০৪:০৪ পূর্বাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ০৬ অগাস্ট ২০২৬, ২১ শ্রাবণ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

বাংলাদেশে পেপাল চালুর সম্ভাবনায় নতুন আশা

 

বাংলাদেশে খুব শিগগিরই গ্লোবাল ডিজিটাল পেমেন্ট সেবা পেপাল কার্যক্রম শুরু করতে আগ্রহী বলে জানিয়েছেন বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর আহ্সান এইচ মনসুর। তাঁর মতে, পেপাল চালু হলে দেশের ক্ষুদ্র উদ্যোক্তাদের আন্তর্জাতিক বাজারে সংযুক্ত হওয়ার পথ আরও সহজ ও দ্রুত হবে।

 

মঙ্গলবার (২ ডিসেম্বর) ঢাকার ইন্টারকন্টিনেন্টাল হোটেলে স্ট্যান্ডার্ড চার্টার্ড ব্যাংক ও চ্যানেল আই আয়োজিত ‘অ্যাগ্রো অ্যাওয়ার্ড ২০২৫’ অনুষ্ঠানে গভর্নর এ মন্তব্য করেন। তিনি জানান, আন্তর্জাতিক ডিজিটাল পেমেন্ট প্ল্যাটফর্ম হিসেবে পেপাল বাংলাদেশে ব্যবসায়িক কার্যক্রম শুরু করতে আগ্রহ দেখিয়েছে।

 

গভর্নর বলেন, ছোট উদ্যোক্তারা সাধারণত ব্যাংকের এলসি প্রক্রিয়া অনুসরণ করে ক্ষুদ্র চালান রপ্তানি করতে পারেন না। কিন্তু পেপাল চালুর মাধ্যমে তারা ইউরোপ, আমেরিকাসহ বিভিন্ন দেশে সহজে পণ্য পাঠাতে ও দ্রুত পেমেন্ট গ্রহণ করতে পারবেন। এতে আন্তর্জাতিক বাণিজ্যে ক্ষুদ্র উদ্যোক্তাদের বড় সুবিধা হবে।

 

তিনি আরও বলেন, দেশের আউটসোর্সিং খাতে কর্মরত অনেকেই আন্তর্জাতিক বাজার থেকে পেমেন্ট পেতে নানা সমস্যায় পড়েন। অনেক সময় তারা পাওনা অর্থই পান না। পেপাল এ সমস্যার সমাধানে বড় ভূমিকা রাখতে পারে। বর্তমানে বিশ্বব্যাপী ২০০টিরও বেশি দেশে পেপাল ব্যবহৃত হচ্ছে এবং এটি অনলাইন লেনদেন, বিল পরিশোধ ও নিরাপদ আন্তর্জাতিক ক্রয়ে জনপ্রিয় সেবা হিসেবে পরিচিত।

 

স্ট্যান্ডার্ড চার্টার্ড ও চ্যানেল আই আয়োজিত অনুষ্ঠানে কৃষিতে বিশেষ অবদান রাখায় আট ব্যক্তি এবং তিন প্রতিষ্ঠানকে পুরস্কৃত করা হয়। পাঁচ শতাধিক আবেদন যাচাই করে বিজয়ীদের চূড়ান্ত করা হয়।

 

নগদ লেনদেন নিয়ে গভর্নর বলেন, দেশে দুর্নীতির অন্যতম উৎস হলো ক্যাশ লেনদেন। বর্তমানে বছরে প্রায় ২০ হাজার কোটি টাকা নগদ লেনদেন ব্যবস্থাপনায় খরচ হয়। তাই ধীরে ধীরে নগদ ব্যবহার কমিয়ে আনার পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে।

 

তিনি জানান, কৃষি খাতে মোট ঋণের মাত্র দুই শতাংশ বরাদ্দ রয়েছে, যা উন্নয়নের স্বার্থে কমপক্ষে ১০ শতাংশে উন্নীত করা প্রয়োজন। এছাড়া এসএমই খাতে ২৫ হাজার কোটি টাকার তহবিল থাকলেও ব্যাংকের সক্ষমতার ঘাটতির কারণে তার কার্যকর বিতরণ ব্যাহত হচ্ছে।

 

দেশে খাদ্যশস্য উৎপাদনের অগ্রগতি উল্লেখ করে গভর্নর বলেন, ১৯৭১ সালে উৎপাদন ছিল ১.৩ কোটি টন, যা এখন প্রায় ৪ কোটি টনে উন্নীত হয়েছে। জনসংখ্যা দ্বিগুণের সামান্য বেশি বেড়ালেও খাদ্য উৎপাদন তিনগুণ বৃদ্ধি পাওয়া বড় অর্জন বলে মন্তব্য করেন তিনি।

 

Share this news as a Photo Card

ট্যাগ :
অধিক পঠিত

জুলাই যোদ্ধাদের সাথে নিয়ে আমরা আগামীর বাংলাদেশকে এগিয়ে নিতে চাই: তথ্য প্রতিমন্ত্রী

বৃষ্টিতে ভিজেই ময়মনসিংহে জুলাই শহীদদের প্রতি শ্রদ্ধা

05 August 2026
« « « বিস্তারিত কমেন্টে » » »
www.dailybexpress.com

বাংলাদেশে পেপাল চালুর সম্ভাবনায় নতুন আশা

পোষ্টের সময় : ১০:৫৭:৩৫ পূর্বাহ্ন, বুধবার, ৩ ডিসেম্বর ২০২৫

 

বাংলাদেশে খুব শিগগিরই গ্লোবাল ডিজিটাল পেমেন্ট সেবা পেপাল কার্যক্রম শুরু করতে আগ্রহী বলে জানিয়েছেন বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর আহ্সান এইচ মনসুর। তাঁর মতে, পেপাল চালু হলে দেশের ক্ষুদ্র উদ্যোক্তাদের আন্তর্জাতিক বাজারে সংযুক্ত হওয়ার পথ আরও সহজ ও দ্রুত হবে।

 

মঙ্গলবার (২ ডিসেম্বর) ঢাকার ইন্টারকন্টিনেন্টাল হোটেলে স্ট্যান্ডার্ড চার্টার্ড ব্যাংক ও চ্যানেল আই আয়োজিত ‘অ্যাগ্রো অ্যাওয়ার্ড ২০২৫’ অনুষ্ঠানে গভর্নর এ মন্তব্য করেন। তিনি জানান, আন্তর্জাতিক ডিজিটাল পেমেন্ট প্ল্যাটফর্ম হিসেবে পেপাল বাংলাদেশে ব্যবসায়িক কার্যক্রম শুরু করতে আগ্রহ দেখিয়েছে।

 

গভর্নর বলেন, ছোট উদ্যোক্তারা সাধারণত ব্যাংকের এলসি প্রক্রিয়া অনুসরণ করে ক্ষুদ্র চালান রপ্তানি করতে পারেন না। কিন্তু পেপাল চালুর মাধ্যমে তারা ইউরোপ, আমেরিকাসহ বিভিন্ন দেশে সহজে পণ্য পাঠাতে ও দ্রুত পেমেন্ট গ্রহণ করতে পারবেন। এতে আন্তর্জাতিক বাণিজ্যে ক্ষুদ্র উদ্যোক্তাদের বড় সুবিধা হবে।

 

তিনি আরও বলেন, দেশের আউটসোর্সিং খাতে কর্মরত অনেকেই আন্তর্জাতিক বাজার থেকে পেমেন্ট পেতে নানা সমস্যায় পড়েন। অনেক সময় তারা পাওনা অর্থই পান না। পেপাল এ সমস্যার সমাধানে বড় ভূমিকা রাখতে পারে। বর্তমানে বিশ্বব্যাপী ২০০টিরও বেশি দেশে পেপাল ব্যবহৃত হচ্ছে এবং এটি অনলাইন লেনদেন, বিল পরিশোধ ও নিরাপদ আন্তর্জাতিক ক্রয়ে জনপ্রিয় সেবা হিসেবে পরিচিত।

 

স্ট্যান্ডার্ড চার্টার্ড ও চ্যানেল আই আয়োজিত অনুষ্ঠানে কৃষিতে বিশেষ অবদান রাখায় আট ব্যক্তি এবং তিন প্রতিষ্ঠানকে পুরস্কৃত করা হয়। পাঁচ শতাধিক আবেদন যাচাই করে বিজয়ীদের চূড়ান্ত করা হয়।

 

নগদ লেনদেন নিয়ে গভর্নর বলেন, দেশে দুর্নীতির অন্যতম উৎস হলো ক্যাশ লেনদেন। বর্তমানে বছরে প্রায় ২০ হাজার কোটি টাকা নগদ লেনদেন ব্যবস্থাপনায় খরচ হয়। তাই ধীরে ধীরে নগদ ব্যবহার কমিয়ে আনার পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে।

 

তিনি জানান, কৃষি খাতে মোট ঋণের মাত্র দুই শতাংশ বরাদ্দ রয়েছে, যা উন্নয়নের স্বার্থে কমপক্ষে ১০ শতাংশে উন্নীত করা প্রয়োজন। এছাড়া এসএমই খাতে ২৫ হাজার কোটি টাকার তহবিল থাকলেও ব্যাংকের সক্ষমতার ঘাটতির কারণে তার কার্যকর বিতরণ ব্যাহত হচ্ছে।

 

দেশে খাদ্যশস্য উৎপাদনের অগ্রগতি উল্লেখ করে গভর্নর বলেন, ১৯৭১ সালে উৎপাদন ছিল ১.৩ কোটি টন, যা এখন প্রায় ৪ কোটি টনে উন্নীত হয়েছে। জনসংখ্যা দ্বিগুণের সামান্য বেশি বেড়ালেও খাদ্য উৎপাদন তিনগুণ বৃদ্ধি পাওয়া বড় অর্জন বলে মন্তব্য করেন তিনি।

 

Share this news as a Photo Card