দেশের উত্তরাঞ্চলের রংপুর ও গাইবান্ধা জেলাকে অ্যানথ্রাক্স সংক্রমণের ঝুঁকিপূর্ণ এলাকা হিসেবে চিহ্নিত করেছে প্রাণিসম্পদ অধিদপ্তর। সাম্প্রতিক সময়ে গবাদিপশুর মধ্যে অ্যানথ্রাক্স (তড়কা) রোগের প্রাদুর্ভাব দেখা দেওয়ায় প্রাণিসম্পদ অধিদপ্তর জরুরি ও সমন্বিত উদ্যোগ নিয়েছে রোগটির বিস্তার রোধে।
প্রাণিসম্পদ অধিদপ্তরের এক বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়েছে, অ্যানথ্রাক্স প্রতিরোধে টিকাদান কর্মসূচি জোরদার করা হয়েছে। একই সঙ্গে মাঠপর্যায়ে স্বাস্থ্য পরীক্ষণ, উঠান বৈঠক, পথসভা ও লিফলেট বিতরণসহ সচেতনতামূলক কার্যক্রম অব্যাহত রাখা হয়েছে। আক্রান্ত এলাকায় মাইকিংয়ের মাধ্যমে জনগণকে সতর্ক করা হচ্ছে যাতে কেউ অসুস্থ পশু জবাই না করে বা মৃত পশুর মাংস বিক্রি না করে। এছাড়া মৃত পশুর লাশ গভীরভাবে মাটিচাপা দেওয়ার নির্দেশও দেওয়া হয়েছে।
রংপুর বিভাগের জন্য প্রায় ৩০ লাখ টিকা সরবরাহের পরিকল্পনা হাতে নেওয়া হয়েছে। এর মধ্যে শুধুমাত্র রংপুর ও গাইবান্ধা জেলার জন্য বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে ২০ লাখ টিকা। রংপুর জেলার নয়টি উপজেলায় ইতিমধ্যে গরু ও মহিষকে টিকা দেওয়া শুরু হয়েছে। পীরগাছা উপজেলায় ৫৩ হাজার ৪০০, কাউনিয়ায় ৩৪ হাজার ও মিঠাপুকুরে ৩৪ হাজার ৫০০ গরুকে টিকা দেওয়া সম্পন্ন হয়েছে। অন্যদিকে গাইবান্ধার সুন্দরগঞ্জ উপজেলায় ২৬ হাজার ৪০০ পশুকে টিকা দেওয়া হয়েছে।
প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তারা জানান, আক্রান্ত এলাকায় দ্রুত ব্যবস্থা নিতে ভেটেরিনারি টিম মাঠে কাজ করছে। পশু মালিকদের পরামর্শ দেওয়া হচ্ছে, কোনো গবাদিপশু অসুস্থ হলে তাৎক্ষণিকভাবে স্থানীয় প্রাণিসম্পদ কার্যালয়ে যোগাযোগ করতে।
এছাড়া প্রশাসনের পক্ষ থেকে মাইকিং, উঠান বৈঠক, প্রচারপত্র বিতরণ ও বিশেষ টহল কার্যক্রম চালানো হচ্ছে। কেউ যদি আক্রান্ত পশু জবাই বা মাংস বিক্রি করে, তাহলে মোবাইল কোর্টের মাধ্যমে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে। ইতোমধ্যে কয়েকটি এলাকায় ১৫ হাজার টাকা পর্যন্ত জরিমানা করা হয়েছে।
বিশেষজ্ঞদের মতে, অ্যানথ্রাক্স একটি প্রাণঘাতী ব্যাকটেরিয়াজনিত রোগ, যা পশু থেকে মানুষের শরীরে ছড়িয়ে পড়তে পারে। সময়মতো টিকা প্রয়োগ ও সচেতনতা বাড়াতে পারলেই এই রোগ পুরোপুরি নিয়ন্ত্রণে রাখা সম্ভব।
স্টাফ রিপোর্টার 




















