১১:৩৩ পূর্বাহ্ন, সোমবার, ২২ জুন ২০২৬, ৮ আষাঢ় ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

সেন্টমার্টিন ভ্রমণে চরম ভাড়াবৃদ্ধি, ক্ষোভ পর্যটকের

  • স্টাফ রিপোর্টার
  • পোষ্টের সময় : ১০:২১:৫৮ পূর্বাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ১১ ডিসেম্বর ২০২৫
  • ২৫৪ ভিউ :

 

দীর্ঘ নয় মাস বন্ধ থাকার পর আবারও পর্যটকদের জন্য খুলেছে দেশের একমাত্র প্রবাল দ্বীপ সেন্টমার্টিন। প্রতিদিন হাজারো মানুষ দ্বীপে যেতে ভিড় করলেও বাড়তি ভাড়া, টিকিট সিন্ডিকেট এবং পণ্যের অস্বাভাবিক দাম পুরো ভ্রমণ অভিজ্ঞতাকে বিরক্তিকর করে তুলছে। অনেকের আশঙ্কা—পর্যটনবান্ধব নীতি ও কঠোর নজরদারি না থাকলে দ্বীপের ভবিষ্যৎ আবারও সংকটে পড়তে পারে।

 

পর্যটকদের অভিযোগ, কক্সবাজার থেকে সেন্টমার্টিন পর্যন্ত প্রায় ১১০ কিলোমিটারের নৌরুটে যাতায়াত খরচ রাখা হচ্ছে ৩,৫০০ থেকে ৫,৫০০ টাকা। কেবিনের ভাড়া ৮,০০০ থেকে ১৫,০০০ টাকার মধ্যে। অথচ তুলনামূলকভাবে তিন গুণ দীর্ঘ ঢাকা–ভোলা নৌরুটে সর্বোচ্চ ভাড়া থাকে হাজার টাকার মতো।

 

টেকনাফের শাহপরীর দ্বীপ জেটি থেকে সেন্টমার্টিনের দূরত্ব মাত্র ১৮ কিলোমিটার হলেও পর্যটকদের জন্য এই রুট বন্ধ। স্থানীয়রা ৫০০–৭০০ টাকায় যাতায়াত করলেও প্রশাসনের নিষেধাজ্ঞার কারণে পর্যটকদের বাধ্য হয়ে দীর্ঘ পথেই যেতে হচ্ছে। সাম্প্রতিক দুর্ঘটনায় মা–মেয়ের মৃত্যুর পর স্পিডবোট চলাচল বন্ধ থাকায় স্বল্পদূরত্বের রুটটি কার্যত অচল হয়ে পড়ে।

 

দ্বীপে পণ্যের দামও স্বাভাবিকের দ্বিগুণ—খাবার, পানি, নিত্যপ্রয়োজনীয় জিনিস সবকিছুতেই অতিরিক্ত মূল্য গুনতে হচ্ছে। ব্যবসায়ীরা দাবি করছেন পরিবহন খরচ বেশি, ঝুঁকিও রয়েছে। কিন্তু স্থানীয়দের মতে, মৌসুমে অতিরিক্ত লাভ তুলতেই একটি সিন্ডিকেট সক্রিয় হয়েছে।

 

একজন নারী পর্যটক ক্ষোভ প্রকাশ করে জানান, “ইতিহাসে এত খরচে সমুদ্র দেখা হয়নি। পানির বোতল পর্যন্ত দ্বিগুণ দামে বিক্রি হচ্ছে।” আরেক শিক্ষার্থীর মতে, শাহপরীর দ্বীপ রুট খুলে দিলে কম খরচেই যাতায়াত সম্ভব হতো।

 

জাহাজের টিকিট বিক্রিতে অনিয়মও ধরা পড়েছে—নিবন্ধন ছাড়া টিকিট বিক্রি করায় ‘কেয়ারী সিন্দাবাদ’কে জরিমানা করা হয়। ফটোকপি টিকিট দিয়ে একাধিক ব্যক্তি ওঠার ঘটনাও পাওয়া গেছে, যা প্রকৃত টিকিটধারীদের জন্য ভোগান্তির কারণ।

 

টেকনাফ উপজেলা নির্বাহী অফিসার জানান, পর্যটকদের নিরাপত্তা নিশ্চিতে প্রশাসন নিয়মিত নজরদারি করছে। অতিরিক্ত দাম আদায়ের প্রমাণ মিললে ভোক্তা অধিকার আইনে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

 

এদিকে, জাহাজ মালিকদের সংগঠন বলছে, পরিবেশ অধিদপ্তরের নির্দেশনায় পর্যটক সংখ্যা সীমিত থাকায় ভাড়া বাড়াতে বাধ্য হয়েছে তারা।

 

অন্যদিকে কক্সবাজার প্রশাসন জানিয়েছে, অতিরিক্ত ভাড়া বা পণ্যের মূল্য নিয়ে অভিযোগ পেলে অভিযানে নামা হবে, যাতে পর্যটকরা নির্বিঘ্নে দ্বীপ ভ্রমণ উপভোগ করতে পারেন।

 

Share this news as a Photo Card

ট্যাগ :
অধিক পঠিত

জীবনে দুজন প্রিয় মানুষের একজন আমার স্ত্রী, আরেকজন আসিম মুনির: ভ্যান্স

পরীমনির ফুটবলপ্রেমে আর্জেন্টিনা আবহ

21 June 2026
« « « বিস্তারিত কমেন্টে » » »
www.dailybexpress.com

সেন্টমার্টিন ভ্রমণে চরম ভাড়াবৃদ্ধি, ক্ষোভ পর্যটকের

পোষ্টের সময় : ১০:২১:৫৮ পূর্বাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ১১ ডিসেম্বর ২০২৫

 

দীর্ঘ নয় মাস বন্ধ থাকার পর আবারও পর্যটকদের জন্য খুলেছে দেশের একমাত্র প্রবাল দ্বীপ সেন্টমার্টিন। প্রতিদিন হাজারো মানুষ দ্বীপে যেতে ভিড় করলেও বাড়তি ভাড়া, টিকিট সিন্ডিকেট এবং পণ্যের অস্বাভাবিক দাম পুরো ভ্রমণ অভিজ্ঞতাকে বিরক্তিকর করে তুলছে। অনেকের আশঙ্কা—পর্যটনবান্ধব নীতি ও কঠোর নজরদারি না থাকলে দ্বীপের ভবিষ্যৎ আবারও সংকটে পড়তে পারে।

 

পর্যটকদের অভিযোগ, কক্সবাজার থেকে সেন্টমার্টিন পর্যন্ত প্রায় ১১০ কিলোমিটারের নৌরুটে যাতায়াত খরচ রাখা হচ্ছে ৩,৫০০ থেকে ৫,৫০০ টাকা। কেবিনের ভাড়া ৮,০০০ থেকে ১৫,০০০ টাকার মধ্যে। অথচ তুলনামূলকভাবে তিন গুণ দীর্ঘ ঢাকা–ভোলা নৌরুটে সর্বোচ্চ ভাড়া থাকে হাজার টাকার মতো।

 

টেকনাফের শাহপরীর দ্বীপ জেটি থেকে সেন্টমার্টিনের দূরত্ব মাত্র ১৮ কিলোমিটার হলেও পর্যটকদের জন্য এই রুট বন্ধ। স্থানীয়রা ৫০০–৭০০ টাকায় যাতায়াত করলেও প্রশাসনের নিষেধাজ্ঞার কারণে পর্যটকদের বাধ্য হয়ে দীর্ঘ পথেই যেতে হচ্ছে। সাম্প্রতিক দুর্ঘটনায় মা–মেয়ের মৃত্যুর পর স্পিডবোট চলাচল বন্ধ থাকায় স্বল্পদূরত্বের রুটটি কার্যত অচল হয়ে পড়ে।

 

দ্বীপে পণ্যের দামও স্বাভাবিকের দ্বিগুণ—খাবার, পানি, নিত্যপ্রয়োজনীয় জিনিস সবকিছুতেই অতিরিক্ত মূল্য গুনতে হচ্ছে। ব্যবসায়ীরা দাবি করছেন পরিবহন খরচ বেশি, ঝুঁকিও রয়েছে। কিন্তু স্থানীয়দের মতে, মৌসুমে অতিরিক্ত লাভ তুলতেই একটি সিন্ডিকেট সক্রিয় হয়েছে।

 

একজন নারী পর্যটক ক্ষোভ প্রকাশ করে জানান, “ইতিহাসে এত খরচে সমুদ্র দেখা হয়নি। পানির বোতল পর্যন্ত দ্বিগুণ দামে বিক্রি হচ্ছে।” আরেক শিক্ষার্থীর মতে, শাহপরীর দ্বীপ রুট খুলে দিলে কম খরচেই যাতায়াত সম্ভব হতো।

 

জাহাজের টিকিট বিক্রিতে অনিয়মও ধরা পড়েছে—নিবন্ধন ছাড়া টিকিট বিক্রি করায় ‘কেয়ারী সিন্দাবাদ’কে জরিমানা করা হয়। ফটোকপি টিকিট দিয়ে একাধিক ব্যক্তি ওঠার ঘটনাও পাওয়া গেছে, যা প্রকৃত টিকিটধারীদের জন্য ভোগান্তির কারণ।

 

টেকনাফ উপজেলা নির্বাহী অফিসার জানান, পর্যটকদের নিরাপত্তা নিশ্চিতে প্রশাসন নিয়মিত নজরদারি করছে। অতিরিক্ত দাম আদায়ের প্রমাণ মিললে ভোক্তা অধিকার আইনে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

 

এদিকে, জাহাজ মালিকদের সংগঠন বলছে, পরিবেশ অধিদপ্তরের নির্দেশনায় পর্যটক সংখ্যা সীমিত থাকায় ভাড়া বাড়াতে বাধ্য হয়েছে তারা।

 

অন্যদিকে কক্সবাজার প্রশাসন জানিয়েছে, অতিরিক্ত ভাড়া বা পণ্যের মূল্য নিয়ে অভিযোগ পেলে অভিযানে নামা হবে, যাতে পর্যটকরা নির্বিঘ্নে দ্বীপ ভ্রমণ উপভোগ করতে পারেন।

 

Share this news as a Photo Card