুন প্রধানমন্ত্রীর নেতৃত্বে শান্ত হতে শুরু করেছে নেপাল

পোষ্টের সময় : ০৭:৩৭:১৬ অপরাহ্ন, শনিবার, ১৩ সেপ্টেম্বর ২০২৫

 

নেপালে দীর্ঘদিন ধরে চলা রাজনৈতিক অস্থিরতা ও জেন-জি বিক্ষোভের পর অবশেষে অন্তর্বর্তী সরকারের দায়িত্ব নিয়েছেন নতুন প্রধানমন্ত্রী সুশীলা কার্কি। শুক্রবার রাতে শপথ নেওয়ার পর শনিবার থেকেই তিনি দায়িত্ব পালন শুরু করেন। বাংলাদেশের প্রধান উপদেষ্টা ড. মুহাম্মদ ইউনূস, ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদিসহ বিশ্বের বিভিন্ন দেশের নেতারা তাকে অভিনন্দন জানিয়েছেন।

 

দায়িত্ব নেওয়ার প্রথম দিনেই তিনি আহত বিক্ষোভকারীদের খোঁজখবর নিতে ন্যাশনাল ট্রমা সেন্টার ও সিভিল সার্ভিস হাসপাতালে যান। সেখানে চিকিৎসক ও কর্তৃপক্ষের সঙ্গে কথা বলে আহতদের সর্বোচ্চ চিকিৎসা সহায়তা নিশ্চিতের আশ্বাস দেন। এর মাধ্যমে জনগণের পাশে থাকার বার্তা দিতে সক্ষম হন তিনি। পাশাপাশি প্রশাসনিক কার্যক্রমেও নজর দিচ্ছেন নতুন প্রধানমন্ত্রী।

 

প্রধানমন্ত্রীর দায়িত্ব গ্রহণের পর দেশজুড়ে জারি থাকা কারফিউ ও বেশ কিছু নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহার করা হয়। তবে কাঠমান্ডুর কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ এলাকায় এখনো সমাবেশ, বিক্ষোভ, অবস্থান কর্মসূচি এবং জনসমাবেশের ওপর নিষেধাজ্ঞা বহাল আছে। সিংহ দরবার, সংসদ ভবন, প্রধানমন্ত্রীর বাসভবন ও রাষ্ট্রপতির কার্যালয়সহ কয়েকটি স্থানে এই বিধিনিষেধ কার্যকর রয়েছে।

 

বিক্ষোভের কারণে টানা পাঁচ দিন বন্ধ থাকার পর শনিবার থেকে কাঠমান্ডুতে গণপরিবহন পুনরায় চালু হয়েছে। ট্রাফিক পুলিশের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, পাবলিক বাস, ট্যাক্সি এবং সরকারি যান চলাচলের অনুমতি দেওয়া হয়েছে। একইসঙ্গে জেলা প্রশাসন নিরাপত্তা পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করে নতুন নির্দেশনা জারি করেছে।

 

এদিকে, আন্দোলনের সময় অগ্নিসংযোগে ক্ষতিগ্রস্ত প্রধানমন্ত্রীর পুরোনো কার্যালয় থেকে আসবাবপত্র ও গুরুত্বপূর্ণ সরঞ্জাম নতুন ভবনে স্থানান্তরের কাজ চলছে। সিংহ দরবারের উত্তর-পশ্চিম অংশে নির্মিত নতুন ভবনে তার কার্যালয় প্রস্তুত করা হচ্ছে। সেনা ও প্রশাসনিক কর্মীরা পুরোনো অফিস থেকে টেবিল, চেয়ার, সোফা ও কম্পিউটারসহ অক্ষত সরঞ্জাম সরিয়ে নিচ্ছেন। যদিও ক্ষয়ক্ষতির চিহ্ন এখনো দৃশ্যমান—পোড়া যানবাহন, নথি ও অন্যান্য উপকরণ সরানোর কাজ চলছে। শিক্ষা ও প্রযুক্তি মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র জানিয়েছেন, আপাতত পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতার কাজ চলছে এবং ধীরে ধীরে রক্ষণাবেক্ষণের কাজ শুরু হবে।

 

আন্তর্জাতিক মানবাধিকার সংস্থাগুলো ইতোমধ্যে নেপালের অন্তর্বর্তী সরকারকে আইনের শাসন প্রতিষ্ঠা এবং মানবাধিকার নিশ্চিতে মনোযোগী হওয়ার আহ্বান জানিয়েছে। অ্যামনেস্টি ইন্টারন্যাশনাল, হিউম্যান রাইটস ওয়াচ, ইন্টারন্যাশনাল ফেডারেশন অব হিউম্যান রাইটসসহ বিভিন্ন সংস্থা যৌথ বিবৃতিতে জানিয়েছে, গণতন্ত্র ও মানবাধিকারের মান রক্ষা এখন সবচেয়ে জরুরি।

 

সব মিলিয়ে, সুশীলা কার্কির দায়িত্ব গ্রহণের পর নেপাল ধীরে ধীরে স্থিতিশীলতার পথে ফিরছে। নতুন অন্তর্বর্তী সরকারের অধীনে দেশ কেমনভাবে সামনের দিকে এগোয়, সেটিই এখন সবার নজরে।

 

Share this news as a Photo Card