ফরিদপুরের সদরপুরে এক দশম শ্রেণির স্কুলছাত্রীকে ধর্ষণের মামলায় শাহিন চৌধুরী (৪৪) নামের এক ব্যক্তিকে আমৃত্যু কারাদণ্ড দিয়েছেন আদালত। একইসঙ্গে তাকে ৫০ হাজার টাকা জরিমানার আদেশও দেওয়া হয়েছে।
বুধবার (৮ অক্টোবর) দুপুরে ফরিদপুর নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনালের বিচারক শামীমা পারভীন এ রায় ঘোষণা করেন। রায় ঘোষণার সময় আসামি শাহিন আদালতে উপস্থিত ছিলেন।
দণ্ডপ্রাপ্ত শাহিন সদরপুর উপজেলার কৃষ্ণপুর ইউনিয়নের শৈলডুবি গ্রামের বাসিন্দা। মামলার বিবরণে জানা যায়, ২০২১ সালে শাহিন সদরপুরের এক গ্রামের দশম শ্রেণির এক ছাত্রীকে একাধিকবার ধর্ষণ করেন। সর্বশেষ ওই বছরের ২৭ মার্চ রাত ৮টার দিকে তিনি ছাত্রীর নিজ বাড়িতে পুনরায় ধর্ষণ করেন। বিষয়টি জানতে পারেন ছাত্রীর মা ও কয়েকজন প্রতিবেশী। পরে মেয়ের মা বাদী হয়ে ৩০ মার্চ নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইনে সদরপুর থানায় একটি মামলা দায়ের করেন।
মামলায় শাহিন ছাড়াও আরও চারজনের নাম সহযোগী হিসেবে উল্লেখ করা হয়। তদন্তভার পান সদরপুর থানার উপপরিদর্শক (এসআই) হাবিবুর রহমান শেখ। তিনি ২০২১ সালের ১৫ জুলাই আদালতে অভিযোগপত্র জমা দেন, যেখানে শাহিনসহ চারজনকে অভিযুক্ত করা হয়।
বিচার প্রক্রিয়ায় সরকারি কৌঁসুলি (পিপি) গোলাম রব্বানী ভূঁইয়া আদালতে যুক্তি উপস্থাপন করে বলেন, মামলার সাক্ষ্য-প্রমাণে শাহিনের বিরুদ্ধে অভিযোগ প্রমাণিত হয়েছে। তাই আদালত তাকে আমৃত্যু কারাদণ্ড ও ৫০ হাজার টাকা জরিমানা করেন। অন্য তিন অভিযুক্তের বিরুদ্ধে অভিযোগ প্রমাণিত না হওয়ায় তারা বেকসুর খালাস পান।
রায়ের প্রতিক্রিয়ায় পিপি বলেন, “আমরা এই মামলায় ন্যায়বিচার পেয়েছি। আদালতের রায় ধর্ষণের মতো জঘন্য অপরাধের বিরুদ্ধে একটি শক্ত বার্তা দেবে।”
এই রায়ের মাধ্যমে দীর্ঘদিনের বিচারপ্রক্রিয়ার অবসান ঘটে এবং স্থানীয়দের মধ্যে ন্যায়বিচারের প্রতি আস্থা পুনরুদ্ধার হয়।
স্টাফ রিপোর্টার 




















