লক্ষ্মীপুরের রামগঞ্জে ঘটেছে এক হৃদয়বিদারক হত্যাকাণ্ড। উপজেলার বিয়াল্লিশনং ওয়ার্ডের একটি বাড়িতে মা ও মেয়েকে জবাই করে হত্যা করেছে দুর্বৃত্তরা। পরে ঘর থেকে প্রায় ৩০ ভরি স্বর্ণালংকার ও মূল্যবান সামগ্রী লুট করে তারা পালিয়ে যায়। এই নির্মম ঘটনায় এলাকাজুড়ে চরম আতঙ্ক ও শোকের ছায়া নেমে এসেছে।
নিহতরা হলেন গৃহবধূ জুলেখা বেগম (৫৫) ও তার মেয়ে মীম আক্তার (১৯)। নিহত মীম রামগঞ্জ মডেল কলেজের এইচএসসি দ্বিতীয় বর্ষের শিক্ষার্থী ছিলেন। স্থানীয় সূত্র জানায়, ঘটনার সময় বাড়ির পুরুষ সদস্যরা বাজারে ছিলেন। সে সুযোগে দুর্বৃত্তরা রাতের কোনো একসময়ে ঘরে ঢুকে মা-মেয়েকে ধারালো অস্ত্র দিয়ে জবাই করে হত্যা করে।
পরদিন সকালে স্থানীয়রা বাড়ির দরজা খোলা অবস্থায় দেখতে পেয়ে ভিতরে প্রবেশ করলে দুজনের রক্তাক্ত লাশ দেখতে পান। তারা সঙ্গে সঙ্গে পুলিশকে খবর দেন। রামগঞ্জ থানা পুলিশ দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছে লাশ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য পাঠায়।
পুলিশ জানিয়েছে, প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে এটি একটি পরিকল্পিত ডাকাতি ও হত্যার ঘটনা। বাড়ি থেকে স্বর্ণালংকারসহ মূল্যবান জিনিসপত্র উধাও পাওয়া গেছে। তবে হত্যার প্রকৃত কারণ উদঘাটনের জন্য তদন্ত চলছে।
ঘটনার পর এলাকাবাসীর মধ্যে চরম ক্ষোভ দেখা দিয়েছে। তারা দ্রুত হত্যাকারীদের গ্রেপ্তার ও দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানিয়েছেন। এদিকে নিহত মা-মেয়ের আত্মীয়স্বজনদের আহাজারিতে পুরো এলাকা শোকে স্তব্ধ হয়ে পড়েছে।
পুলিশের এক কর্মকর্তা জানান, ঘটনার রহস্য উদঘাটনে ইতোমধ্যে আশেপাশের সিসিটিভি ফুটেজ সংগ্রহ করা হয়েছে এবং কয়েকজনকে জিজ্ঞাসাবাদ করা হচ্ছে। রামগঞ্জ থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) বলেন, “এটি নৃশংস একটি হত্যাকাণ্ড। খুব দ্রুতই অপরাধীদের চিহ্নিত করে আইনের আওতায় আনা হবে।”
স্টাফ রিপোর্টার 




















