১০:৫১ অপরাহ্ন, শনিবার, ০৬ জুন ২০২৬, ২৩ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

মদনে ডাক্তার ও নার্সের অবহেলায় রোগী মৃত্যুর অভিযোগ

 

নেত্রকোনার মদনে ডাক্তার ও নার্সের অবহেলার কারণে দিলোয়ারা আক্তার (৭০) নামে এক রোগী মারা গেছেন। শনিবার দুপুরে মদন উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে এমন ঘটনা ঘটে।

 

জানা যায়, উপজেলার নায়েকপুর ইউনিয়নের নোয়াগাঁও মাঝপাড়ার দিলোয়ারা আক্তার শ্বাস কষ্ট ও জ্বর নিয়ে শনিবার সকাল ১১.৪৫ মিনিটে মদন উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি হন। বিকাল ২ ঘটিকার সময় দিলোয়ারা আক্তার চিকিৎসার অবহেলায় হাসপাতালেই মারা যান। এ সময় তার ছেলে রনি ও তার বোন শাহিনা আক্তার সঙ্গে ছিলেন।

 

নিহতের ছেলে রনি মিয়া জানান, আমার মাকে নিয়ে সকাল ১১.৪৫ মিনিটে মদন উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে আসি। আমার মায়ের তিন দিন ধরে জ্বর ও শ্বাস কষ্ট ছিল। প্রথম ডাক্তার আসে। পরে স্যালাইন দেয়ার জন্য বার ডাক্তার নার্সের কাছে ছুটে যাই কিন্তু তারা আসে না। আমার মা শুধু ডাক্তার ও নার্সের অবহেলার কারণেই মারা গেছে।

 

এদিকে নিহতের বোন শাহিনা আক্তার জানান, আমার বোনকে স্যালাইন দেয়ার জন্য চারবার নার্সের কাছে যাই কিন্তু স্যালাইন দেয় নাই।

 

দায়িত্বরত সিনিয়র স্টাফ নার্স বার্নার দাস, মার্জিয়া আক্তার ও হালিমা আক্তার জানান, ডাক্তার যা অর্ডার দিয়েছিল সবকিছু রোগীকে দিয়েছি। আমাদের কোন অবহেলা ছিল না। তবে রোগী শুরু থেকেই খুব খারাপ অবস্থা ছিল। শ্বাসকষ্ট ও জ্বর ছিল। উনাকে দ্রুত করে নেবুলাইজেশন দেয়া হয়েছিল। পরে স্যালাইনও দেই। উনারা আমাদের বিরুদ্ধে যে অভিযোগ দিচ্ছে তা মিথ্যা বানোয়াট।

 

কর্তব্যরত মেডিকেল অফিসার নাসরিন সুলতানা প্রীতি জানান, রোগীকে প্রথমে প্রাথমিক চিকিৎসা দেয়া হয়েছে। তারা আমাকে জানালে সাথে সাথেই আমি উপরে যাই। এক্ষেত্রে আমাদের পক্ষ থেকে কোন ধরনের অবহেলা ছিল না।

 

মদন থানার ওসি মুহাম্মদ তরিকুল ইসলাম এর নিকট বিষয়টি জানতে মোবাইলে কল করা হলে রিসিভ না করায় বক্তব্য দেয়া সম্ভব হয়নি।

 

এ ব্যাপারে ভারপ্রাপ্ত স্বাস্থ্য ও প: প: কর্মকর্তা ডাক্তার নুরুল হুদা খান জানান, বিষয়টি আমি শুনেছি। তাছাড়া রোগীর অবস্থা যেহেতু শুরু থেকেই খারাপ ছিল সেক্ষেত্রে রোগীকে অবজারভেশনে রাখার দরকার ছিল। তবে নিহতের পক্ষ থেকে যদি লিখিত অভিযোগ দায়ের করেন তাহলে ডাক্তার নার্স যেই হউক তার বিরুদ্ধে তদন্ত সাপেক্ষে ব্যবস্থা নেয়া হবে।

 

নেত্রকোনা সিভিল সার্জন ডাক্তার গোলাম মাওলা জানান, বিষয়টি আমি শুনেছি। অভিযোগ পেলে তদন্ত কমিটি গঠন করে তাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেব। আমি আগামীকাল মদন উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে আসতেছি।

 

Share this news as a Photo Card

ট্যাগ :
অধিক পঠিত

মদনে ডাক্তার ও নার্সের অবহেলায় রোগী মৃত্যুর অভিযোগ

সীমান্তে পুশ-ইনের আরও ৮ অপচেষ্টা প্রতিহত বিজিবির

06 June 2026
« « « বিস্তারিত কমেন্টে » » »
www.dailybexpress.com

মদনে ডাক্তার ও নার্সের অবহেলায় রোগী মৃত্যুর অভিযোগ

পোষ্টের সময় : ১০:৫১:১৩ অপরাহ্ন, শনিবার, ৬ জুন ২০২৬

 

নেত্রকোনার মদনে ডাক্তার ও নার্সের অবহেলার কারণে দিলোয়ারা আক্তার (৭০) নামে এক রোগী মারা গেছেন। শনিবার দুপুরে মদন উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে এমন ঘটনা ঘটে।

 

জানা যায়, উপজেলার নায়েকপুর ইউনিয়নের নোয়াগাঁও মাঝপাড়ার দিলোয়ারা আক্তার শ্বাস কষ্ট ও জ্বর নিয়ে শনিবার সকাল ১১.৪৫ মিনিটে মদন উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি হন। বিকাল ২ ঘটিকার সময় দিলোয়ারা আক্তার চিকিৎসার অবহেলায় হাসপাতালেই মারা যান। এ সময় তার ছেলে রনি ও তার বোন শাহিনা আক্তার সঙ্গে ছিলেন।

 

নিহতের ছেলে রনি মিয়া জানান, আমার মাকে নিয়ে সকাল ১১.৪৫ মিনিটে মদন উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে আসি। আমার মায়ের তিন দিন ধরে জ্বর ও শ্বাস কষ্ট ছিল। প্রথম ডাক্তার আসে। পরে স্যালাইন দেয়ার জন্য বার ডাক্তার নার্সের কাছে ছুটে যাই কিন্তু তারা আসে না। আমার মা শুধু ডাক্তার ও নার্সের অবহেলার কারণেই মারা গেছে।

 

এদিকে নিহতের বোন শাহিনা আক্তার জানান, আমার বোনকে স্যালাইন দেয়ার জন্য চারবার নার্সের কাছে যাই কিন্তু স্যালাইন দেয় নাই।

 

দায়িত্বরত সিনিয়র স্টাফ নার্স বার্নার দাস, মার্জিয়া আক্তার ও হালিমা আক্তার জানান, ডাক্তার যা অর্ডার দিয়েছিল সবকিছু রোগীকে দিয়েছি। আমাদের কোন অবহেলা ছিল না। তবে রোগী শুরু থেকেই খুব খারাপ অবস্থা ছিল। শ্বাসকষ্ট ও জ্বর ছিল। উনাকে দ্রুত করে নেবুলাইজেশন দেয়া হয়েছিল। পরে স্যালাইনও দেই। উনারা আমাদের বিরুদ্ধে যে অভিযোগ দিচ্ছে তা মিথ্যা বানোয়াট।

 

কর্তব্যরত মেডিকেল অফিসার নাসরিন সুলতানা প্রীতি জানান, রোগীকে প্রথমে প্রাথমিক চিকিৎসা দেয়া হয়েছে। তারা আমাকে জানালে সাথে সাথেই আমি উপরে যাই। এক্ষেত্রে আমাদের পক্ষ থেকে কোন ধরনের অবহেলা ছিল না।

 

মদন থানার ওসি মুহাম্মদ তরিকুল ইসলাম এর নিকট বিষয়টি জানতে মোবাইলে কল করা হলে রিসিভ না করায় বক্তব্য দেয়া সম্ভব হয়নি।

 

এ ব্যাপারে ভারপ্রাপ্ত স্বাস্থ্য ও প: প: কর্মকর্তা ডাক্তার নুরুল হুদা খান জানান, বিষয়টি আমি শুনেছি। তাছাড়া রোগীর অবস্থা যেহেতু শুরু থেকেই খারাপ ছিল সেক্ষেত্রে রোগীকে অবজারভেশনে রাখার দরকার ছিল। তবে নিহতের পক্ষ থেকে যদি লিখিত অভিযোগ দায়ের করেন তাহলে ডাক্তার নার্স যেই হউক তার বিরুদ্ধে তদন্ত সাপেক্ষে ব্যবস্থা নেয়া হবে।

 

নেত্রকোনা সিভিল সার্জন ডাক্তার গোলাম মাওলা জানান, বিষয়টি আমি শুনেছি। অভিযোগ পেলে তদন্ত কমিটি গঠন করে তাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেব। আমি আগামীকাল মদন উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে আসতেছি।

 

Share this news as a Photo Card