ময়মনসিংহের ভালুকায় জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে কেন্দ্র করে পৌর স্বেচ্ছাসেবক দল নেতার বাড়িতে হামলা, ভাঙচুর ও লুটপাটের অভিযোগ উঠেছে। ভুক্তভোগী জান্নাতুল ফেরদৌস ছন্দা অভিযোগ করেছেন, তার স্বামী ভালুকা পৌর স্বেচ্ছাসেবক দলের যুগ্ম আহবায়ক তিয়াশ মাহমুদ শুভ স্বতন্ত্র প্রার্থী মুহাম্মদ মোর্শেদ আলমের পক্ষে কাজ করায় এ হামলার ঘটনা ঘটে।
অভিযোগ সূত্রে জানা যায়, গত সোমবার (২৩ ফেব্রুয়ারি) বিকেল আনুমানিক সাড়ে ৫টার দিকে ২০-২৫ জনের একটি দল ভালুকা পৌরসভার ৬ নম্বর ওয়ার্ডের মেজরভিটা এলাকায় তাদের বাসায় প্রবেশ করে। এ সময় নেতৃত্বে ছিলেন ওমর ফারুক সানি (২৮), জাহিদ হাসান প্রান্ত (২৬) ও সাগর (২৬) নামের তিনজন। তারা স্থানীয় নবনির্বাচিত সংসদ সদস্য ফখর উদ্দিন আহমেদ বাচ্চুর কর্মী বলে অভিযোগে উল্লেখ করা হয়েছে।
ছন্দার দাবি, হামলাকারীরা প্রথমে বাসার মূল ফটকে এসে তার স্বামীকে খুঁজতে থাকে এবং তাকে বের করে না দিলে দরজা ভেঙে ঘরে ঢুকে হত্যার হুমকি দেয়। একপর্যায়ে তারা দরজা ভেঙে ভেতরে প্রবেশ করে ঘরের বিভিন্ন আসবাবপত্র ভাঙচুর করে এবং প্রতিটি কক্ষ তল্লাশি চালায়।
তিনি আরও অভিযোগ করেন, হামলাকারীরা তাকে ভয়ভীতি দেখিয়ে আলমারির চাবি নিয়ে নেয়। পরে আলমারিতে থাকা ৭০ হাজার টাকা ও প্রায় ৩ লাখ ৪৬ হাজার টাকা মূল্যের স্বর্ণালংকার নিয়ে যায়। এ সময় তার ১০ বছর বয়সী মেয়ে ও ৯ মাসের শিশুসন্তান আতঙ্কিত হয়ে পড়ে।
অভিযোগে বলা হয়, যাওয়ার আগে হামলাকারীরা তাদের এলাকা ছাড়ার হুমকি দেয় এবং পুনরায় হামলা ও প্রাণনাশের ভয় দেখায়। পরে প্রতিবেশীরা এগিয়ে এলে অভিযুক্তরা সেখান থেকে চলে যায়।
জান্নাতুল ফেরদৌস ছন্দা জানান, তিনি ও তার পরিবার বর্তমানে নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছেন। উল্লেখ্য, তিয়াশ মাহমুদ শুভ ময়মনসিংহ-১১ (ভালুকা) আসনে ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে স্বতন্ত্র প্রার্থী মুহাম্মদ মোর্শেদ আলমের কর্মী হিসেবে কাজ করেছেন। নির্বাচনী বিরোধের জের ধরেই এ হামলার ঘটনা ঘটেছে বলে ভুক্তভোগী পরিবারের দাবি।
এ বিষয়ে অভিযুক্তদের সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলে তাদের বক্তব্য পাওয়া যায়নি।
ভালুকা মডেল থানার ওসি মো. জাহিদুল ইসলাম জানান, অভিযোগটি খতিয়ে দেখা হচ্ছে এবং তদন্ত সাপেক্ষে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।





















