০৮:১৩ অপরাহ্ন, রবিবার, ২১ জুন ২০২৬, ৭ আষাঢ় ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

সব বোর্ডে পরীক্ষার্থী কমলেও বেড়েছে ময়মনসিংহে: এসএসসি পরীক্ষা শুরু আজ

 

সারাদেশের ন্যায় আজ মঙ্গলবার (২১ এপ্রিল) সকাল ১০টা থেকে শুরু হচ্ছে ২০২৬ সালের মাধ্যমিক স্কুল সার্টিফিকেট (এসএসসি) ও সমমানের পরীক্ষা। ১১টি শিক্ষা বোর্ডের অধীনে এই মহাযজ্ঞে অংশ নিচ্ছে ১৮ লাখ ৫৭ হাজার ৩৪৪ জন শিক্ষার্থী।

শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের দেওয়া তথ্য বিশ্লেষণ করে দেখা গেছে, ২০২৫ সালের তুলনায় ২০২৬ সালে সারাদেশে মোট পরীক্ষার্থী কমেছে প্রায় ৭১ হাজার ৬২৬ জন। ঢাকা, রাজশাহী, কুমিল্লা, যশোর, চট্টগ্রাম ও সিলেটের মতো বড় বোর্ডগুলোতে পরীক্ষার্থীর সংখ্যা কমলেও ময়মনসিংহ বোর্ডে চিত্রটি উল্টো। ২০২৫ সালে এই বোর্ডে পরীক্ষার্থী ছিল ১ লাখ ৬ হাজার ৮২৫ জন, যা ২০২৬ সালে বেড়ে দাঁড়িয়েছে ১ লাখ ৮ হাজার ৩৫৯ জনে।

ময়মনসিংহ বোর্ডের আরেকটি বিশেষ দিক হলো, বিশেষ চাহিদাসম্পন্ন শিক্ষার্থীদের প্রতি বিশেষ নজরদারি। জানা গেছে, এ বছর বোর্ডের অধীনে ৫৯ জন পরীক্ষার্থী শ্রুতিলেখকসহ পরীক্ষার বিশেষ সুবিধার আওতায় ৪৫ মিনিট অতিরিক্ত সময় পাবে। বোর্ডের পক্ষ থেকে পরীক্ষা সুষ্ঠুভাবে সম্পন্ন করতে সব ধরনের প্রশাসনিক প্রস্তুতি গ্রহণ করা হয়েছে।

সারাদেশের ৩০ হাজার ৬৬৬টি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের শিক্ষার্থীরা ৩ হাজার ৮৮৫টি কেন্দ্রে পরীক্ষায় বসছে। মোট ১৮ লাখ ৫৭ হাজার ৩৪৪ জন পরীক্ষার্থীর মধ্যে ছাত্র ৯ লাখ ৩০ হাজার ৩০৫ জন এবং ছাত্রী ৯ লাখ ২৭ হাজার ৩৯ জন। সাধারণ শিক্ষা বোর্ডগুলোর মধ্যে ঢাকা বোর্ডে সর্বাধিক ৩ লাখ ৬৬ হাজার ৬৫০ জন এবং সিলেট বোর্ডে সবচেয়ে কম ৮৯ হাজার ৪২১ জন পরীক্ষার্থী অংশ নিচ্ছে। বিভাগভিত্তিক পরিসংখ্যানে দেখা গেছে, বিজ্ঞানে ৫ লাখ ৬৯ হাজার ৭৬৩ জন, মানবিকে ৬ লাখ ২৭ হাজার ৪৫১ জন এবং ব্যবসায় শিক্ষা বিভাগে ২ লাখ ২১ হাজার ১৮৪ জন শিক্ষার্থী রয়েছে। উল্লেখযোগ্য বিষয় হলো, বিজ্ঞান ও মানবিক উভয় বিভাগেই ছাত্রদের তুলনায় ছাত্রীদের অংশগ্রহণ বেশি।

পরীক্ষা স্বচ্ছ ও প্রভাবমুক্ত করতে শিক্ষা প্রশাসন থেকে ‘জিরো টলারেন্স’ নীতি গ্রহণ করা হয়েছে। প্রতিটি কেন্দ্রের হলরুম সিসিটিভি ক্যামেরার আওতায় আনা হয়েছে, যা কেন্দ্র সচিবের কক্ষের পাশাপাশি বোর্ড থেকেও ডিজিটাল পদ্ধতিতে মনিটরিং করা হবে। কেন্দ্রের ২০০ গজের মধ্যে ১৪৪ ধারা জারি করাসহ বহিরাগতদের প্রবেশ নিষিদ্ধ করা হয়েছে। প্রশ্নপত্র ফাঁস রোধে বিশেষ লকিং সিস্টেম ও ডিজিটাল ট্র্যাকিং ব্যবহার করছে কর্তৃপক্ষ। ঢাকা শিক্ষা বোর্ডের পরীক্ষা নিয়ন্ত্রক প্রফেসর এস এম কামাল উদ্দিন হায়দার জানিয়েছেন, মেধার লড়াই যেন কেবল কলম আর মগজেই সীমাবদ্ধ থাকে, তা নিশ্চিত করতে বিশেষ ভিজিল্যান্স টিম কাজ করছে।

এবারের পরীক্ষা ঘিরে সবচেয়ে বড় আলোচনার বিষয় হয়ে দাঁড়িয়েছে শিক্ষামন্ত্রী ড. আ ন ম এহছানুল হক মিলনের সম্ভাব্য ‘সারপ্রাইজ ভিজিট’। অতীতে নকল বিরোধী অভিযানে তার কঠোর অবস্থানের কারণে ‘হেলিকপ্টার মিলন’ হিসেবে পরিচিতি পাওয়া এই মন্ত্রী যেকোনো মুহূর্তে যেকোনো কেন্দ্রে ঝটিকা অভিযানে হাজির হতে পারেন বলে গুঞ্জন রয়েছে। শিক্ষামন্ত্রী জানিয়েছেন, এবারের ব্যাচটি করোনা পরিস্থিতির কারণে প্রাথমিক ও জুনিয়র বৃত্তি পরীক্ষা দিতে পারেনি, তাই তাদের জন্য হলরুম যেন পরীক্ষার্থীবান্ধব থাকে সেদিকে বিশেষ নজর দেওয়া হয়েছে।

প্রধানমন্ত্রীর শিক্ষা উপদেষ্টা মাহদী আমিনও পরীক্ষার্থীদের আতঙ্কিত না হওয়ার পরামর্শ দিয়েছেন। তিনি জানান, সরকার ‘পরীক্ষা ভীতি’ শব্দটিকে বিদায় দিয়ে একটি আনন্দময় পরিবেশ নিশ্চিত করতে চায়। শিক্ষার্থীদের জন্য কেন্দ্রে নিরাপদ পানি, পর্যাপ্ত আলো-বাতাস এবং নিরবচ্ছিন্ন বিদ্যুৎ সরবরাহের জন্য স্থানীয় প্রশাসনকে কড়া নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। বিশেষ করে ছাত্রীদের যাতায়াত নির্বিঘ্ন রাখতে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীকে সতর্ক থাকতে বলা হয়েছে।

 

Share this news as a Photo Card

ট্যাগ :
অধিক পঠিত

আওয়ামী অপতৎপরতা ও মাদকের বিরুদ্ধে ময়মনসিংহ বিএনপির বিক্ষোভ-সমাবেশ

বর্ণাঢ্য আয়োজনে শেষ হলো বাকৃবি সোহরাওয়ার্দী হলের ‘ক্রিমসন হাইস্ট’ ফিস্ট

20 June 2026
« « « বিস্তারিত কমেন্টে » » »
www.dailybexpress.com

সব বোর্ডে পরীক্ষার্থী কমলেও বেড়েছে ময়মনসিংহে: এসএসসি পরীক্ষা শুরু আজ

পোষ্টের সময় : ০৯:৪২:৫২ পূর্বাহ্ন, মঙ্গলবার, ২১ এপ্রিল ২০২৬

 

সারাদেশের ন্যায় আজ মঙ্গলবার (২১ এপ্রিল) সকাল ১০টা থেকে শুরু হচ্ছে ২০২৬ সালের মাধ্যমিক স্কুল সার্টিফিকেট (এসএসসি) ও সমমানের পরীক্ষা। ১১টি শিক্ষা বোর্ডের অধীনে এই মহাযজ্ঞে অংশ নিচ্ছে ১৮ লাখ ৫৭ হাজার ৩৪৪ জন শিক্ষার্থী।

শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের দেওয়া তথ্য বিশ্লেষণ করে দেখা গেছে, ২০২৫ সালের তুলনায় ২০২৬ সালে সারাদেশে মোট পরীক্ষার্থী কমেছে প্রায় ৭১ হাজার ৬২৬ জন। ঢাকা, রাজশাহী, কুমিল্লা, যশোর, চট্টগ্রাম ও সিলেটের মতো বড় বোর্ডগুলোতে পরীক্ষার্থীর সংখ্যা কমলেও ময়মনসিংহ বোর্ডে চিত্রটি উল্টো। ২০২৫ সালে এই বোর্ডে পরীক্ষার্থী ছিল ১ লাখ ৬ হাজার ৮২৫ জন, যা ২০২৬ সালে বেড়ে দাঁড়িয়েছে ১ লাখ ৮ হাজার ৩৫৯ জনে।

ময়মনসিংহ বোর্ডের আরেকটি বিশেষ দিক হলো, বিশেষ চাহিদাসম্পন্ন শিক্ষার্থীদের প্রতি বিশেষ নজরদারি। জানা গেছে, এ বছর বোর্ডের অধীনে ৫৯ জন পরীক্ষার্থী শ্রুতিলেখকসহ পরীক্ষার বিশেষ সুবিধার আওতায় ৪৫ মিনিট অতিরিক্ত সময় পাবে। বোর্ডের পক্ষ থেকে পরীক্ষা সুষ্ঠুভাবে সম্পন্ন করতে সব ধরনের প্রশাসনিক প্রস্তুতি গ্রহণ করা হয়েছে।

সারাদেশের ৩০ হাজার ৬৬৬টি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের শিক্ষার্থীরা ৩ হাজার ৮৮৫টি কেন্দ্রে পরীক্ষায় বসছে। মোট ১৮ লাখ ৫৭ হাজার ৩৪৪ জন পরীক্ষার্থীর মধ্যে ছাত্র ৯ লাখ ৩০ হাজার ৩০৫ জন এবং ছাত্রী ৯ লাখ ২৭ হাজার ৩৯ জন। সাধারণ শিক্ষা বোর্ডগুলোর মধ্যে ঢাকা বোর্ডে সর্বাধিক ৩ লাখ ৬৬ হাজার ৬৫০ জন এবং সিলেট বোর্ডে সবচেয়ে কম ৮৯ হাজার ৪২১ জন পরীক্ষার্থী অংশ নিচ্ছে। বিভাগভিত্তিক পরিসংখ্যানে দেখা গেছে, বিজ্ঞানে ৫ লাখ ৬৯ হাজার ৭৬৩ জন, মানবিকে ৬ লাখ ২৭ হাজার ৪৫১ জন এবং ব্যবসায় শিক্ষা বিভাগে ২ লাখ ২১ হাজার ১৮৪ জন শিক্ষার্থী রয়েছে। উল্লেখযোগ্য বিষয় হলো, বিজ্ঞান ও মানবিক উভয় বিভাগেই ছাত্রদের তুলনায় ছাত্রীদের অংশগ্রহণ বেশি।

পরীক্ষা স্বচ্ছ ও প্রভাবমুক্ত করতে শিক্ষা প্রশাসন থেকে ‘জিরো টলারেন্স’ নীতি গ্রহণ করা হয়েছে। প্রতিটি কেন্দ্রের হলরুম সিসিটিভি ক্যামেরার আওতায় আনা হয়েছে, যা কেন্দ্র সচিবের কক্ষের পাশাপাশি বোর্ড থেকেও ডিজিটাল পদ্ধতিতে মনিটরিং করা হবে। কেন্দ্রের ২০০ গজের মধ্যে ১৪৪ ধারা জারি করাসহ বহিরাগতদের প্রবেশ নিষিদ্ধ করা হয়েছে। প্রশ্নপত্র ফাঁস রোধে বিশেষ লকিং সিস্টেম ও ডিজিটাল ট্র্যাকিং ব্যবহার করছে কর্তৃপক্ষ। ঢাকা শিক্ষা বোর্ডের পরীক্ষা নিয়ন্ত্রক প্রফেসর এস এম কামাল উদ্দিন হায়দার জানিয়েছেন, মেধার লড়াই যেন কেবল কলম আর মগজেই সীমাবদ্ধ থাকে, তা নিশ্চিত করতে বিশেষ ভিজিল্যান্স টিম কাজ করছে।

এবারের পরীক্ষা ঘিরে সবচেয়ে বড় আলোচনার বিষয় হয়ে দাঁড়িয়েছে শিক্ষামন্ত্রী ড. আ ন ম এহছানুল হক মিলনের সম্ভাব্য ‘সারপ্রাইজ ভিজিট’। অতীতে নকল বিরোধী অভিযানে তার কঠোর অবস্থানের কারণে ‘হেলিকপ্টার মিলন’ হিসেবে পরিচিতি পাওয়া এই মন্ত্রী যেকোনো মুহূর্তে যেকোনো কেন্দ্রে ঝটিকা অভিযানে হাজির হতে পারেন বলে গুঞ্জন রয়েছে। শিক্ষামন্ত্রী জানিয়েছেন, এবারের ব্যাচটি করোনা পরিস্থিতির কারণে প্রাথমিক ও জুনিয়র বৃত্তি পরীক্ষা দিতে পারেনি, তাই তাদের জন্য হলরুম যেন পরীক্ষার্থীবান্ধব থাকে সেদিকে বিশেষ নজর দেওয়া হয়েছে।

প্রধানমন্ত্রীর শিক্ষা উপদেষ্টা মাহদী আমিনও পরীক্ষার্থীদের আতঙ্কিত না হওয়ার পরামর্শ দিয়েছেন। তিনি জানান, সরকার ‘পরীক্ষা ভীতি’ শব্দটিকে বিদায় দিয়ে একটি আনন্দময় পরিবেশ নিশ্চিত করতে চায়। শিক্ষার্থীদের জন্য কেন্দ্রে নিরাপদ পানি, পর্যাপ্ত আলো-বাতাস এবং নিরবচ্ছিন্ন বিদ্যুৎ সরবরাহের জন্য স্থানীয় প্রশাসনকে কড়া নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। বিশেষ করে ছাত্রীদের যাতায়াত নির্বিঘ্ন রাখতে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীকে সতর্ক থাকতে বলা হয়েছে।

 

Share this news as a Photo Card