০৪:৪৬ পূর্বাহ্ন, মঙ্গলবার, ০৪ অগাস্ট ২০২৬, ১৯ শ্রাবণ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

বিশ্বের প্রথম দেশ হিসেবে তালেবান সরকারকে স্বীকৃতি দিল রাশিয়া

 

আফগানিস্তানের তালেবান সরকারকে আনুষ্ঠানিক স্বীকৃতি দিয়েছে রাশিয়া, যা বিশ্বের প্রথম কোনো রাষ্ট্র হিসেবে তালেবান শাসনের বৈধতা মেনে নেওয়ার দৃষ্টান্ত।

 

শুক্রবার (৪ জুলাই) আল জাজিরার এক প্রতিবেদনে জানানো হয়, রাশিয়া তালেবান নিয়োগপ্রাপ্ত নতুন রাষ্ট্রদূতের পরিচয়পত্র গ্রহণ করেছে—এটি স্বীকৃতির একটি গুরুত্বপূর্ণ ধাপ বলে বিবেচিত হচ্ছে।

 

রাশিয়ার পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় এক বিবৃতিতে বলেছে, “ইসলামিক আমিরাত অব আফগানিস্তানকে স্বীকৃতি দেওয়ার মাধ্যমে দ্বিপাক্ষিক সহযোগিতা আরও গভীর হবে।”

 

আফগান পররাষ্ট্রমন্ত্রী আমির খান মুত্তাকি এই পদক্ষেপকে “সাহসী” আখ্যা দিয়ে বলেন, “রাশিয়ার এই সিদ্ধান্ত অন্য দেশগুলোর জন্যও দৃষ্টান্ত হয়ে থাকবে।”

 

তবে জাতিসংঘসহ আন্তর্জাতিক বড় কোনো সংস্থা এখনো তালেবান সরকারকে স্বীকৃতি দেয়নি। যুক্তরাষ্ট্রও তালেবান নেতাদের ওপর নিষেধাজ্ঞা বহাল রেখেছে এবং আফগান কেন্দ্রীয় ব্যাংকের বিপুল পরিমাণ সম্পদ জব্দ করে রেখেছে, যার ফলে দেশটির আর্থিক খাত এখনও আন্তর্জাতিক যোগাযোগ থেকে বিচ্ছিন্ন।

 

রাশিয়া বরাবরই ভিন্ন অবস্থান নিয়েছে। ২০২১ সালে আফগানিস্তান থেকে যুক্তরাষ্ট্র সেনা প্রত্যাহার করার পর রাশিয়া একে যুক্তরাষ্ট্রের ব্যর্থতা হিসেবে অভিহিত করেছিল এবং তালেবান প্রশাসনের সঙ্গে সম্পর্ক স্বাভাবিক করতে সক্রিয় হয়।

 

এর ধারাবাহিকতায়, ২০২২ ও ২০২৪ সালে তালেবান প্রতিনিধিরা রাশিয়ার সেন্ট পিটার্সবার্গে আয়োজিত অর্থনৈতিক ফোরামে অংশ নেয়। ২০২৩ সালে তালেবান পররাষ্ট্রমন্ত্রীর মস্কো সফরের সময় তিনি রুশ পররাষ্ট্রমন্ত্রী সের্গেই ল্যাভরভের সঙ্গে বৈঠক করেন।

 

২০২৪ সালের জুলাইয়ে রুশ প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিন তালেবানকে “সন্ত্রাসবিরোধী মিত্র” বলে অভিহিত করেন। একই বছরের এপ্রিলে দেশটির সুপ্রিম কোর্ট তালেবানকে “সন্ত্রাসী সংগঠন” হিসেবে চিহ্নিত করার পুরোনো সিদ্ধান্ত বাতিল করে।

 

রাশিয়া বর্তমানে তালেবান শাসিত আফগানিস্তানকে আঞ্চলিক নিরাপত্তায় সহযোগী ও সম্ভাব্য অর্থনৈতিক অংশীদার হিসেবে দেখছে, বিশেষত আইএসআইএস-এর বিরুদ্ধে লড়াইয়ে। কাবুলে রাশিয়ার একটি বাণিজ্যিক কার্যালয় ইতোমধ্যে চালু হয়েছে এবং আফগানিস্তানকে গ্যাস পরিবহনের ট্রানজিট হাব হিসেবে ব্যবহারের পরিকল্পনার কথাও জানিয়েছে মস্কো।

 

Share this news as a Photo Card

ট্যাগ :
অধিক পঠিত

নজরুল বিশ্ববিদ্যালয়ে ‘নজরুল কর্ণার’ উদ্বোধন

পাকিস্তানে বিক্ষোভের মাঝে আত্মঘাতী বোমা হামলা, নিহত ৭

03 August 2026
« « « বিস্তারিত কমেন্টে » » »
www.dailybexpress.com

বিশ্বের প্রথম দেশ হিসেবে তালেবান সরকারকে স্বীকৃতি দিল রাশিয়া

পোষ্টের সময় : ১২:২০:১৩ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ৪ জুলাই ২০২৫

 

আফগানিস্তানের তালেবান সরকারকে আনুষ্ঠানিক স্বীকৃতি দিয়েছে রাশিয়া, যা বিশ্বের প্রথম কোনো রাষ্ট্র হিসেবে তালেবান শাসনের বৈধতা মেনে নেওয়ার দৃষ্টান্ত।

 

শুক্রবার (৪ জুলাই) আল জাজিরার এক প্রতিবেদনে জানানো হয়, রাশিয়া তালেবান নিয়োগপ্রাপ্ত নতুন রাষ্ট্রদূতের পরিচয়পত্র গ্রহণ করেছে—এটি স্বীকৃতির একটি গুরুত্বপূর্ণ ধাপ বলে বিবেচিত হচ্ছে।

 

রাশিয়ার পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় এক বিবৃতিতে বলেছে, “ইসলামিক আমিরাত অব আফগানিস্তানকে স্বীকৃতি দেওয়ার মাধ্যমে দ্বিপাক্ষিক সহযোগিতা আরও গভীর হবে।”

 

আফগান পররাষ্ট্রমন্ত্রী আমির খান মুত্তাকি এই পদক্ষেপকে “সাহসী” আখ্যা দিয়ে বলেন, “রাশিয়ার এই সিদ্ধান্ত অন্য দেশগুলোর জন্যও দৃষ্টান্ত হয়ে থাকবে।”

 

তবে জাতিসংঘসহ আন্তর্জাতিক বড় কোনো সংস্থা এখনো তালেবান সরকারকে স্বীকৃতি দেয়নি। যুক্তরাষ্ট্রও তালেবান নেতাদের ওপর নিষেধাজ্ঞা বহাল রেখেছে এবং আফগান কেন্দ্রীয় ব্যাংকের বিপুল পরিমাণ সম্পদ জব্দ করে রেখেছে, যার ফলে দেশটির আর্থিক খাত এখনও আন্তর্জাতিক যোগাযোগ থেকে বিচ্ছিন্ন।

 

রাশিয়া বরাবরই ভিন্ন অবস্থান নিয়েছে। ২০২১ সালে আফগানিস্তান থেকে যুক্তরাষ্ট্র সেনা প্রত্যাহার করার পর রাশিয়া একে যুক্তরাষ্ট্রের ব্যর্থতা হিসেবে অভিহিত করেছিল এবং তালেবান প্রশাসনের সঙ্গে সম্পর্ক স্বাভাবিক করতে সক্রিয় হয়।

 

এর ধারাবাহিকতায়, ২০২২ ও ২০২৪ সালে তালেবান প্রতিনিধিরা রাশিয়ার সেন্ট পিটার্সবার্গে আয়োজিত অর্থনৈতিক ফোরামে অংশ নেয়। ২০২৩ সালে তালেবান পররাষ্ট্রমন্ত্রীর মস্কো সফরের সময় তিনি রুশ পররাষ্ট্রমন্ত্রী সের্গেই ল্যাভরভের সঙ্গে বৈঠক করেন।

 

২০২৪ সালের জুলাইয়ে রুশ প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিন তালেবানকে “সন্ত্রাসবিরোধী মিত্র” বলে অভিহিত করেন। একই বছরের এপ্রিলে দেশটির সুপ্রিম কোর্ট তালেবানকে “সন্ত্রাসী সংগঠন” হিসেবে চিহ্নিত করার পুরোনো সিদ্ধান্ত বাতিল করে।

 

রাশিয়া বর্তমানে তালেবান শাসিত আফগানিস্তানকে আঞ্চলিক নিরাপত্তায় সহযোগী ও সম্ভাব্য অর্থনৈতিক অংশীদার হিসেবে দেখছে, বিশেষত আইএসআইএস-এর বিরুদ্ধে লড়াইয়ে। কাবুলে রাশিয়ার একটি বাণিজ্যিক কার্যালয় ইতোমধ্যে চালু হয়েছে এবং আফগানিস্তানকে গ্যাস পরিবহনের ট্রানজিট হাব হিসেবে ব্যবহারের পরিকল্পনার কথাও জানিয়েছে মস্কো।

 

Share this news as a Photo Card