নেত্রকোনার কেন্দুয়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. তরিকুল ইসলামের বক্তব্যের প্রতিবাদে মদন উপজেলার জালিয়ার হাওরে মানববন্ধন করেছেন কৃষকরা। একই সঙ্গে জালিয়ার হাওরের বেড়িবাঁধ কেটে পানি বের করে দেওয়া এবং ১৫ থেকে ২০টি ইঞ্জিনচালিত ট্রলারে দেশীয় বিভিন্ন অস্ত্র নিয়ে হাওরে প্রবেশ করে প্রায় ৫৫ লাখ টাকার মাছের ক্ষতি ও লুটের অভিযোগকে মিথ্যা ও বানোয়াট দাবি করে এর প্রতিবাদ জানান তারা।
শনিবার (১৯ সেপ্টেম্বর) দুপুরে প্রখর রোদের মধ্যে প্রায় এক ঘণ্টাব্যাপী এ মানববন্ধন অনুষ্ঠিত হয়।
মানববন্ধনে বক্তারা বলেন, বর্ণী নদীর পশ্চিমাংশে জালিয়ার হাওরের কালারিয়া এলাকায় দুই মৌজায় প্রায় ৪০ শতাংশ জমির মালিক মদন উপজেলার নোয়াগাঁও গ্রামের বাসিন্দারা। আমন ধান রোপণের জন্য প্রতিবছর নদীর সঙ্গে সংযোগ রেখে একটি নালা তৈরি করা হয়। ওই নালা দিয়ে জমিতে জমে থাকা কচুরিপানা সরানো এবং বোরো মৌসুমে জমির পানি নিষ্কাশন করা হয়।
বক্তারা বলেন, গত ১৬ সেপ্টেম্বর নোয়াগাঁও গ্রামের ছদ্দু মিয়াকে প্রধান আসামি করে অজ্ঞাতনামা ১৫০ থেকে ২০০ জনকে অভিযুক্ত করে কেন্দুয়া থানায় লিখিত অভিযোগ করেন কেন্দুয়া উপজেলার মামুদপুর গ্রামের আলী আহমেদ খান। তবে জমি সংক্রান্ত বিষয় নিয়ে বক্তব্য দেওয়ার এখতিয়ার উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) বা সহকারী কমিশনার (ভূমি)-এর। কার জমি কোথায় রয়েছে, তা সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের মাধ্যমে নির্ধারণ করার দাবি জানান তারা।
ওসিসহ এ ঘটনায় বক্তব্য দেওয়া ব্যক্তিদের কিছু বক্তব্যকে ‘মনগড়া, মিথ্যা ও বানোয়াট’ দাবি করে এর প্রতিবাদ জানান বক্তারা।
মানববন্ধনে বক্তব্য দেন শরিফুল ইসলাম শওকত (আকাব্বর), আব্দুস সামাদ মিল্টন, সাবেক ইউপি চেয়ারম্যান মুসলিম উদ্দিন, আবু সাহেদ আলী, শামছুল হক মুন্সী ও সাবেক ইউপি সদস্য নজরুল ইসলামসহ অনেকে।
কেন্দুয়া থানার ওসি মো. তরিকুল ইসলাম বলেন, এ বিষয়ে তিনি একটি লিখিত অভিযোগ পেয়েছেন। অভিযোগের পরিপ্রেক্ষিতে ঘটনাস্থল পরিদর্শনও করেছেন। বিষয়টি নিয়ে মদন থানার ওসি ও সংশ্লিষ্ট দলীয় নেতৃবৃন্দের সঙ্গে কথা বলার পরামর্শ দেন তিনি। তবে তাঁর বক্তব্যের প্রতিবাদে মদনে মানববন্ধন হয়েছে—এ বিষয়ে জানতে চাইলে তিনি কোনো মন্তব্য না করে ফোনের সংযোগ বিচ্ছিন্ন করে দেন।
কেন্দুয়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা সানজিদা চৌধুরী বলেন, ওসি কী বক্তব্য দিয়েছেন, তা তাঁর জানা নেই। তবে বিষয়টি নিয়ে মদন উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার সঙ্গে কথা বলে সার্ভেয়ারের মাধ্যমে দুই উপজেলার সীমানা নির্ধারণ করা হবে।
মদন উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা নাদির হোসেন শামীম বলেন, এ বিষয়ে কেন্দুয়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার সঙ্গে কথা বলে দুই উপজেলার সীমানা-সংক্রান্ত বিষয়টি সমাধানের চেষ্টা করা হবে।
মদন (নেত্রকোনা) প্রতিনিধি 



















