১১:৩৩ পূর্বাহ্ন, সোমবার, ২২ জুন ২০২৬, ৮ আষাঢ় ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

পর্যটন বন্ধে সেন্টমার্টিনে ভয়াবহ জীবিকা সংকট

 

পর্যটন মৌসুমে সেন্টমার্টিনে এখনও কোনো জাহাজ না যাওয়ায় দ্বীপজীবন ভয়াবহ সংকটে পড়েছে। বাংলাদেশের একমাত্র প্রবাল দ্বীপ হওয়ায় পরিবেশ ও জীববৈচিত্র্য রক্ষার স্বার্থে চলতি বছরের ফেব্রুয়ারি থেকে পর্যটক যাতায়াত বন্ধ ছিল। তবে এ সিদ্ধান্তে সাময়িক স্বস্তি ফিরলেও জীবিকা হারিয়ে দিশেহারা দ্বীপবাসী। দ্বীপটির প্রায় ১১–১২ হাজার মানুষের বড় অংশই পর্যটন ও মাছ ধরার ওপর নির্ভরশীল, যা এখন পুরোপুরি থমকে গেছে।

 

সরকারি নিষেধাজ্ঞার কারণে হোটেল, রেস্টুরেন্ট, ট্যুর গাইডিংসহ সব ব্যবসা প্রতিষ্ঠান বন্ধ হয়ে পড়ে। সম্প্রতি প্রশাসন দুটি জাহাজকে সেন্টমার্টিন রুটে চলাচলের অনুমতি দিলেও গত দুই সপ্তাহেও কোনো জাহাজ যাত্রা করেনি। ফলে জেটিঘাট ফাঁকা পড়ে আছে, ব্যবসা-বাণিজ্যও শুরু হয়নি। স্থানীয়দের অভিযোগ, প্রতি বছর অক্টোবর থেকে পর্যটনের মৌসুম শুরু হলেও বিধিনিষেধ আর জাহাজ সংকটে এবার সেই সুযোগও হাতছাড়া হয়েছে। চার মাসের ব্যবসায় সারা বছর সংসার চালানো যেত, কিন্তু এখন মাত্র দুই মাসের অনিশ্চিত আয়ে টিকে থাকা কঠিন হয়ে পড়েছে। অনেক পরিবার বাধ্য হয়ে দ্বীপ ছেড়ে চলে যাচ্ছে।

 

পরিবেশ, বন ও জলবায়ু পরিবর্তন মন্ত্রণালয়ের সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, নভেম্বর মাসে কেবল দিনের ভ্রমণের অনুমতি, ডিসেম্বর–জানুয়ারিতে সীমিত রাত্রিযাপন এবং ফেব্রুয়ারি থেকে আবার ভ্রমণ বন্ধ থাকবে। প্রতিদিন সর্বোচ্চ দুই হাজার পর্যটকের সীমা রাখা হয়েছে। দ্বীপে রাতে আলো জ্বালানো, উচ্চ শব্দ, সৈকতে যানবাহন, প্রবালে ক্ষতি, প্লাস্টিক ব্যবহারসহ একাধিক কার্যক্রম নিষিদ্ধ করা হয়েছে।

 

এসব সিদ্ধান্তের ফলে দ্বীপে হোটেল-রিসোর্টগুলো তালাবদ্ধ হয়ে পড়েছে। অনেকে গরু-ছাগল, অলংকার বিক্রি করে কোনোরকমে জীবন টিকিয়ে রাখছেন। জেলেদের অবস্থাও শোচনীয়। পর্যটক না থাকায় দ্বীপের কুকুর ও অন্যান্য প্রাণীর খাবার সংকটও দেখা দিয়েছে। স্থানীয়রা বলছেন, “আমরা দিনে এনে দিনে খাচ্ছি। অনেক পরিবার একবেলা খেতে পারছে না।” শিশুদের স্কুলে উপস্থিতিও কমে গেছে।

 

রিসোর্ট মালিকরা জানান, দুই মাসের সীমিত ভ্রমণে রিসোর্ট মেরামত ও পরিচালনার খরচ ওঠানো সম্ভব নয়। ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান বলেন, “দীর্ঘ নিষেধাজ্ঞায় সেন্টমার্টিনে চরম বেকারত্ব নেমে এসেছে। বাজার ফাঁকা, আয় নেই।”

 

স্থানীয়দের দাবি, পরিবেশ রক্ষার পাশাপাশি জীবিকার নিশ্চয়তা যুক্ত সঠিক পরিকল্পনা গ্রহণ না করলে দ্বীপবাসীর ভবিষ্যৎ অন্ধকার হয়ে পড়বে।

 

Share this news as a Photo Card

ট্যাগ :
অধিক পঠিত

জীবনে দুজন প্রিয় মানুষের একজন আমার স্ত্রী, আরেকজন আসিম মুনির: ভ্যান্স

পরীমনির ফুটবলপ্রেমে আর্জেন্টিনা আবহ

21 June 2026
« « « বিস্তারিত কমেন্টে » » »
www.dailybexpress.com

পর্যটন বন্ধে সেন্টমার্টিনে ভয়াবহ জীবিকা সংকট

পোষ্টের সময় : ০১:২৮:১০ পূর্বাহ্ন, মঙ্গলবার, ১৮ নভেম্বর ২০২৫

 

পর্যটন মৌসুমে সেন্টমার্টিনে এখনও কোনো জাহাজ না যাওয়ায় দ্বীপজীবন ভয়াবহ সংকটে পড়েছে। বাংলাদেশের একমাত্র প্রবাল দ্বীপ হওয়ায় পরিবেশ ও জীববৈচিত্র্য রক্ষার স্বার্থে চলতি বছরের ফেব্রুয়ারি থেকে পর্যটক যাতায়াত বন্ধ ছিল। তবে এ সিদ্ধান্তে সাময়িক স্বস্তি ফিরলেও জীবিকা হারিয়ে দিশেহারা দ্বীপবাসী। দ্বীপটির প্রায় ১১–১২ হাজার মানুষের বড় অংশই পর্যটন ও মাছ ধরার ওপর নির্ভরশীল, যা এখন পুরোপুরি থমকে গেছে।

 

সরকারি নিষেধাজ্ঞার কারণে হোটেল, রেস্টুরেন্ট, ট্যুর গাইডিংসহ সব ব্যবসা প্রতিষ্ঠান বন্ধ হয়ে পড়ে। সম্প্রতি প্রশাসন দুটি জাহাজকে সেন্টমার্টিন রুটে চলাচলের অনুমতি দিলেও গত দুই সপ্তাহেও কোনো জাহাজ যাত্রা করেনি। ফলে জেটিঘাট ফাঁকা পড়ে আছে, ব্যবসা-বাণিজ্যও শুরু হয়নি। স্থানীয়দের অভিযোগ, প্রতি বছর অক্টোবর থেকে পর্যটনের মৌসুম শুরু হলেও বিধিনিষেধ আর জাহাজ সংকটে এবার সেই সুযোগও হাতছাড়া হয়েছে। চার মাসের ব্যবসায় সারা বছর সংসার চালানো যেত, কিন্তু এখন মাত্র দুই মাসের অনিশ্চিত আয়ে টিকে থাকা কঠিন হয়ে পড়েছে। অনেক পরিবার বাধ্য হয়ে দ্বীপ ছেড়ে চলে যাচ্ছে।

 

পরিবেশ, বন ও জলবায়ু পরিবর্তন মন্ত্রণালয়ের সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, নভেম্বর মাসে কেবল দিনের ভ্রমণের অনুমতি, ডিসেম্বর–জানুয়ারিতে সীমিত রাত্রিযাপন এবং ফেব্রুয়ারি থেকে আবার ভ্রমণ বন্ধ থাকবে। প্রতিদিন সর্বোচ্চ দুই হাজার পর্যটকের সীমা রাখা হয়েছে। দ্বীপে রাতে আলো জ্বালানো, উচ্চ শব্দ, সৈকতে যানবাহন, প্রবালে ক্ষতি, প্লাস্টিক ব্যবহারসহ একাধিক কার্যক্রম নিষিদ্ধ করা হয়েছে।

 

এসব সিদ্ধান্তের ফলে দ্বীপে হোটেল-রিসোর্টগুলো তালাবদ্ধ হয়ে পড়েছে। অনেকে গরু-ছাগল, অলংকার বিক্রি করে কোনোরকমে জীবন টিকিয়ে রাখছেন। জেলেদের অবস্থাও শোচনীয়। পর্যটক না থাকায় দ্বীপের কুকুর ও অন্যান্য প্রাণীর খাবার সংকটও দেখা দিয়েছে। স্থানীয়রা বলছেন, “আমরা দিনে এনে দিনে খাচ্ছি। অনেক পরিবার একবেলা খেতে পারছে না।” শিশুদের স্কুলে উপস্থিতিও কমে গেছে।

 

রিসোর্ট মালিকরা জানান, দুই মাসের সীমিত ভ্রমণে রিসোর্ট মেরামত ও পরিচালনার খরচ ওঠানো সম্ভব নয়। ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান বলেন, “দীর্ঘ নিষেধাজ্ঞায় সেন্টমার্টিনে চরম বেকারত্ব নেমে এসেছে। বাজার ফাঁকা, আয় নেই।”

 

স্থানীয়দের দাবি, পরিবেশ রক্ষার পাশাপাশি জীবিকার নিশ্চয়তা যুক্ত সঠিক পরিকল্পনা গ্রহণ না করলে দ্বীপবাসীর ভবিষ্যৎ অন্ধকার হয়ে পড়বে।

 

Share this news as a Photo Card