শুক্রবার সকাল ৮টা থেকে শনিবার সকাল ৮টা পর্যন্ত (২৪ ঘণ্টায়) দেশের বিভিন্ন হাসপাতালে নতুন করে ৩৮২ জন ডেঙ্গু আক্রান্ত রোগী ভর্তি হয়েছেন। তবে এ সময় কোনো মৃত্যুর ঘটনা ঘটেনি। চলতি মাসে এ পর্যন্ত ডেঙ্গুতে আক্রান্ত হয়ে ৪৫ জনের মৃত্যু হয়েছে।
স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের হেলথ ইমার্জেন্সি অপারেশন সেন্টার ও কন্ট্রোল রুম থেকে প্রকাশিত এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এই তথ্য জানানো হয়। বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়েছে, গত ২৪ ঘণ্টায় হাসপাতালে ভর্তি রোগীদের মধ্যে বরিশাল বিভাগে ৭৮ জন, ঢাকা বিভাগের সিটির বাইরে ৬৬ জন, ডিএনসিসিতে ৫৮ জন, ডিএসসিসিতে ৭১ জন, চট্টগ্রাম বিভাগে ৭৬ জন, রাজশাহী বিভাগে ৭ জন, খুলনা বিভাগে ৫ জন এবং ময়মনসিংহ বিভাগে ২১ জন ভর্তি হয়েছেন।
এ বছর এখন পর্যন্ত ডেঙ্গুতে আক্রান্ত হয়ে মোট ১৬৭ জনের মৃত্যু হয়েছে। এদের মধ্যে ৮৬ জন পুরুষ এবং ৮১ জন নারী। সর্বাধিক মৃত্যুর ঘটনা ঘটেছে ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনে, যেখানে ৮৩ জন মারা গেছেন।
উল্লেখ্য, ২০২৪ সালে ডেঙ্গুতে আক্রান্ত হয়ে মোট ৫৭৫ জন মারা যান। ২০২৩ সালে এই সংখ্যা ছিল ১,৭০৫ জন। ২০২৩ সালে দেশে ডেঙ্গুতে আক্রান্ত হয়ে হাসপাতালে ভর্তি হয়েছিলেন মোট ৩,২১,১৭৯ জন।
বিশেষজ্ঞরা জানিয়েছেন, ডেঙ্গু নিয়ন্ত্রণে জনসচেতনতা বৃদ্ধি এবং পরিচ্ছন্নতা বজায় রাখা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। তিনি আরও জানান, রোগী যাতে দ্রুত সঠিক চিকিৎসা পান, সেজন্য হাসপাতালে পর্যাপ্ত বেড এবং চিকিৎসা সরঞ্জাম রাখা জরুরি।
স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের পক্ষ থেকে সাধারণ মানুষকে সতর্ক করা হয়েছে যে, পানি জমে থাকা এলাকায় মশার প্রজনন রোধ করতে হবে এবং ব্যক্তিগত সুরক্ষা ব্যবস্থা যেমন মশারি ব্যবহার, শরীরে মশার প্রতিরোধী লোশন প্রয়োগ ইত্যাদি অবলম্বন করতে হবে।
চলতি বছরই ডেঙ্গু আক্রান্ত হয়ে মৃত্যুর সংখ্যা আগের বছরের তুলনায় কিছুটা কম হলেও, এখনো পরিস্থিতি উদ্বেগজনক। বিশেষজ্ঞরা বলেছেন, দ্রুত সচেতনতা বৃদ্ধি এবং সরকারি উদ্যোগ ছাড়া ডেঙ্গু নিয়ন্ত্রণ করা সম্ভব নয়।
স্টাফ রিপোর্টার 





















