০১:১৩ অপরাহ্ন, রবিবার, ০৯ অগাস্ট ২০২৬, ২৫ শ্রাবণ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

মদনে শিশু ধর্ষণের ঘটনায় অভিযুক্ত শিক্ষক গ্রেপ্তার, পরিবারের সন্তোষ প্রকাশ

 

নেত্রকোনার মদনে মাদ্রাসার ১১ বছরের এক শিশু ছাত্রীকে ধর্ষণের অভিযোগে অভিযুক্ত শিক্ষক আমান উল্লাহ সাগরকে গ্রেপ্তার করেছে র‍্যাব-১৪-এর একটি দল। ওই ছাত্রীর ৬ মাসের অন্তঃসত্ত্বা হওয়ার ঘটনায় দেশজুড়ে চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছিল। শিক্ষক গ্রেপ্তারের সংবাদে ভুক্তভোগীর পরিবার বর্তমান সরকার ও আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর প্রতি সন্তোষ প্রকাশ করেছেন।

মদন থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মুহাম্মদ তরিকুল ইসলাম গ্রেপ্তারের বিষয়টি নিশ্চিত করে জানান, মঙ্গলবার রাতে ময়মনসিংহের গৌরীপুর এলাকা থেকে তাকে গ্রেপ্তার করা হয়। বুধবার দুপুরে ময়মনসিংহে সংবাদ সম্মেলনের পর আসামিকে মদন থানা পুলিশের কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে।

গ্রেপ্তারকৃত মাদ্রাসা শিক্ষক আমান উল্লাহ সাগর নেত্রকোনার মদন উপজেলার ‘হযরত ফাতেমা তুজ্জহুরা মহিলা কওমি মাদ্রাসা’র পরিচালক। তিনি উপজেলার কাইটাইল ইউনিয়নের পাঁচহার বড়বাড়ি গ্রামের বাসিন্দা।

শিক্ষক গ্রেপ্তার হওয়ার পর মেয়েটির মামা মুঠোফোনে জানান, “আমরা সরকার এবং আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর প্রতি কৃতজ্ঞতা ও সন্তোষ প্রকাশ করছি। অত্যন্ত অল্প সময়ের মধ্যেই তাকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে, এতে আমাদের পরিবার খুশি।” অভিযুক্তের শাস্তি সম্পর্কে জানতে চাইলে তিনি বলেন, “আমি দেশের প্রচলিত আইন অনুযায়ী তার সর্বোচ্চ শাস্তি দাবি করছি।” উল্লেখ্য, গ্রেপ্তারের আগে পলাতক থাকা অবস্থায় আমান উল্লাহ সাগর এক ভিডিও বার্তায় নিজের বাবার জড়িত থাকার ইঙ্গিত দিয়েছিলেন। এ বিষয়ে মেয়েটির মামা বলেন, “যদি তার বাবাও এ ঘটনার সাথে জড়িত থাকে, তবে সরকার চাইলে তারও ডিএনএ টেস্ট করাতে পারে। আমি চাই প্রকৃত সত্য বেরিয়ে আসুক।”

পুলিশ জানায়, গত ২৩ এপ্রিল রাতে ভুক্তভোগী শিশুর মা বাদী হয়ে আমান উল্লাহ সাগর ও তার ভাইকে অভিযুক্ত করে মদন থানায় নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইনে মামলা দায়ের করেন। মামলার পর থেকেই অভিযুক্ত শিক্ষক পলাতক ছিলেন। এর মধ্যে মঙ্গলবার অজ্ঞাত স্থান থেকে ওই শিক্ষকের একটি ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ে, যেখানে তিনি নিজেকে নির্দোষ দাবি করেন। ভিডিওটি প্রকাশের কয়েক ঘণ্টার মধ্যেই র‍্যাব তাকে গ্রেপ্তার করতে সক্ষম হয়।

মদন উপজেলা সদরের একটি ক্লিনিকে প্রয়োজনীয় পরীক্ষা-নিরীক্ষা শেষে চিকিৎসকরা শিশুটির ৬ মাসের অন্তঃসত্ত্বা হওয়ার বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন। বর্তমানে আসামিকে বিজ্ঞ আদালতে পাঠানোর প্রক্রিয়া চলছে।

 

Share this news as a Photo Card

ট্যাগ :
অধিক পঠিত

বাকৃবিতে বিএসভিইআরের ৩২তম বৈজ্ঞানিক সম্মেলনের উদ্বোধন

ফুলপুরে বিএনপি নেতা আব্দুল মতিনের মৃত্যুবার্ষিকীতে স্মরণসভা

07 August 2026
« « « বিস্তারিত কমেন্টে » » »
www.dailybexpress.com

মদনে শিশু ধর্ষণের ঘটনায় অভিযুক্ত শিক্ষক গ্রেপ্তার, পরিবারের সন্তোষ প্রকাশ

পোষ্টের সময় : ০৬:৩৬:৩৮ অপরাহ্ন, বুধবার, ৬ মে ২০২৬

 

নেত্রকোনার মদনে মাদ্রাসার ১১ বছরের এক শিশু ছাত্রীকে ধর্ষণের অভিযোগে অভিযুক্ত শিক্ষক আমান উল্লাহ সাগরকে গ্রেপ্তার করেছে র‍্যাব-১৪-এর একটি দল। ওই ছাত্রীর ৬ মাসের অন্তঃসত্ত্বা হওয়ার ঘটনায় দেশজুড়ে চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছিল। শিক্ষক গ্রেপ্তারের সংবাদে ভুক্তভোগীর পরিবার বর্তমান সরকার ও আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর প্রতি সন্তোষ প্রকাশ করেছেন।

মদন থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মুহাম্মদ তরিকুল ইসলাম গ্রেপ্তারের বিষয়টি নিশ্চিত করে জানান, মঙ্গলবার রাতে ময়মনসিংহের গৌরীপুর এলাকা থেকে তাকে গ্রেপ্তার করা হয়। বুধবার দুপুরে ময়মনসিংহে সংবাদ সম্মেলনের পর আসামিকে মদন থানা পুলিশের কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে।

গ্রেপ্তারকৃত মাদ্রাসা শিক্ষক আমান উল্লাহ সাগর নেত্রকোনার মদন উপজেলার ‘হযরত ফাতেমা তুজ্জহুরা মহিলা কওমি মাদ্রাসা’র পরিচালক। তিনি উপজেলার কাইটাইল ইউনিয়নের পাঁচহার বড়বাড়ি গ্রামের বাসিন্দা।

শিক্ষক গ্রেপ্তার হওয়ার পর মেয়েটির মামা মুঠোফোনে জানান, “আমরা সরকার এবং আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর প্রতি কৃতজ্ঞতা ও সন্তোষ প্রকাশ করছি। অত্যন্ত অল্প সময়ের মধ্যেই তাকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে, এতে আমাদের পরিবার খুশি।” অভিযুক্তের শাস্তি সম্পর্কে জানতে চাইলে তিনি বলেন, “আমি দেশের প্রচলিত আইন অনুযায়ী তার সর্বোচ্চ শাস্তি দাবি করছি।” উল্লেখ্য, গ্রেপ্তারের আগে পলাতক থাকা অবস্থায় আমান উল্লাহ সাগর এক ভিডিও বার্তায় নিজের বাবার জড়িত থাকার ইঙ্গিত দিয়েছিলেন। এ বিষয়ে মেয়েটির মামা বলেন, “যদি তার বাবাও এ ঘটনার সাথে জড়িত থাকে, তবে সরকার চাইলে তারও ডিএনএ টেস্ট করাতে পারে। আমি চাই প্রকৃত সত্য বেরিয়ে আসুক।”

পুলিশ জানায়, গত ২৩ এপ্রিল রাতে ভুক্তভোগী শিশুর মা বাদী হয়ে আমান উল্লাহ সাগর ও তার ভাইকে অভিযুক্ত করে মদন থানায় নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইনে মামলা দায়ের করেন। মামলার পর থেকেই অভিযুক্ত শিক্ষক পলাতক ছিলেন। এর মধ্যে মঙ্গলবার অজ্ঞাত স্থান থেকে ওই শিক্ষকের একটি ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ে, যেখানে তিনি নিজেকে নির্দোষ দাবি করেন। ভিডিওটি প্রকাশের কয়েক ঘণ্টার মধ্যেই র‍্যাব তাকে গ্রেপ্তার করতে সক্ষম হয়।

মদন উপজেলা সদরের একটি ক্লিনিকে প্রয়োজনীয় পরীক্ষা-নিরীক্ষা শেষে চিকিৎসকরা শিশুটির ৬ মাসের অন্তঃসত্ত্বা হওয়ার বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন। বর্তমানে আসামিকে বিজ্ঞ আদালতে পাঠানোর প্রক্রিয়া চলছে।

 

Share this news as a Photo Card