জাতীয় শিক্ষাক্রম ও পাঠ্যপুস্তক বোর্ড (এনসিটিবি) ২০২৬ সালের এসএসসি ও সমমানের পরীক্ষার জন্য প্রশ্ন কাঠামো ও নম্বর বিভাজনে গুরুত্বপূর্ণ পরিবর্তন এনেছে। শিক্ষার্থীদের বাস্তবমুখী জ্ঞান যাচাই ও সমসাময়িক শিক্ষাব্যবস্থার সঙ্গে সামঞ্জস্য রাখতে এই সিদ্ধান্ত গ্রহণ করা হয়েছে। নতুন নিয়ম বাংলা, তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি (আইসিটি) এবং ফিন্যান্স ও ব্যাংকিং—এই তিনটি বিষয়ে প্রযোজ্য হবে।
বাংলা দ্বিতীয় পত্রে সবচেয়ে বড় পরিবর্তন এসেছে। এতদিন পর্যন্ত রচনামূলক অংশে অনুবাদ প্রশ্ন থাকলেও এবার থেকে তা বাদ দেওয়া হয়েছে। এর পরিবর্তে সংবাদ প্রতিবেদন অংশের জন্য ১০ নম্বর নির্ধারণ করা হয়েছে। শিক্ষার্থীদের ভাষাগত দক্ষতা, বিশ্লেষণ ক্ষমতা ও সংবাদ উপস্থাপনার কৌশল যাচাই করতেই এ পরিবর্তন করা হয়েছে বলে জানায় এনসিটিবি।
তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি (আইসিটি) বিষয়ে সংক্ষিপ্ত প্রশ্ন পুরোপুরি বাতিল করা হয়েছে। আগে বহুনির্বাচনী অংশের নম্বর তুলনামূলকভাবে কম ছিল, কিন্তু নতুন কাঠামোতে তা বাড়িয়ে ২৫ নম্বরে উন্নীত করা হয়েছে। এর ফলে শিক্ষার্থীদের ধারণাগত বোঝাপড়া ও দ্রুত সিদ্ধান্ত নেওয়ার দক্ষতা যাচাই করা হবে বহুনির্বাচনী প্রশ্নের মাধ্যমে।
অন্যদিকে ফিন্যান্স ও ব্যাংকিং বিষয়ে সংক্ষিপ্ত প্রশ্নের ধরনে পরিবর্তন আনা হয়েছে। ফিন্যান্স অংশ থেকে থাকবে ৮টি এবং ব্যাংকিং অংশ থেকে ৭টি সংক্ষিপ্ত প্রশ্ন। মোট ১৫টি প্রশ্নের মধ্যে শিক্ষার্থীদের যেকোনো ১০টির উত্তর দিতে হবে। তবে শর্ত হলো—প্রতিটি বিভাগ থেকে কমপক্ষে ৪টি করে প্রশ্নের উত্তর অবশ্যই দিতে হবে। অর্থাৎ, শিক্ষার্থীদের উভয় অংশের ওপর সমান মনোযোগ দিতে হবে।
শিক্ষা বিশেষজ্ঞরা বলছেন, এসব পরিবর্তন শিক্ষার্থীদের পড়াশোনার ধরণে বৈপ্লবিক প্রভাব ফেলবে। একদিকে মুখস্থ নির্ভরতা কমবে, অন্যদিকে বাস্তব ও বিশ্লেষণধর্মী প্রশ্নে দক্ষতা বাড়বে। তবে শিক্ষার্থীদের নতুন কাঠামোর সঙ্গে দ্রুত খাপ খাওয়াতে শিক্ষক ও অভিভাবকদেরও সচেতন ভূমিকা নিতে হবে।
এনসিটিবি জানিয়েছে, নতুন পরীক্ষার নিয়ম অনুযায়ী প্রশ্নপত্র তৈরি করা হবে এবং সময়মতো শিক্ষক ও শিক্ষার্থীদের জন্য নির্দেশিকা পাঠানো হবে। ফলে শিক্ষার্থীরা পর্যাপ্ত সময় পাবে প্রস্তুতি নেওয়ার জন্য।
স্টাফ রিপোর্টার 





















