নেত্রকোনার মদনে ছোট বোনকে ছুরিকাঘাত করে বড় বোনকে অপহরণের ঘটনার ২৪ ঘণ্টার মধ্যে বৃষ্টি আক্তার (১৭) নামের এক কিশোরীকে উদ্ধার করেছে পুলিশ। বুধবার রাত ১১টার দিকে নেত্রকোনা জেলা বাস টার্মিনাল থেকে তাকে উদ্ধার করা হয়। তবে এ ঘটনায় অভিযুক্ত শিহাব মিয়াকে (২৪) গ্রেপ্তার করতে পারেনি পুলিশ। বৃহস্পতিবার সন্ধ্যায় মদন থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) সালাউদ্দিন করিম বিষয়টি নিশ্চিত করেন।
পুলিশ ও মামলার সূত্রে জানা গেছে, মঙ্গলবার দুপুর সাড়ে ১২টার দিকে মদন উপজেলা প্রেসক্লাবের সামনে এ ঘটনা ঘটে। বৃষ্টি আক্তার তাঁর ছোট বোন শ্রাবন্তী আক্তার (১৩) ও ভাতিজা ইমরানকে (৪) নিয়ে মদন সদরে আসেন। বৃষ্টি মদন আদর্শ কারিগরি ও বাণিজ্য কলেজে নবম শ্রেণির ফরম পূরণের জন্য এসেছিলেন। উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের দিকে যাওয়ার সময় প্রেসক্লাবের সামনে শিহাব শ্রাবন্তীকে ছুরিকাঘাত করে বৃষ্টিকে নিয়ে চলে যান বলে অভিযোগ করা হয়।
পরে বৃষ্টির বড় ভাই সাগর মিয়া শিহাব মিয়ার নাম উল্লেখ করে মদন থানায় অপহরণের মামলা করেন। মামলার পর পুলিশ অভিযান চালিয়ে বুধবার রাতে নেত্রকোনা জেলা বাস টার্মিনাল থেকে বৃষ্টিকে উদ্ধার করে।
পুলিশের প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে বৃষ্টি জানান, শিহাবের সঙ্গে তাঁর দীর্ঘদিনের প্রেমের সম্পর্ক ছিল এবং তিনি স্বেচ্ছায় তাঁর সঙ্গে চলে গিয়েছিলেন। পুলিশ জানায়, বৃষ্টি ও শিহাব পরস্পর খালাতো ভাই-বোন। প্রায় দুই বছর আগে তাঁদের দুই পরিবার চট্টগ্রামে থাকাকালে বৃষ্টি শিহাবদের বাসায় থাকতেন। তখন তাঁদের মধ্যে সম্পর্ক গড়ে ওঠে। পরে পারিবারিকভাবে বিয়ের আলোচনা হলেও মেয়ের পরিবারের সম্মতি না থাকায় তা হয়নি।
মদন থানার ওসি সালাউদ্দিন করিম বলেন, ‘অপহরণের ২৪ ঘণ্টার মধ্যেই ভিকটিমকে উদ্ধার করা হয়েছে। বর্তমানে তিনি পুলিশ হেফাজতে রয়েছেন। শিহাবের বিরুদ্ধে নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইনে মামলা হয়েছে। তাঁকে গ্রেপ্তারের চেষ্টা চলছে।’
অভিযুক্ত শিহাব মিয়া মদন দক্ষিণপাড়ার আবুল হাসানের ছেলে। তিনি ঘটনার পর থেকে পলাতক রয়েছেন।
মদন (নেত্রকোনা) প্রতিনিধি 


















