০৭:০৮ পূর্বাহ্ন, রবিবার, ০৮ নভেম্বর ২০২৬, ২৪ কার্তিক ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

গৌরীপুরের শালীহর বধ্যভূমি ধুয়ে মুছে শহীদদের রাষ্ট্রীয় স্বীকৃতির দাবি জানাল ছাত্রদল

 

১৯৭১ সালে ২১ ময়মনসিংহের গৌরীপুরের শালীহর গ্রামে পাকবাহিনীর গণহত্যায় ১৪ জন শহীদ হন। স্বাধীনতার ৫৪ বছর পার হলেও শহীদ পরিবারগুলোর রাষ্ট্রীয় স্বীকৃতি মেলেনি। এমনকি শহীদদের স্মরণে শালীহর বধ্যভূমিতে নির্মিত স্মৃতিসৌধটিও অযত্ন-অবহেলায় বেহাল হয়ে পড়ে আছে।

 

শালীহর গণহত্যা দিবসের ৫৪ বছর পূর্তি উপলক্ষে ময়লা-আবর্জনা ও জঞ্জালে ভরা স্মৃতিসৌধটি ধুয়ে-মুছে পরিষ্কার করে নতুন রুপ দিয়েছেন গৌরীপুর উপজেলার ছাত্রদলের নেতা-কর্মীরা। পাশাপাশি মহান মুক্তিযুদ্ধের ২১ আগস্ট শালীহর গণহত্যায় শহীদদের রাষ্ট্রীয় স্বীকৃতির দাবিও জানিয়েছেন তারা। ২০ আগস্ট বুধবার স্বেচ্ছাশ্রমে ছাত্রদলের নেতা-কর্মীরা বধ্যভূমির চারপাশ ও স্মৃতিসৌধ পরিষ্কার পরিচ্ছন্ন করে নতুন রুপ দেন।

 

স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, ১৯৭১ সালের ২১ আগস্ট শালীহর গ্রামে পাকবাহিনীর গণহত্যায় নবর আলী, মোহিনী মোহন কর, জ্ঞানেন্দ্র মোহন কর, যোগেশ চন্দ্র বিশ্বাস, কিরদা সুন্দরী, শচীন্দ্র চন্দ্র বিশ্বাস, তারিনীকান্ত বিশ্বাস, দেবেন্দ্র চন্দ্র নম দাস, খৈলাস চন্দ্র নম দাস, শত্রুগ্ন নম দাস, রামেন্দ্র চন্দ্র সরকার, অবনী মোহন সরকার, কামিনী কান্ত বিশ্বাস, রায় চরণ বিশ্বাসসহ ১৪ জন শহীদ হন। এছাড়াও ১৯৭১ সালের ১৬ মে মধু সূদন ধর ও ২১ আগস্ট ছাবেদ আলীকে শালীহর গ্রাম থেকে ধরে নিয়ে যায় পাকবাহিনী। পরে তাদের আর খোঁজ পাওয়া যায়নি।

 

২০২১ সালে শালীহর বধ্যভূমিতে গণপূর্ত ও গৃহায়ন অধিদপ্তরের উদ্যোগে দৃষ্টিনন্দন স্মৃতি সৌধ নির্মাণ করা হয়। প্রতিবছর ২১ আগস্ট শালীহর গণহত্যা দিবসে এই স্মৃতিসৌধ স্থানীয় প্রশাসন, মুক্তিযোদ্ধা, শহীদ পরিবার সহ সর্বস্তরের মানুষজন শ্রদ্ধা নিবেদন করেন।

 

কিন্তু অযত্ন- অবহেলায় শালীহর বধ্যভূমি বেহাল হয়ে পড়ে আছে। সামীনা প্রাচীর না থাকায় বধ্যভূমিতে গরু-ছাগল চড়ানো হয়। স্মৃতিসৌধের ভেতর যত্রতত্র ময়লা-আবর্জনা ফেলা হয়। প্রয়োজনীয় রক্ষণাবেক্ষনের অভাবে স্মৃতিসৌধের চারপাশে আগাছার-জঞ্জাল হয়ে গেছে।

 

বধ্যভূমির বেহালদশার বিষয়টি ছাত্রদলের যুগ্ম আহ্বায়ক আবিদ হাসান রাহাতের নজড়ে আসার পর তিনি ছাত্রদলের নেতা-কর্মীদের নিয়ে স্বেচ্ছাশ্রমে বধ্যভূমি পরিষ্কার-পরিচ্ছন্ন করার উদ্যোগ নেন।

 

বুধবার দুপুর থেকে সন্ধ্যা পর্যন্ত ছাত্রদলের নেতা-কর্মীরা ধুয়ে-মুছে স্মৃতিসৌধটি পরিষ্কার করেন। পরিষ্কার করেন চারপাশে আগাছার-জঞ্জাল। এরপর শালীহর গণহত্যায় প্রত্যেকজন শহীদদের স্মরণে একটি বৃক্ষরোপণ করেন বধ্যভূমিতে।

 

উপজেলা ছাত্রদলের সদস্য শাহীনুল ইসলাম হৃদয় বলেন, স্বাধীনতার ৫৪ বছর পেরিয়ে গেলেও শালীহর গণহত্যায় শহীদদের পরিবার রাষ্ট্রীয় স্বীকৃতি পায়নি। অনেক শহীদ পরিবার মানবেতর জীবনযাপন করছি। সরকার যেন শহীদ পরিবাগুলোকে রাষ্ট্রীয় স্বাকৃতি দেয়ার পাশাপাশি অসহায় শহীদ পরিবারগুলোর পাশে দাঁড়ায়। আজকের কর্মসূচি থেকে আমরা সরকারের কাছে এই দাবি জানাচ্ছি।

 

উপজেলা ছাত্রদলের যুগ্ম আহ্বায়ক আবিদ হাসান রাহাত বলেন, শালীহর বধ্যভূমির জায়গাটি সংরক্ষিত হলেও সুরক্ষিত নয়। অযত্ন- অবহেলায় স্থানটি বেহাল হয়ে পড়ে আছে। ২১ আগস্ট শালীহর গণহত্যার ৫৪ বছর পূর্তিতে এখানে সর্বস্তরের মানুষ শ্রদ্ধা নিবেদন করবে। আমরা পরিষ্কার-পরিচ্ছন্ন করে জায়গাটি সুন্দর রুপ দেয়ার চেষ্টা করেছি। শালীহর গণহত্যায় প্রত্যেক শহীদদের নামে একটি করে গাছ রোপণ করেছি বধ্যভূমিতে। প্রশাসনের কাছে দাবি সামীনা প্রাচীর নির্মাণ করে মুক্তিযুদ্ধের স্মৃতি বিজড়িত জায়গাটি সরকারি ভাবে সৌন্দর্যবর্ধন করে সরকারি ভাবে রক্ষণাবেক্ষণ করা হোক।

 

উপজেলা নির্বাহী অফিসার মিজ আফিয়া আমিন পাপ্পা বলেন, শালীহর বধ্যভূমিটি সংস্কার করে সৌন্দর্যবর্ধন করার বিষয়টি ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে জানানো হয়েছে। বরাদ্দ পেলেই উদ্যোগ নেয়া হবে। পাশাপাশি শহীদ পরিবারের সদস্যদের তথ্য যাচাই-বাছাই করে রাষ্ট্রীয় স্বীকৃতির বিষয়েও উদ্যোগ নেয়া হবে।

 

Share this news as a Photo Card

ট্যাগ :
অধিক পঠিত

প্রয়োজনে বিমান টিকিট দেব, তবুও দেশে আসুন: হাসিনাকে তথ্য প্রতিমন্ত্রী

জাতীয় হিফজ প্রতিযোগিতায় দেশসেরা দুই হাফেজ, নকলায় রাজকীয় সংবর্ধনা

06 November 2026
« « « বিস্তারিত কমেন্টে » » »
www.dailybexpress.com

গৌরীপুরের শালীহর বধ্যভূমি ধুয়ে মুছে শহীদদের রাষ্ট্রীয় স্বীকৃতির দাবি জানাল ছাত্রদল

পোষ্টের সময় : ১০:৫৪:২১ অপরাহ্ন, বুধবার, ২০ অগাস্ট ২০২৫

 

১৯৭১ সালে ২১ ময়মনসিংহের গৌরীপুরের শালীহর গ্রামে পাকবাহিনীর গণহত্যায় ১৪ জন শহীদ হন। স্বাধীনতার ৫৪ বছর পার হলেও শহীদ পরিবারগুলোর রাষ্ট্রীয় স্বীকৃতি মেলেনি। এমনকি শহীদদের স্মরণে শালীহর বধ্যভূমিতে নির্মিত স্মৃতিসৌধটিও অযত্ন-অবহেলায় বেহাল হয়ে পড়ে আছে।

 

শালীহর গণহত্যা দিবসের ৫৪ বছর পূর্তি উপলক্ষে ময়লা-আবর্জনা ও জঞ্জালে ভরা স্মৃতিসৌধটি ধুয়ে-মুছে পরিষ্কার করে নতুন রুপ দিয়েছেন গৌরীপুর উপজেলার ছাত্রদলের নেতা-কর্মীরা। পাশাপাশি মহান মুক্তিযুদ্ধের ২১ আগস্ট শালীহর গণহত্যায় শহীদদের রাষ্ট্রীয় স্বীকৃতির দাবিও জানিয়েছেন তারা। ২০ আগস্ট বুধবার স্বেচ্ছাশ্রমে ছাত্রদলের নেতা-কর্মীরা বধ্যভূমির চারপাশ ও স্মৃতিসৌধ পরিষ্কার পরিচ্ছন্ন করে নতুন রুপ দেন।

 

স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, ১৯৭১ সালের ২১ আগস্ট শালীহর গ্রামে পাকবাহিনীর গণহত্যায় নবর আলী, মোহিনী মোহন কর, জ্ঞানেন্দ্র মোহন কর, যোগেশ চন্দ্র বিশ্বাস, কিরদা সুন্দরী, শচীন্দ্র চন্দ্র বিশ্বাস, তারিনীকান্ত বিশ্বাস, দেবেন্দ্র চন্দ্র নম দাস, খৈলাস চন্দ্র নম দাস, শত্রুগ্ন নম দাস, রামেন্দ্র চন্দ্র সরকার, অবনী মোহন সরকার, কামিনী কান্ত বিশ্বাস, রায় চরণ বিশ্বাসসহ ১৪ জন শহীদ হন। এছাড়াও ১৯৭১ সালের ১৬ মে মধু সূদন ধর ও ২১ আগস্ট ছাবেদ আলীকে শালীহর গ্রাম থেকে ধরে নিয়ে যায় পাকবাহিনী। পরে তাদের আর খোঁজ পাওয়া যায়নি।

 

২০২১ সালে শালীহর বধ্যভূমিতে গণপূর্ত ও গৃহায়ন অধিদপ্তরের উদ্যোগে দৃষ্টিনন্দন স্মৃতি সৌধ নির্মাণ করা হয়। প্রতিবছর ২১ আগস্ট শালীহর গণহত্যা দিবসে এই স্মৃতিসৌধ স্থানীয় প্রশাসন, মুক্তিযোদ্ধা, শহীদ পরিবার সহ সর্বস্তরের মানুষজন শ্রদ্ধা নিবেদন করেন।

 

কিন্তু অযত্ন- অবহেলায় শালীহর বধ্যভূমি বেহাল হয়ে পড়ে আছে। সামীনা প্রাচীর না থাকায় বধ্যভূমিতে গরু-ছাগল চড়ানো হয়। স্মৃতিসৌধের ভেতর যত্রতত্র ময়লা-আবর্জনা ফেলা হয়। প্রয়োজনীয় রক্ষণাবেক্ষনের অভাবে স্মৃতিসৌধের চারপাশে আগাছার-জঞ্জাল হয়ে গেছে।

 

বধ্যভূমির বেহালদশার বিষয়টি ছাত্রদলের যুগ্ম আহ্বায়ক আবিদ হাসান রাহাতের নজড়ে আসার পর তিনি ছাত্রদলের নেতা-কর্মীদের নিয়ে স্বেচ্ছাশ্রমে বধ্যভূমি পরিষ্কার-পরিচ্ছন্ন করার উদ্যোগ নেন।

 

বুধবার দুপুর থেকে সন্ধ্যা পর্যন্ত ছাত্রদলের নেতা-কর্মীরা ধুয়ে-মুছে স্মৃতিসৌধটি পরিষ্কার করেন। পরিষ্কার করেন চারপাশে আগাছার-জঞ্জাল। এরপর শালীহর গণহত্যায় প্রত্যেকজন শহীদদের স্মরণে একটি বৃক্ষরোপণ করেন বধ্যভূমিতে।

 

উপজেলা ছাত্রদলের সদস্য শাহীনুল ইসলাম হৃদয় বলেন, স্বাধীনতার ৫৪ বছর পেরিয়ে গেলেও শালীহর গণহত্যায় শহীদদের পরিবার রাষ্ট্রীয় স্বীকৃতি পায়নি। অনেক শহীদ পরিবার মানবেতর জীবনযাপন করছি। সরকার যেন শহীদ পরিবাগুলোকে রাষ্ট্রীয় স্বাকৃতি দেয়ার পাশাপাশি অসহায় শহীদ পরিবারগুলোর পাশে দাঁড়ায়। আজকের কর্মসূচি থেকে আমরা সরকারের কাছে এই দাবি জানাচ্ছি।

 

উপজেলা ছাত্রদলের যুগ্ম আহ্বায়ক আবিদ হাসান রাহাত বলেন, শালীহর বধ্যভূমির জায়গাটি সংরক্ষিত হলেও সুরক্ষিত নয়। অযত্ন- অবহেলায় স্থানটি বেহাল হয়ে পড়ে আছে। ২১ আগস্ট শালীহর গণহত্যার ৫৪ বছর পূর্তিতে এখানে সর্বস্তরের মানুষ শ্রদ্ধা নিবেদন করবে। আমরা পরিষ্কার-পরিচ্ছন্ন করে জায়গাটি সুন্দর রুপ দেয়ার চেষ্টা করেছি। শালীহর গণহত্যায় প্রত্যেক শহীদদের নামে একটি করে গাছ রোপণ করেছি বধ্যভূমিতে। প্রশাসনের কাছে দাবি সামীনা প্রাচীর নির্মাণ করে মুক্তিযুদ্ধের স্মৃতি বিজড়িত জায়গাটি সরকারি ভাবে সৌন্দর্যবর্ধন করে সরকারি ভাবে রক্ষণাবেক্ষণ করা হোক।

 

উপজেলা নির্বাহী অফিসার মিজ আফিয়া আমিন পাপ্পা বলেন, শালীহর বধ্যভূমিটি সংস্কার করে সৌন্দর্যবর্ধন করার বিষয়টি ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে জানানো হয়েছে। বরাদ্দ পেলেই উদ্যোগ নেয়া হবে। পাশাপাশি শহীদ পরিবারের সদস্যদের তথ্য যাচাই-বাছাই করে রাষ্ট্রীয় স্বীকৃতির বিষয়েও উদ্যোগ নেয়া হবে।

 

Share this news as a Photo Card