বাংলাদেশের তৈরি পোশাক (আরএমজি) খাতকে ১০০ বিলিয়ন ডলারের শিল্পে পরিণত করতে হলে প্রচলিত সাফল্যের ওপর নির্ভর না করে দীর্ঘমেয়াদি ও কৌশলগত সংস্কারে গুরুত্ব দিতে হবে বলে মন্তব্য করেছেন পলিসি এক্সচেঞ্জ বাংলাদেশের চেয়ারম্যান ও প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা (সিইও) ড. মাসরুর রিয়াজ।
মঙ্গলবার (২১ জুলাই) বাংলাদেশ অ্যাপারেল ইয়ুথ লিডার্স অ্যালায়েন্স (বায়লা) আয়োজিত ‘বায়লা ফিউচার সামিট-২০২৬’-এর দ্বিতীয় দিনের এক সেশনে তিনি এসব কথা বলেন।
ড. মাসরুর রিয়াজ বলেন, চার দশক ধরে দেশের রপ্তানি, কর্মসংস্থান ও বৈদেশিক মুদ্রা অর্জনে তৈরি পোশাক খাত গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখলেও বৈশ্বিক বাজারের পরিবর্তিত বাস্তবতায় নতুন চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় উৎপাদনশীলতা, প্রযুক্তি, বাজার সম্প্রসারণ ও নীতিগত সংস্কারের বিকল্প নেই।
তিনি জানান, বর্তমানে দেশের মোট রপ্তানির ৮০ শতাংশের বেশি আসে তৈরি পোশাক খাত থেকে। তবে ইউরোপীয় ইউনিয়ন, যুক্তরাজ্য ও যুক্তরাষ্ট্র—এই তিনটি বাজারের ওপর অতিনির্ভরশীলতা ভবিষ্যতের জন্য ঝুঁকিপূর্ণ। তাই জাপান, কানাডা, অস্ট্রেলিয়া, চীনসহ নতুন বাজারে প্রবেশের ওপর গুরুত্বারোপ করেন তিনি।
পোশাক শিল্পকে ১০০ বিলিয়ন ডলারের রপ্তানি সক্ষমতায় উন্নীত করতে ছয়টি কৌশলের কথা তুলে ধরেন মাসরুর রিয়াজ। এগুলো হলো—বাণিজ্য ও কাস্টমস ব্যবস্থার আধুনিকায়ন, লজিস্টিকস ও বন্দর অবকাঠামোর উন্নয়ন, বিনিয়োগ ও রপ্তানি বহুমুখীকরণ, টেকসই ও সার্কুলার অর্থনীতির কৌশল বাস্তবায়ন, প্রযুক্তি গ্রহণে সরকারি-বেসরকারি অংশীদারত্ব বৃদ্ধি এবং দক্ষ মানবসম্পদ গড়ে তোলার জন্য দীর্ঘমেয়াদি শিক্ষা ও প্রশিক্ষণ পরিকল্পনা।
তিনি বলেন, বৈশ্বিক পোশাক বাজারে বর্তমানে ম্যান-মেড ফাইবারের চাহিদা দ্রুত বাড়ছে। বিশ্বের প্রায় ৭০ শতাংশ পোশাক এই ফাইবারভিত্তিক হলেও বাংলাদেশের রপ্তানিতে এর অংশ মাত্র ২৮ শতাংশ। ফলে প্রতিযোগিতায় টিকে থাকতে এ খাতে উৎপাদন সক্ষমতা বাড়ানোর ওপর গুরুত্ব দেন তিনি।
এলডিসি থেকে উত্তরণের পর শুল্ক সুবিধা কমে গেলে বাংলাদেশের রপ্তানি ৬ থেকে ১৪ শতাংশ পর্যন্ত ক্ষতির মুখে পড়তে পারে বলেও সতর্ক করেন এই অর্থনীতিবিদ। এ ঝুঁকি মোকাবিলায় মুক্ত বাণিজ্য চুক্তি (এফটিএ), অর্থনৈতিক অংশীদারত্ব চুক্তি (ইপিএ) এবং নতুন বাণিজ্য সুবিধা নিশ্চিত করার ওপর জোর দেন তিনি।
ড. রিয়াজ আরও বলেন, বাংলাদেশের লজিস্টিকস ও বন্দর ব্যবস্থার উন্নয়ন ছাড়া ১০০ বিলিয়ন ডলারের রপ্তানি অর্জন সম্ভব নয়। বর্তমানে চট্টগ্রাম বন্দরে পণ্য খালাসে ১০ থেকে ১২ দিন সময় লাগলেও প্রতিযোগী দেশগুলোতে একই কাজ দুই থেকে তিন দিনের মধ্যে সম্পন্ন হয়। তাই বে টার্মিনালসহ নতুন বন্দর অবকাঠামো দ্রুত বাস্তবায়নের আহ্বান জানান তিনি।
এ ছাড়া ইউরোপীয় ইউনিয়নের নতুন পরিবেশগত ও সরবরাহ শৃঙ্খল-সংক্রান্ত বিধিমালার সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে টেকসই উৎপাদন, ডিজিটাল প্রোডাক্ট পাসপোর্ট এবং কার্বন-সংক্রান্ত মানদণ্ড পূরণে এখন থেকেই প্রস্তুতি নেওয়ার তাগিদ দেন তিনি। তাঁর মতে, ভবিষ্যতে শুধু কম দামে পণ্য উৎপাদন নয়, আন্তর্জাতিক মান ও পরিবেশগত শর্ত পূরণই হবে বৈশ্বিক বাজারে টিকে থাকার অন্যতম প্রধান শর্ত।

স্টাফ রিপোর্টার 
























