ভারতের আহমেদাবাদে এয়ার ইন্ডিয়ার একটি যাত্রীবাহী বিমান বিধ্বস্ত হয়ে ভয়াবহ মানবিক বিপর্যয়ের সৃষ্টি করেছে। লন্ডনের উদ্দেশে যাত্রা শুরু করা বোয়িং ৭৮৭-৮ ড্রিমলাইনার মডেলের এই উড়োজাহাজে থাকা ২৪২ জন আরোহীর কেউ বেঁচে নেই বলে নিশ্চিত করেছে স্থানীয় কর্তৃপক্ষ। এনডিটিভি ও অন্যান্য ভারতীয় সংবাদমাধ্যম এই তথ্য জানিয়েছে।
বৃহস্পতিবার স্থানীয় সময় দুপুর ১টা ৩৮ মিনিটে আহমেদাবাদ বিমানবন্দর থেকে উড্ডয়নের কয়েক মিনিটের মধ্যেই বিমানটি বিধ্বস্ত হয়। ফ্লাইট ট্র্যাকিং সাইট ফ্লাইটরাডার২৪-এর তথ্য অনুযায়ী, এটি ছিল অত্যাধুনিক ড্রিমলাইনার মডেলের বিমান, যা ২০১৪ সাল থেকে এয়ার ইন্ডিয়ার বহরে যুক্ত রয়েছে। অ্যাভিয়েশন সেফটি নেটওয়ার্ক ডাটাবেস বলছে, যাত্রা শুরুর পর এই মডেলের এটিই প্রথম বড় ধরনের দুর্ঘটনা।
বিমানটি মেঘানীনগরের একটি আবাসিক এলাকায় বিধ্বস্ত হয়। পুলিশ জানিয়েছে, বিধ্বস্ত স্থানে একটি চিকিৎসকদের হোস্টেল ছিল এবং দুর্ঘটনায় বহু মেডিকেল শিক্ষার্থী প্রাণ হারিয়েছেন। ঘটনাস্থলের ছবি ও ভিডিওতে দেখা গেছে, বিমানের ধ্বংসাবশেষ ভবনের চারপাশে ছড়িয়ে-ছিটিয়ে রয়েছে এবং লেজের অংশটি ভবনের ছাদে আটকে গেছে।
প্রত্যক্ষদর্শীদের ভাষ্যমতে, বিধ্বস্ত হওয়ার আগে পাইলট বিপদসংকেত পাঠিয়েছিলেন। দুর্ঘটনায় নিহতদের মধ্যে অনেকের মরদেহ আগুনে পুড়ে অচেনা হয়ে গেছে এবং সেগুলো ময়নাতদন্তের জন্য স্থানীয় সরকারি হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে।
বিমানটিতে ২১৭ জন প্রাপ্তবয়স্ক যাত্রী, ১১ শিশু, ২ নবজাতক এবং ১২ জন ক্রু সদস্য ছিলেন। যাত্রীদের মধ্যে ১৬৯ জন ভারতীয়, ৫৩ জন ব্রিটিশ, ৭ জন পর্তুগিজ ও ১ জন কানাডীয় নাগরিক ছিলেন।
উল্লেখযোগ্যভাবে, এই বিমানে গুজরাটের সাবেক মুখ্যমন্ত্রী বিজয় রুপানির থাকার তথ্য পাওয়া গেছে। টাইমস অব ইন্ডিয়া জানিয়েছে, তিনি বিজনেস ক্লাসের যাত্রী হিসেবে চেক-ইন সম্পন্ন করেন এবং বোর্ডিংয়ের সময় ছিল দুপুর ১২টা ১০ মিনিটে। তবে শেষ পর্যন্ত তিনি বিমানে উঠেছিলেন কিনা, তা এখনো নিশ্চিত হওয়া যায়নি।
ভারত ও যুক্তরাজ্যের প্রধানমন্ত্রী এ মর্মান্তিক দুর্ঘটনায় গভীর শোক প্রকাশ করেছেন। আহমেদাবাদ বিমানবন্দরের কার্যক্রম সাময়িকভাবে বন্ধ রাখা হয়েছে এবং দুর্ঘটনার কারণ অনুসন্ধানে তদন্ত শুরু হয়েছে।
এয়ার ইন্ডিয়া বলেছে, ঘটনাটি খতিয়ে দেখা হচ্ছে এবং যথাসময়ে বিস্তারিত তথ্য জানানো হবে।
























