দেশের বাজারে ইলিশের অস্বাভাবিক দাম নিয়ন্ত্রণে আকারভেদে সর্বোচ্চ খুচরা মূল্য বেঁধে দেওয়ার প্রস্তাব করেছে বাংলাদেশ ট্রেড অ্যান্ড ট্যারিফ কমিশন (বিটিটিসি)। ইলিশের উৎপাদন ও বিপণন ব্যবস্থা নিয়ে পরিচালিত এক সমীক্ষা প্রতিবেদনে এ সুপারিশ করা হয়। রবিবার প্রকাশিত এই প্রতিবেদনে বলা হয়, ইলিশ ধরার খরচ কেজিপ্রতি সর্বনিম্ন ৪৮৪ থেকে সর্বোচ্চ ৫০৪ টাকা হলেও, বিভিন্ন খরচ যোগ হয়ে তা দাঁড়ায় ৬৮৮ থেকে ৭০৬ টাকা। কিন্তু বাজারে বিক্রি হচ্ছে এর চেয়ে অনেক বেশি দামে, যার প্রধান কারণ দাদন ব্যবসায়ীদের নিয়ন্ত্রণ।
ট্যারিফ কমিশনের চেয়ারম্যান মইনুল খান বলেন, ইলিশ স্থানীয় পণ্য হলেও বাজারে দামের কৃত্রিমতা তৈরি হয়েছে মধ্যস্বত্বভোগীদের কারণে। আন্তর্জাতিক বাজার বা ডলারের ওঠানামার প্রভাব নেই। মূলত দাদন ব্যবসায়ীদের কারসাজিই দাম বাড়িয়ে দিচ্ছে।
প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়, স্থানীয় বাজারে ইলিশের দাম বর্তমানে আকারভেদে ৯০০ থেকে ২২০০ টাকা, অথচ চলতি মাসে ভারতে রপ্তানি হচ্ছে গড়ে ১৫৩৪ টাকায়। ইতোমধ্যে ৯৭ টনের বেশি ইলিশ ভারতে গেছে। অর্থাৎ, স্থানীয় বাজারে ক্রেতারা বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছেন।
গত চার মাসে ইলিশের দাম ওঠানামা করেছে। জুনে দাম ছিল ৬০০ থেকে ২২০০ টাকা, জুলাইয়ে তা বেড়ে দাঁড়ায় ৯০০ থেকে ২০০০ টাকা, আগস্টে সামান্য কমে আবার সেপ্টেম্বরে বেড়ে হয় ৯০০ থেকে ২২০০ টাকা। গত পাঁচ বছরে দাম বেড়েছে ৫৭ শতাংশ।
কমিশন ইলিশের দাম বাড়ার ১১টি কারণ চিহ্নিত করেছে। এর মধ্যে রয়েছে—চাহিদা-সরবরাহের অসামঞ্জস্য, সিন্ডিকেটের কারসাজি, জ্বালানি ও পরিবহন খরচ বৃদ্ধি, জেলেদের মজুরি, নদীর নাব্য সংকট, অবৈধ জাল, নিষিদ্ধ সময়ে মাছ ধরা এবং বারবার হাতবদল। এছাড়া রপ্তানির চাপ ও বিকল্প কর্মসংস্থানের অভাবও ভূমিকা রাখছে।
প্রতিবেদনে সুপারিশ করা হয়েছে—জেলেদের সমবায় গঠন, অনলাইন প্ল্যাটফর্মে সরাসরি বিক্রি, বড় শহরে সরকারি বিপণন কেন্দ্র স্থাপন, বাধ্যতামূলক নিবন্ধন, ডিজিটাল পেমেন্ট প্রচলন এবং দাদন ব্যবসার বিকল্প হিসেবে সহজ ব্যাংক ঋণ। পাশাপাশি কঠোর আইন প্রয়োগ ও যৌক্তিক মুনাফা নির্ধারণেরও পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।
স্টাফ রিপোর্টার 





















