জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের চলমান অধিবেশনে অংশগ্রহণের ফাঁকে ভারতের বিরুদ্ধে কঠোর সমালোচনা করেছেন বাংলাদেশের প্রধান উপদেষ্টা ড. মুহাম্মদ ইউনূস। তিনি দাবি করেন, গত বছরের গণবিপ্লবকে ভারত ইতিবাচকভাবে গ্রহণ করেনি, বরং নেতিবাচক দৃষ্টিতে দেখেছে। এ কারণে দুই দেশের কূটনৈতিক সম্পর্ক বর্তমানে অস্বাভাবিক পরিস্থিতিতে পড়েছে।
ড. ইউনূস অভিযোগ করে বলেন, ভারত গণবিপ্লবকে ইচ্ছাকৃতভাবে ভিন্নভাবে তুলে ধরছে। আন্তর্জাতিক মহলে এটি ইসলামি আন্দোলন হিসেবে প্রচার করার চেষ্টা চলছে, যা সম্পূর্ণ ভিত্তিহীন। তিনি আরও জানান, ভারতের পক্ষ থেকে বিভিন্ন ধরনের ভুয়া তথ্য ও প্রোপাগান্ডা ছড়ানো হচ্ছে, যার ফলে বাংলাদেশের ভাবমূর্তি ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে।
প্রধান উপদেষ্টা বলেন, “ভারত এমন একজনকে আশ্রয় দিয়েছে, যিনি আমাদের জন্য সমস্যার উৎস।” তবে তিনি সরাসরি নাম উল্লেখ করেননি। তার মতে, এই ঘটনাই দুই দেশের পারস্পরিক আস্থায় আঘাত হেনেছে।
ড. ইউনূস ভারতের আঞ্চলিক ভূমিকাতেও প্রশ্ন তোলেন। তিনি বলেন, দক্ষিণ এশীয় আঞ্চলিক সহযোগিতা সংস্থা (সার্ক) কার্যত অচল হয়ে আছে মূলত ভারতের কারণে। দীর্ঘদিন ধরে গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্ত গ্রহণে কোনো ঐক্যমত গড়ে ওঠেনি। ফলে এই আঞ্চলিক প্ল্যাটফর্ম কার্যকর ভূমিকা রাখতে ব্যর্থ হচ্ছে।
একইসঙ্গে তিনি ইঙ্গিত দেন যে বাংলাদেশ বিকল্প আঞ্চলিক সহযোগিতার পথ খুঁজছে। বিশেষ করে দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার আসিয়ান (ASEAN) জোটে যোগদানের প্রতি বাংলাদেশ আগ্রহী। তার মতে, আসিয়ানের সঙ্গে অর্থনৈতিক ও কৌশলগত সম্পর্ক জোরদার হলে বাংলাদেশের জন্য নতুন সুযোগ তৈরি হবে।
জাতিসংঘ অধিবেশনের প্রেক্ষাপটে প্রধান উপদেষ্টার এ বক্তব্য আন্তর্জাতিক মহলে নতুন আলোচনার জন্ম দিয়েছে। বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, ভারতকে প্রকাশ্যে সমালোচনা করার মাধ্যমে ঢাকা–দিল্লি সম্পর্ক আরও সংকটে পড়তে পারে। তবে অন্যদিকে, বাংলাদেশ বিকল্প আঞ্চলিক প্ল্যাটফর্মে অংশগ্রহণে আগ্রহ দেখালে তা ভবিষ্যৎ কূটনৈতিক কৌশলের নতুন দিক উন্মোচন করতে পারে।
আন্তর্জাতিক ডেস্ক 





















