১১:৫৫ পূর্বাহ্ন, বুধবার, ২৯ জুলাই ২০২৬, ১৪ শ্রাবণ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

মদনে ভুয়া দলিলে নামজারি: দলিল লেখককে শোকজ, প্রশ্নের মুখে ভূমি কর্মকর্তা

 

নেত্রকোনার মদনে ভুয়া দলিলের ভিত্তিতে নামজারির অভিযোগে এক দলিল লেখককে কারণ দর্শানোর নোটিশ (শোকজ) দেওয়া হয়েছে। একই ঘটনায় নামজারির প্রস্তাবকারী তৎকালীন ইউনিয়ন উপ-সহকারী ভূমি কর্মকর্তা মীর্জা মোস্তাফিজুর রহমানের ভূমিকা নিয়েও প্রশ্ন উঠেছে। যদিও অভিযোগ অস্বীকার করে তিনি দাবি করেছেন, যথাযথ কাগজপত্র যাচাই করেই নামজারির প্রস্তাব দেওয়া হয়েছিল।

 

এদিকে, অনিয়মের অভিযোগের মধ্যেই ২০২৫ ও ২০২৬ অর্থবছরে ভালো কাজের স্বীকৃতিস্বরূপ মীর্জা মোস্তাফিজুর রহমানকে উপজেলার শ্রেষ্ঠ ইউনিয়ন উপ-সহকারী ভূমি কর্মকর্তা হিসেবে নির্বাচিত করা হয়েছে। গত ২৭ জুলাই উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা নাদির হোসেন শামীম ও সহকারী কমিশনার (ভূমি) শাওলিন নাহার তাকে সম্মাননা প্রদান করেন। বিষয়টি নিয়ে স্থানীয়দের মধ্যে মিশ্র প্রতিক্রিয়া দেখা দিয়েছে।

 

অনুসন্ধানে জানা যায়, উপজেলার পদারকোনা মৌজার সাতজন জমির মালিকের নামে কথিত ভুয়া দলিল ও প্রয়োজনীয় কাগজপত্র ছাড়া একটি নামজারির প্রস্তাব করা হয়। পরে ২০২৫ সালের ১৩ এপ্রিল ২৫-৬৪৩ নম্বর নামে সেই নামজারি অনুমোদিত হয়। অভিযোগ রয়েছে, ওই নামজারির ভিত্তিতে পরবর্তীতে জমি বিক্রি করা হয়।

 

পরে ২০২৬ সালের ২৫ জুন দলিল লেখক ও সাবেক ইউপি চেয়ারম্যান মো. রহিছ মিয়া জমি নিবন্ধনের জন্য দলিল সাব-রেজিস্ট্রার কার্যালয়ে দাখিল করলে নথিতে অসংগতি ধরা পড়ে। এরপর সাব-রেজিস্ট্রার মো. জাহিদ হাসান সংশ্লিষ্ট দলিল ও নথিপত্র জব্দ করেন। একই সঙ্গে ভুয়া দলিল নিবন্ধনের চেষ্টার অভিযোগে রহিছ মিয়াকে কারণ দর্শানোর নোটিশ দেওয়া হয় এবং পরবর্তী নির্দেশ না দেওয়া পর্যন্ত অফিসের সব কার্যক্রম থেকে বিরত থাকার নির্দেশ দেওয়া হয়।

 

অভিযোগ রয়েছে, ইউনিয়ন ভূমি উপ-সহকারী কর্মকর্তা হিসেবে দায়িত্ব পালনকালে মীর্জা মোস্তাফিজুর রহমান প্রয়োজনীয় যাচাই-বাছাই ছাড়াই উৎকোচের বিনিময়ে নামজারির প্রস্তাব দেন। যদিও এ অভিযোগ অস্বীকার করে তিনি বলেন, “আপনারা আগে কোথায় ছিলেন? আমি তো এখান থেকে অনেক আগেই চলে এসেছি। আমি যে দলিলের নামজারি করেছি, সঠিক কাগজপত্র দেখেই করেছি।”

 

অনুসন্ধানে আরও জানা যায়, পদারকোনা মৌজার ২১০, ২৯৮ ও ৩৭৭ নম্বর বিএস রেকর্ডভুক্ত জমির ক্ষেত্রে ১৯৮৫ ও ১৯৮৬ সালের তিনটি কথিত ভুয়া দলিলের ভিত্তিতে ২০২৫ সালের ১৩ এপ্রিল নামজারি খতিয়ান খোলা হয়।

 

দলিল গ্রহীতা মো. জহিরুল ইসলাম বলেন, “আমি এ বিষয়ে কিছুই জানি না। জমির কাগজপত্র ঠিক আছে বলে আমাকে জানানো হয়েছিল। এর বেশি কিছু জানি না।”

 

অভিযোগের বিষয়ে বক্তব্য জানতে দলিল লেখক রহিছ মিয়ার মোবাইল ফোনে যোগাযোগ করা হলে তিনি পরে কথা বলবেন বলে জানান। এরপর একাধিকবার ফোন করা হলেও তিনি আর সাড়া দেননি।

 

উপজেলা সাব-রেজিস্ট্রার মো. জাহিদ হাসান বলেন, “ভুয়া দলিলের নকল কপি সম্পর্কে দলিল লেখক ও সংশ্লিষ্ট পক্ষ সন্তোষজনক ব্যাখ্যা দিতে পারেননি। এজন্য দলিল লেখককে কারণ দর্শানোর নোটিশ দেওয়া হয়েছে। তিনি জবাব দিয়েছেন এবং বিষয়টি জেলা রেজিস্ট্রারের কার্যালয়ে পাঠানো হয়েছে। পরবর্তী সিদ্ধান্ত সেখান থেকেই নেওয়া হবে।”

 

উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) শাওলিন নাহার বলেন, সাব-রেজিস্ট্রার কার্যালয় থেকে লিখিতভাবে কিছু জানানো হলে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে। শ্রেষ্ঠ কর্মকর্তা নির্বাচনের বিষয়ে তিনি বলেন, “এটি আমাদের অভ্যন্তরীণ বিষয়।”

 

Share this news as a Photo Card

ট্যাগ :
অধিক পঠিত

পাকিস্তান-নিয়ন্ত্রিত কাশ্মীরে ভয়াবহ ক্র্যাকডাউন, ২৪ ঘণ্টায় নিহত অন্তত ২০

হালুয়াঘাটে খাল পুনঃখনন শেষে প্রায় দেড় কোটি টাকা ফেরত দিলেন ইউএনও

28 July 2026
« « « বিস্তারিত কমেন্টে » » »
www.dailybexpress.com

মদনে ভুয়া দলিলে নামজারি: দলিল লেখককে শোকজ, প্রশ্নের মুখে ভূমি কর্মকর্তা

পোষ্টের সময় : ১০:২৫:১১ পূর্বাহ্ন, বুধবার, ২৯ জুলাই ২০২৬

 

নেত্রকোনার মদনে ভুয়া দলিলের ভিত্তিতে নামজারির অভিযোগে এক দলিল লেখককে কারণ দর্শানোর নোটিশ (শোকজ) দেওয়া হয়েছে। একই ঘটনায় নামজারির প্রস্তাবকারী তৎকালীন ইউনিয়ন উপ-সহকারী ভূমি কর্মকর্তা মীর্জা মোস্তাফিজুর রহমানের ভূমিকা নিয়েও প্রশ্ন উঠেছে। যদিও অভিযোগ অস্বীকার করে তিনি দাবি করেছেন, যথাযথ কাগজপত্র যাচাই করেই নামজারির প্রস্তাব দেওয়া হয়েছিল।

 

এদিকে, অনিয়মের অভিযোগের মধ্যেই ২০২৫ ও ২০২৬ অর্থবছরে ভালো কাজের স্বীকৃতিস্বরূপ মীর্জা মোস্তাফিজুর রহমানকে উপজেলার শ্রেষ্ঠ ইউনিয়ন উপ-সহকারী ভূমি কর্মকর্তা হিসেবে নির্বাচিত করা হয়েছে। গত ২৭ জুলাই উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা নাদির হোসেন শামীম ও সহকারী কমিশনার (ভূমি) শাওলিন নাহার তাকে সম্মাননা প্রদান করেন। বিষয়টি নিয়ে স্থানীয়দের মধ্যে মিশ্র প্রতিক্রিয়া দেখা দিয়েছে।

 

অনুসন্ধানে জানা যায়, উপজেলার পদারকোনা মৌজার সাতজন জমির মালিকের নামে কথিত ভুয়া দলিল ও প্রয়োজনীয় কাগজপত্র ছাড়া একটি নামজারির প্রস্তাব করা হয়। পরে ২০২৫ সালের ১৩ এপ্রিল ২৫-৬৪৩ নম্বর নামে সেই নামজারি অনুমোদিত হয়। অভিযোগ রয়েছে, ওই নামজারির ভিত্তিতে পরবর্তীতে জমি বিক্রি করা হয়।

 

পরে ২০২৬ সালের ২৫ জুন দলিল লেখক ও সাবেক ইউপি চেয়ারম্যান মো. রহিছ মিয়া জমি নিবন্ধনের জন্য দলিল সাব-রেজিস্ট্রার কার্যালয়ে দাখিল করলে নথিতে অসংগতি ধরা পড়ে। এরপর সাব-রেজিস্ট্রার মো. জাহিদ হাসান সংশ্লিষ্ট দলিল ও নথিপত্র জব্দ করেন। একই সঙ্গে ভুয়া দলিল নিবন্ধনের চেষ্টার অভিযোগে রহিছ মিয়াকে কারণ দর্শানোর নোটিশ দেওয়া হয় এবং পরবর্তী নির্দেশ না দেওয়া পর্যন্ত অফিসের সব কার্যক্রম থেকে বিরত থাকার নির্দেশ দেওয়া হয়।

 

অভিযোগ রয়েছে, ইউনিয়ন ভূমি উপ-সহকারী কর্মকর্তা হিসেবে দায়িত্ব পালনকালে মীর্জা মোস্তাফিজুর রহমান প্রয়োজনীয় যাচাই-বাছাই ছাড়াই উৎকোচের বিনিময়ে নামজারির প্রস্তাব দেন। যদিও এ অভিযোগ অস্বীকার করে তিনি বলেন, “আপনারা আগে কোথায় ছিলেন? আমি তো এখান থেকে অনেক আগেই চলে এসেছি। আমি যে দলিলের নামজারি করেছি, সঠিক কাগজপত্র দেখেই করেছি।”

 

অনুসন্ধানে আরও জানা যায়, পদারকোনা মৌজার ২১০, ২৯৮ ও ৩৭৭ নম্বর বিএস রেকর্ডভুক্ত জমির ক্ষেত্রে ১৯৮৫ ও ১৯৮৬ সালের তিনটি কথিত ভুয়া দলিলের ভিত্তিতে ২০২৫ সালের ১৩ এপ্রিল নামজারি খতিয়ান খোলা হয়।

 

দলিল গ্রহীতা মো. জহিরুল ইসলাম বলেন, “আমি এ বিষয়ে কিছুই জানি না। জমির কাগজপত্র ঠিক আছে বলে আমাকে জানানো হয়েছিল। এর বেশি কিছু জানি না।”

 

অভিযোগের বিষয়ে বক্তব্য জানতে দলিল লেখক রহিছ মিয়ার মোবাইল ফোনে যোগাযোগ করা হলে তিনি পরে কথা বলবেন বলে জানান। এরপর একাধিকবার ফোন করা হলেও তিনি আর সাড়া দেননি।

 

উপজেলা সাব-রেজিস্ট্রার মো. জাহিদ হাসান বলেন, “ভুয়া দলিলের নকল কপি সম্পর্কে দলিল লেখক ও সংশ্লিষ্ট পক্ষ সন্তোষজনক ব্যাখ্যা দিতে পারেননি। এজন্য দলিল লেখককে কারণ দর্শানোর নোটিশ দেওয়া হয়েছে। তিনি জবাব দিয়েছেন এবং বিষয়টি জেলা রেজিস্ট্রারের কার্যালয়ে পাঠানো হয়েছে। পরবর্তী সিদ্ধান্ত সেখান থেকেই নেওয়া হবে।”

 

উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) শাওলিন নাহার বলেন, সাব-রেজিস্ট্রার কার্যালয় থেকে লিখিতভাবে কিছু জানানো হলে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে। শ্রেষ্ঠ কর্মকর্তা নির্বাচনের বিষয়ে তিনি বলেন, “এটি আমাদের অভ্যন্তরীণ বিষয়।”

 

Share this news as a Photo Card