০৫:৪১ পূর্বাহ্ন, রবিবার, ০৮ নভেম্বর ২০২৬, ২৩ কার্তিক ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

আটপাড়ায় স্কুলে ঢুকে ছাত্রদল-যুবদল নেতার বিরুদ্ধে প্রধান শিক্ষককে মারধরের অভিযোগ

 

নেত্রকোনার আটপাড়ায় স্কুলের ভেতরে ঢুকে এক প্রধান শিক্ষককে মারধরের অভিযোগ উঠেছে স্থানীয় যুবদল ও ছাত্রদল নেতার বিরুদ্ধে।

 

বুধবার (২৩ জুলাই) দুপুরে ১টায় উপজেলার অভয়পাশা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে এ ঘটনা ঘটে।

 

ভুক্তভোগী শিক্ষক বর্তমানে নেত্রকোনা সদর হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছেন।

 

অভিযোগে জানা যায়, ওই বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক জাহাঙ্গীর আলম কয়েক দিন আগে যথাসময়ে স্কুলে উপস্থিত না হওয়ায় সহকারী শিক্ষক রুবি আক্তারকে শোকজ করেন। এ শোকজপত্র শিক্ষিকা রুবি আক্তার বাড়িতে নিলে তাঁর স্বামী কামাল কাগজটি দেখে বিষয়টি যুবদল নেতা হাফিজুর রহমান মিষ্টারকে জানায়।

 

পরে বুধবার দুপুর ১টার দিকে যুবদল নেতা হাফিজুর রহমান মিষ্টার ও উপজেলা ছাত্রদল সদস্য মুন্না খান শাহীন বিদ্যালয়ে প্রবেশ করে প্রধান শিক্ষককে প্রথমে ‘মহিলাদের ইভটিজিং’ করার অভিযোগে হেনস্তা করেন।

 

একপর্যায়ে শাহীন নিজেকে সাংবাদিক পরিচয় দেন। প্রধান শিক্ষক উক্ত ঘটনার ভিডিও ধারণ করতে গেলে তারা বাধা দিয়ে পাঞ্জাবীর কলার ধরে বাইরে নিয়ে মারধর করা হয় বলে অভিযোগ করেন জাহাঙ্গীর আলম।

 

এ ঘটনার কিছুক্ষণ পর প্রধান শিক্ষকের স্ত্রী তাসলিমা কোহেন (সহকারী শিক্ষক, ছয়াশি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়) বিদ্যালয়ে গিয়ে ওই ঘটনার জন্য সহকারী শিক্ষক রুবি আক্তারকে চড় মারেন বলে জানা গেছে।

 

ভুক্তভোগী প্রধান শিক্ষক জাহাঙ্গীর আলম বলেন, “আমি নিয়মিত বিদ্যালয়ে উপস্থিতি ও শৃঙ্খলা বজায় রাখার দায়িত্ব পালন করি। সহকারী শিক্ষক রুবি আক্তার নিয়মিত স্কুলে দেরি করে আসছিলেন বলে তাঁকে নিয়ম মাফিক শোকজ করা হয়। এটা কোনো ব্যক্তিগত বিষয় নয়, পুরোপুরি প্রাতিষ্ঠানিক ব্যাপার। বুধবার স্কুল চলাকালীন হঠাৎ হাফিজুর মিষ্টার ও মুন্না খান শাহীন স্কুলে এসে আমাকে উল্টো ‘মহিলা শিক্ষকদের ইভটিজিং’-এর মতো মিথ্যা অভিযোগে অপমান করে। আমি যখন বিষয়টি ভিডিও করতে চেয়েছিলাম, তখন তারা আমাকে কলার ধরে বাইরে নিয়ে গিয়ে মারধর করে। আমি এর সুষ্ঠু বিচার চাই।”

 

ঘটনার বিষয়ে অভিযুক্ত ছাত্রদল নেতা মুন্না খান শাহীনের সঙ্গে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তিনি ফোন রিসিভ করেননি।

 

অপর অভিযুক্ত যুবদল নেতা হাফিজুর রহমান মিষ্টার সাংবাদিকদের বলেন, “রুবি আক্তার আমার চাচী। প্রধান শিক্ষক বেশ কিছুদিন ধরে তাঁকে অশালীন প্রস্তাব দিচ্ছিলেন। আমি এ বিষয়ে জানতে গিয়েছিলাম। তিনি উল্টো ক্ষিপ্ত হয়ে ওঠেন। কোনো মারধরের ঘটনা ঘটেনি। বরং এর আগেও ওই শিক্ষক অন্য এক নারী সহকর্মীকেও কুপ্রস্তাব দিয়ে হয়রানি করেছিলেন, যা পরে মিমাংসা করে দেওয়া হয়।”

 

এ বিষয়ে উপজেলা সহকারী শিক্ষা অফিসার আহসান উল্লাহ মুকুল বলেন, “আমি ঘটনাস্থলে গিয়ে প্রধান শিক্ষকের পাঞ্জাবি ছেঁড়া অবস্থায় দেখেছি। মারধরের ব্যাপারে নিশ্চিত না হলেও শিক্ষক রুবিকে শোকজ করা হয়েছিল, সেটি জানি। তবে কোনো নারী শিক্ষক আমার কাছে শ্লীলতাহানির বা কুপ্রস্তাব এর লিখিত বা মৌখিক অভিযোগ করেননি।”

 

আটপাড়া থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মোহাম্মদ আশরাফুজ্জামান বলেন, “ঘটনার খবর পেয়ে পুলিশ পাঠানো হয়েছে। শুনেছি প্রধান শিক্ষককে মিষ্টার ও শাহীন নামে দুইজন ব্যক্তি মারধর করেছে। এখনো কোনো লিখিত অভিযোগ পাইনি। অভিযোগ পেলে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”

 

Share this news as a Photo Card

ট্যাগ :
অধিক পঠিত

প্রয়োজনে বিমান টিকিট দেব, তবুও দেশে আসুন: হাসিনাকে তথ্য প্রতিমন্ত্রী

জাতীয় হিফজ প্রতিযোগিতায় দেশসেরা দুই হাফেজ, নকলায় রাজকীয় সংবর্ধনা

06 November 2026
« « « বিস্তারিত কমেন্টে » » »
www.dailybexpress.com

আটপাড়ায় স্কুলে ঢুকে ছাত্রদল-যুবদল নেতার বিরুদ্ধে প্রধান শিক্ষককে মারধরের অভিযোগ

পোষ্টের সময় : ১০:২০:১৫ অপরাহ্ন, বুধবার, ২৩ জুলাই ২০২৫

 

নেত্রকোনার আটপাড়ায় স্কুলের ভেতরে ঢুকে এক প্রধান শিক্ষককে মারধরের অভিযোগ উঠেছে স্থানীয় যুবদল ও ছাত্রদল নেতার বিরুদ্ধে।

 

বুধবার (২৩ জুলাই) দুপুরে ১টায় উপজেলার অভয়পাশা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে এ ঘটনা ঘটে।

 

ভুক্তভোগী শিক্ষক বর্তমানে নেত্রকোনা সদর হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছেন।

 

অভিযোগে জানা যায়, ওই বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক জাহাঙ্গীর আলম কয়েক দিন আগে যথাসময়ে স্কুলে উপস্থিত না হওয়ায় সহকারী শিক্ষক রুবি আক্তারকে শোকজ করেন। এ শোকজপত্র শিক্ষিকা রুবি আক্তার বাড়িতে নিলে তাঁর স্বামী কামাল কাগজটি দেখে বিষয়টি যুবদল নেতা হাফিজুর রহমান মিষ্টারকে জানায়।

 

পরে বুধবার দুপুর ১টার দিকে যুবদল নেতা হাফিজুর রহমান মিষ্টার ও উপজেলা ছাত্রদল সদস্য মুন্না খান শাহীন বিদ্যালয়ে প্রবেশ করে প্রধান শিক্ষককে প্রথমে ‘মহিলাদের ইভটিজিং’ করার অভিযোগে হেনস্তা করেন।

 

একপর্যায়ে শাহীন নিজেকে সাংবাদিক পরিচয় দেন। প্রধান শিক্ষক উক্ত ঘটনার ভিডিও ধারণ করতে গেলে তারা বাধা দিয়ে পাঞ্জাবীর কলার ধরে বাইরে নিয়ে মারধর করা হয় বলে অভিযোগ করেন জাহাঙ্গীর আলম।

 

এ ঘটনার কিছুক্ষণ পর প্রধান শিক্ষকের স্ত্রী তাসলিমা কোহেন (সহকারী শিক্ষক, ছয়াশি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়) বিদ্যালয়ে গিয়ে ওই ঘটনার জন্য সহকারী শিক্ষক রুবি আক্তারকে চড় মারেন বলে জানা গেছে।

 

ভুক্তভোগী প্রধান শিক্ষক জাহাঙ্গীর আলম বলেন, “আমি নিয়মিত বিদ্যালয়ে উপস্থিতি ও শৃঙ্খলা বজায় রাখার দায়িত্ব পালন করি। সহকারী শিক্ষক রুবি আক্তার নিয়মিত স্কুলে দেরি করে আসছিলেন বলে তাঁকে নিয়ম মাফিক শোকজ করা হয়। এটা কোনো ব্যক্তিগত বিষয় নয়, পুরোপুরি প্রাতিষ্ঠানিক ব্যাপার। বুধবার স্কুল চলাকালীন হঠাৎ হাফিজুর মিষ্টার ও মুন্না খান শাহীন স্কুলে এসে আমাকে উল্টো ‘মহিলা শিক্ষকদের ইভটিজিং’-এর মতো মিথ্যা অভিযোগে অপমান করে। আমি যখন বিষয়টি ভিডিও করতে চেয়েছিলাম, তখন তারা আমাকে কলার ধরে বাইরে নিয়ে গিয়ে মারধর করে। আমি এর সুষ্ঠু বিচার চাই।”

 

ঘটনার বিষয়ে অভিযুক্ত ছাত্রদল নেতা মুন্না খান শাহীনের সঙ্গে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তিনি ফোন রিসিভ করেননি।

 

অপর অভিযুক্ত যুবদল নেতা হাফিজুর রহমান মিষ্টার সাংবাদিকদের বলেন, “রুবি আক্তার আমার চাচী। প্রধান শিক্ষক বেশ কিছুদিন ধরে তাঁকে অশালীন প্রস্তাব দিচ্ছিলেন। আমি এ বিষয়ে জানতে গিয়েছিলাম। তিনি উল্টো ক্ষিপ্ত হয়ে ওঠেন। কোনো মারধরের ঘটনা ঘটেনি। বরং এর আগেও ওই শিক্ষক অন্য এক নারী সহকর্মীকেও কুপ্রস্তাব দিয়ে হয়রানি করেছিলেন, যা পরে মিমাংসা করে দেওয়া হয়।”

 

এ বিষয়ে উপজেলা সহকারী শিক্ষা অফিসার আহসান উল্লাহ মুকুল বলেন, “আমি ঘটনাস্থলে গিয়ে প্রধান শিক্ষকের পাঞ্জাবি ছেঁড়া অবস্থায় দেখেছি। মারধরের ব্যাপারে নিশ্চিত না হলেও শিক্ষক রুবিকে শোকজ করা হয়েছিল, সেটি জানি। তবে কোনো নারী শিক্ষক আমার কাছে শ্লীলতাহানির বা কুপ্রস্তাব এর লিখিত বা মৌখিক অভিযোগ করেননি।”

 

আটপাড়া থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মোহাম্মদ আশরাফুজ্জামান বলেন, “ঘটনার খবর পেয়ে পুলিশ পাঠানো হয়েছে। শুনেছি প্রধান শিক্ষককে মিষ্টার ও শাহীন নামে দুইজন ব্যক্তি মারধর করেছে। এখনো কোনো লিখিত অভিযোগ পাইনি। অভিযোগ পেলে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”

 

Share this news as a Photo Card