সাম্প্রতিক বছরগুলোতে দেশের মফস্বলাঞ্চলে ভুঁইফোড় সাংবাদিকতার বিস্তার উদ্বেগজনকভাবে বেড়ে গেছে। দায়িত্বশীল পেশাদার সাংবাদিকদের পাশাপাশি কিছু সুযোগসন্ধানী ব্যক্তি ‘সাংবাদিক’ পরিচয় ব্যবহার করে ব্যক্তি, প্রতিষ্ঠান ও সাধারণ মানুষের ওপর প্রভাব বিস্তারের চেষ্টা করছেন। ফলে প্রকৃত সাংবাদিকতা যেমন প্রশ্নবিদ্ধ হচ্ছে, তেমনি ভুক্তভোগীর পরিসরও দিন দিন বাড়ছে।
অনিয়ন্ত্রিত মিডিয়া কার্ডের বাণিজ্য
মফস্বলে ভুঁইফোড় সাংবাদিকতা বাড়ার অন্যতম কারণ হলো অনিয়ন্ত্রিতভাবে মিডিয়া কার্ড সরবরাহ। বিভিন্ন অনলাইনের নামে অগণিত ‘পোর্টাল’ সৃষ্টি হচ্ছে, যাদের অধিকাংশেরই নেই সরকারি নিবন্ধন, নেই কোনো সম্পাদকীয় নীতিমালা, নেই পেশাগত প্রশিক্ষণ। সুযোগসন্ধানীরা এসব ভুয়া পরিচয়পত্র ব্যবহার করে প্রশাসন, ব্যবসায়ী বা সাধারণ মানুষের ওপর চাপ সৃষ্টি করছেন।
হুমকি–ধমকি দিয়ে সুবিধা আদায়ের অভিযোগ
স্থানীয় প্রশাসন ও ব্যবসায়ী মহলের অভিযোগ–কিছু ভুঁইফোড় সাংবাদিক সংবাদ প্রকাশের ভয় দেখিয়ে চাঁদা দাবি, ব্যক্তিগত স্বার্থসিদ্ধি বা প্রতিপক্ষকে হয়রানির মতো কাজে লিপ্ত হয়। এতে প্রকৃত সংবাদকর্মীদের ইমেজ ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার পাশাপাশি সাধারণ মানুষ সাংবাদিকদের প্রতি আস্থাহীন হয়ে পড়ছে।
দায় কার?
মিডিয়া মালিক ও সম্পাদকরা যাচাই-বাছাই না করে প্রতিনিধি নিয়োগ করায় অপেশাদারদের প্রবেশ সহজ হচ্ছে। প্রশাসন প্রণীত নীতিমালা যথাযথভাবে প্রয়োগ না করায় ভুয়া পরিচয়ের বিরুদ্ধে কার্যকর ব্যবস্থা নেওয়া যাচ্ছে না। জনগণের অজ্ঞতা ও ভীতি ভুঁইফোড়দের সুযোগ করে দিচ্ছে। সাংবাদিক সংগঠনগুলোর দুর্বল ভূমিকা সঠিক বাছাই ও তদারকিতে ঘাটতি তৈরি করছে।
সমাধানে যা প্রয়োজন
নিবন্ধনবিহীন অনলাইন নিউজপোর্টালের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা গ্রহণ করা। সাংবাদিকতার ন্যূনতম যোগ্যতা, প্রশিক্ষণ ও নীতিমালার বাধ্যবাধকতা করা। ভুয়া আইডি ও কার্ডের বিরুদ্ধে নিয়মিত অভিযান পরিচালনা করা। মফস্বল সাংবাদিকদের জন্য স্বচ্ছ নিয়োগ প্রক্রিয়া ও পরিচয় যাচাই এবং প্রকৃত সাংবাদিকদের সুরক্ষা ও অবস্থান শক্তিশালী করা। সঠিক সাংবাদিকতা বাঁচাতে সরকারের পদক্ষেপ নেওয়া খুবই জরুরি।
মফস্বলে ভুঁইফোড় সাংবাদিকতার দৌরাত্ম্য শুধু সাংবাদিকতার মানকেই ক্ষতিগ্রস্ত করছে না, বরং সামাজিক শান্তি ও প্রশাসনিক স্থিতিশীলতাকেও হুমকির মুখে ফেলছে। সময় এসেছে সংশ্লিষ্ট সব পক্ষকে সম্মিলিতভাবে এগিয়ে এসে অপেশাদারদের দৌরাত্ম্য বন্ধ করার। সত্য ও জনস্বার্থভিত্তিক সাংবাদিকতা টিকে থাকুক–এটাই নাগরিকদের প্রত্যাশা।
লেখক : শাহ্ নাফিউল্লাহ সৈকত, গণমাধ্যমকর্মী।

শাহ্ নাফিউল্লাহ সৈকত 

























