গতবছর জুলাই গণঅভ্যুত্থানে ২’রা আগস্ট শিল্পী, সাংস্কৃতিক কর্মীসহ নানা শ্রেণী পেশার মানুষের অংশগ্রহণে ফ্যাসিস্ট হাসিনা সরকারের পদত্যাগের দাবিতে ‘দ্রোহযাত্রা’ কর্মসূচী পালিত হয়েছিল। ঢাকার পাশাপাশি গতবছর ময়মনসিংহেও ঐ কর্মসূচী পালিত হয়েছিল। দ্রোহযাত্রার একবছর পূর্তিতে আজকে ময়মনসিংহে ‘স্মরণে দ্রোহযাত্রা’ অনুষ্ঠিত হল।
২ আগস্ট বিকেল ৫.৩০ মিনিটে টাউনহল শহীদ মিনারে জুলাই গণঅভ্যুত্থানের শহীদদের উদ্দেশ্যে পুষ্পস্তবক অর্পণ ও ১ মিনিট নীরবতা পালনের মাধ্যমে কর্মসূচী শুরু হয়।
এরপর বক্তব্য রাখেন ময়মনসিংহের প্রগতিশীল আন্দোলনের অন্যতম নেতা বিশিষ্ট আইনজীবী এডভোকেট এমদাদুল হক মিল্লাত। এরপর টাউনহল থেকে কৃষ্ণচূড়া চত্বর অভিমুখী দ্রোহযাত্রা শুরু হয়। জুলাই হত্যার বিচার, আহতদের সুচিকিৎসা, রাষ্ট্রের গণতান্ত্রিক সংস্কার, মব সন্ত্রাস-নারী নিপীড়ন-শ্রমিক শোষণ-চাদাবাজি-দূর্নীতি-ইতিহাস বিকৃতি বন্ধসহ বিভিন্ন গণতান্ত্রিক দাবিতে স্লোগান দেয়া হয়।
কৃষ্ণচূড়া চত্ত্বরে দ্রোহযাত্রা শেষে অনুষ্ঠিত সমাবেশে ময়মনসিংহের জুলাই গণঅভ্যুত্থানের সংগঠক এবং সামাজিক-রাজনৈতিক-সাংস্কৃতিক আন্দোলনের বিশিষ্ট ব্যক্তিবর্গের মধ্যে বক্তব্য রাখেন আলী ইউসুফ, শেখ বাহার মজুমদার, শেখর রায়, ইমাম হোসেন খোকন, আজহারুল ইসলাম আজাদ, আবু বকর সিদ্দিকী রোমেল, আরিফুল হাসান, রিফা সাজিদা, শিপন হৃদয়, তানজিল হোসেন মুনিম, জহিরুল আমিন রুবেল, আলামিন আহমেদ জুন, অজিত দাস প্রমুখ। আয়োজনে সভাপতিত্ব করেন বীর মুক্তিযোদ্ধা বিমল পাল।
বক্তারা বলেন- ‘আওয়ামী দুঃশাসনের বিরুদ্ধে গতবছর দেশের ছাত্র জনতা এক রক্তক্ষয়ী গণ-অভ্যুত্থান সংগঠিত করে। সেই গণঅভ্যুত্থানে দ্রোহযাত্রা একটি উল্লেখযোগ্য কর্মসূচী ছিল। এই দ্রোহযাত্রা ছিল আওয়ামী সরকারের জুলাই গণহত্যা, ফ্যাসিবাদী শাসন, গুম খুন, নিপীড়নের বিরুদ্ধে ঐক্যবদ্ধ জনতার যাত্রা। ৫ আগস্ট হাসিনা সরকারের পতন হয়েছে। অন্তর্বর্তী সরকার দায়িত্ব নিয়েছে। কিন্তু গত একবছরে রাষ্ট্রের কাঙ্ক্ষিত গণতান্ত্রিক রুপান্তর হয় নি, বৈষম্য নিরসনে কার্যকর পদক্ষেপ পরিলক্ষিত হয় নি। বরং নতুন করে শ্রমজীবি মানুষের অধিকার হরণ, সংখ্যালঘু নির্যাতন, মাজার ভাংচুর, নারী নিপীড়ন, চাঁদাবাজি, লুটপাট, প্রশাসনে দলীয়করণের মত ঘটনা ঘটেছে। গণ-অভ্যুত্থানের আকাঙ্ক্ষা বৈষম্যহীন গণতান্ত্রিক দেশ পূরণ হয় নি। সুতরাং আমাদের লড়াই শেষ হয় নি, ছাত্র জনতার দ্রোহ চলবে।’
শেষে শহীদ স্মরণে মোমবাতি প্রজ্বালনের মাধ্যমে আয়োজন শেষ হয়।
স্টাফ রিপোর্টার 
















