০৩:৫৮ পূর্বাহ্ন, মঙ্গলবার, ৩০ জুন ২০২৬, ১৫ আষাঢ় ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

নূর হোসেনের স্বপ্ন বনাম বর্তমান গণতন্ত্র

 

আজ থেকে প্রায় ৩৮ বছর আগে বাংলাদেশে এক যুবক নতুন ইতিহাস সৃষ্টি করেছিলেন গণতন্ত্রের জন্য। নূর হোসেন ছিলেন সেই যুবক। ১৯৮৭ সালের ১০ নভেম্বর, রাষ্ট্রপতি এরশাদের স্বৈরশাসনের বিরুদ্ধে বিরোধী দলগুলোর সচিবালয় অবরোধের ডাকের দিনে, রাস্তায় নেমে তিনি গণতন্ত্রের পক্ষে অবস্থান নিয়েছিলেন। তাঁর বুকে লেখা ছিল “স্বৈরাচার নিপাত যাক”, পিঠে লেখা ছিল “গণতন্ত্র মুক্তি পাক।”

 

নূর হোসেন পুলিশের বন্দুকের মুখোমুখি দাঁড়িয়ে এক অদম্য উদ্যম দেখিয়েছিলেন। কিন্তু পুলিশ গুলিতে তিনি নিহত হন। পরবর্তীতে তাঁর ছবিই হয়ে ওঠে বাংলাদেশের গণতান্ত্রিক আকাঙ্ক্ষার প্রতীক। নূর হোসেনকে বলা হয় “গণতন্ত্রের জীবন্ত পোস্টার” এবং আজও তিনি মানুষের স্মৃতিতে গণতন্ত্রের পাহারাদার হিসেবে রয়ে গেছেন।

 

তাঁর আত্মদান বৃথা যায়নি। তিন বছর পর স্বৈরশাসক এরশাদের পতন ঘটে এবং দেশের ইতিহাসে প্রথম নির্বাচনের মাধ্যমে গণতান্ত্রিক ব্যবস্থা ফিরে আসে। তবে সময়ের সাথে সাথে নির্বাচন প্রক্রিয়ার স্বচ্ছতা প্রশ্নবিদ্ধ হয় এবং তত্ত্বাবধায়ক সরকার ব্যবস্থা আসে। বহু বিতর্কিত নির্বাচন ও আন্দোলনের মধ্য দিয়ে চলতে থাকে গণতন্ত্রের সংগ্রাম, যার ফলাফল হিসেবে আজকের অন্তর্বর্তী সরকার গঠন হয়েছে।

 

বর্তমান সরকার নির্বাচনকে “ইতিহাসের সবচেয়ে সুন্দর” হিসেবে ঘোষণা করেছে। তবে রাজনৈতিক দলগুলোর মধ্যে বিভেদ ও বিরোধ দেখা দিয়েছে। নির্বাচনে প্রধানত বিএনপি, জামায়াতে ইসলামী ও নতুন দল এনসিপি অংশ নিচ্ছে। আসন বণ্টন নিয়ে তিন দলের মধ্যে আলোচনা চলছে। এ পরিস্থিতিতে ভিন্ন আদর্শের দলগুলোর প্রতিযোগিতা কমে যাচ্ছে।

 

লেখক মনে করেন, নূর হোসেন যদি আজ ফিরে আসতেন, তিনি পুলিশের মুখোমুখি দাঁড়াতেন না। বরং বর্তমান রাজনৈতিক বাস্তবতা দেখলে হতাশ হতেন। তাঁর স্বপ্নের গণতন্ত্র আজও চ্যালেঞ্জের মুখে রয়েছে।

 

Share this news as a Photo Card

ট্যাগ :
অধিক পঠিত

নাটকীয় কামব্যাকে জাপানকে হারিয়ে শেষ ষোলোতে ব্রাজিল

সেরিব্রাল পালসি ও অকুপেশনাল থেরাপি: শিশুর সম্ভাবনাকে বিকশিত করার এক নির্ভরযোগ্য পথ

29 June 2026
« « « বিস্তারিত কমেন্টে » » »
www.dailybexpress.com

নূর হোসেনের স্বপ্ন বনাম বর্তমান গণতন্ত্র

পোষ্টের সময় : ১১:৫২:০৬ অপরাহ্ন, সোমবার, ১০ নভেম্বর ২০২৫

 

আজ থেকে প্রায় ৩৮ বছর আগে বাংলাদেশে এক যুবক নতুন ইতিহাস সৃষ্টি করেছিলেন গণতন্ত্রের জন্য। নূর হোসেন ছিলেন সেই যুবক। ১৯৮৭ সালের ১০ নভেম্বর, রাষ্ট্রপতি এরশাদের স্বৈরশাসনের বিরুদ্ধে বিরোধী দলগুলোর সচিবালয় অবরোধের ডাকের দিনে, রাস্তায় নেমে তিনি গণতন্ত্রের পক্ষে অবস্থান নিয়েছিলেন। তাঁর বুকে লেখা ছিল “স্বৈরাচার নিপাত যাক”, পিঠে লেখা ছিল “গণতন্ত্র মুক্তি পাক।”

 

নূর হোসেন পুলিশের বন্দুকের মুখোমুখি দাঁড়িয়ে এক অদম্য উদ্যম দেখিয়েছিলেন। কিন্তু পুলিশ গুলিতে তিনি নিহত হন। পরবর্তীতে তাঁর ছবিই হয়ে ওঠে বাংলাদেশের গণতান্ত্রিক আকাঙ্ক্ষার প্রতীক। নূর হোসেনকে বলা হয় “গণতন্ত্রের জীবন্ত পোস্টার” এবং আজও তিনি মানুষের স্মৃতিতে গণতন্ত্রের পাহারাদার হিসেবে রয়ে গেছেন।

 

তাঁর আত্মদান বৃথা যায়নি। তিন বছর পর স্বৈরশাসক এরশাদের পতন ঘটে এবং দেশের ইতিহাসে প্রথম নির্বাচনের মাধ্যমে গণতান্ত্রিক ব্যবস্থা ফিরে আসে। তবে সময়ের সাথে সাথে নির্বাচন প্রক্রিয়ার স্বচ্ছতা প্রশ্নবিদ্ধ হয় এবং তত্ত্বাবধায়ক সরকার ব্যবস্থা আসে। বহু বিতর্কিত নির্বাচন ও আন্দোলনের মধ্য দিয়ে চলতে থাকে গণতন্ত্রের সংগ্রাম, যার ফলাফল হিসেবে আজকের অন্তর্বর্তী সরকার গঠন হয়েছে।

 

বর্তমান সরকার নির্বাচনকে “ইতিহাসের সবচেয়ে সুন্দর” হিসেবে ঘোষণা করেছে। তবে রাজনৈতিক দলগুলোর মধ্যে বিভেদ ও বিরোধ দেখা দিয়েছে। নির্বাচনে প্রধানত বিএনপি, জামায়াতে ইসলামী ও নতুন দল এনসিপি অংশ নিচ্ছে। আসন বণ্টন নিয়ে তিন দলের মধ্যে আলোচনা চলছে। এ পরিস্থিতিতে ভিন্ন আদর্শের দলগুলোর প্রতিযোগিতা কমে যাচ্ছে।

 

লেখক মনে করেন, নূর হোসেন যদি আজ ফিরে আসতেন, তিনি পুলিশের মুখোমুখি দাঁড়াতেন না। বরং বর্তমান রাজনৈতিক বাস্তবতা দেখলে হতাশ হতেন। তাঁর স্বপ্নের গণতন্ত্র আজও চ্যালেঞ্জের মুখে রয়েছে।

 

Share this news as a Photo Card