সনাতন ধর্মাবলম্বীদের সবচেয়ে বড় উৎসব দুর্গাপূজা শুরু হয়েছে। উৎসব মানেই বাঙালির ঘরে ঘরে আনন্দ, খাবার ও অতিথি আপ্যায়ন। পূজার ভোজে বিভিন্ন ধরনের মিষ্টান্ন যেমন নাড়ু, মোয়া, পায়েস, সন্দেশ অপরিহার্য। বিশেষ করে নারকেলের নাড়ু ও নারকেল গুড়ের সন্দেশ ছাড়া পূজার স্বাদ যেন অসম্পূর্ণ থেকে যায়। মন্দির ও পূজার আচার-অনুষ্ঠানেও নারকেলের গুরুত্ব অপরিসীম।
এই সময় বাজারে নারকেল ও গুড়ের চাহিদা অন্যান্য সময়ের তুলনায় কয়েক গুণ বেড়ে যায়। এতে স্বাভাবিকভাবেই দামও তীব্রভাবে বাড়ছে। দিনাজপুরের ফুলবাড়ী পৌর শহরসহ বিভিন্ন হাটবাজারে সাজানো নারকেলের পসরা ক্রেতাদের ভিড় দেখে বোঝা যাচ্ছে। কিন্তু আকাশচুম্বী দাম মধ্যবিত্ত ও নিম্নবিত্ত ক্রেতাদের নাগালের বাইরে রেখে দিয়েছে।
গত বছর পূজার সময় এক জোড়া নারকেলের দাম ছিল ১৫০ থেকে ২০০ টাকা। এ বছর তা বেড়ে দাঁড়িয়েছে ২৬০ থেকে ৩৫০ টাকায়। অর্থাৎ প্রতিটি নারকেলের দাম ১৩০ থেকে ১৭৫ টাকা পর্যন্ত বৃদ্ধি পেয়েছে। তদ্রূপ, গুড়ের দামও বেড়েছে। যেখানে গত বছর কেজি প্রতি গুড় ৮০-৯০ টাকায় বিক্রি হতো, এবার তা ১১০-১২০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে।
বিক্রেতাদের তথ্য অনুযায়ী, পূজার মরশুমে গুড় এবং ঝুনা নারকেলের চাহিদা প্রায় দ্বিগুণ বৃদ্ধি পায়। খুচরা বিক্রেতারা জানাচ্ছেন, নারকেল মূলত খুলনা, ভোলা, বরিশাল ও নোয়াখালী থেকে আসে। চাহিদা বেশি থাকায় দামও বেড়ে যায়, ফলে ক্রেতা কম হয়ে যাচ্ছে।
ক্রেতারা জানান, দাম যতই বেশি হোক, পূজায় নারকেল ও গুড় কিনতেই হয়। আত্মীয়-স্বজন আগমনে মিষ্টিজাতীয় খাবারের জন্য নারকেল অপরিহার্য। অল্প টাকা খরচ করেও মানুষ পূজার আয়োজনে নারকেল-গুড় কেনাকে গুরুত্বপূর্ণ মনে করছেন।
উৎসবের মরশুমে এই দামের ওঠাপড়া এবং চাহিদার চাপই বাজারের প্রধান বৈশিষ্ট্য হয়ে উঠেছে, যা ক্রেতা ও বিক্রেতা উভয়কেই ছুঁয়ে যাচ্ছে।
স্টাফ রিপোর্টার 





















