০১:২৭ পূর্বাহ্ন, শুক্রবার, ০৬ নভেম্বর ২০২৬, ২১ কার্তিক ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

বাংলাদেশে ক্যাশলেস লেনদেনে নতুন যুগের সূচনা

 

বিশ্বের বিভিন্ন দেশ দ্রুত নগদবিহীন বা ক্যাশলেস লেনদেন ব্যবস্থার দিকে অগ্রসর হচ্ছে। এই ব্যবস্থার জনপ্রিয়তার পেছনে রয়েছে সময় বাঁচানো, নিরাপত্তা এবং আর্থিক স্বচ্ছতার সুবিধা। বাংলাদেশেও এখন ক্যাশলেস অর্থনীতির পথে এগিয়ে যাওয়ার কার্যকর পদক্ষেপ নিচ্ছে বাংলাদেশ ব্যাংক। কারণ নগদ টাকার ব্যবস্থাপনায়—ছাপানো থেকে সরবরাহ পর্যন্ত—প্রতি বছর প্রায় ২০ হাজার কোটি টাকা ব্যয় হচ্ছে, যা দেশের বড় উন্নয়ন প্রকল্পের বাজেটের সঙ্গে তুলনীয়।

 

বাংলাদেশ ব্যাংক নগদবিহীন লেনদেন বাড়াতে ইতোমধ্যে নানা উদ্যোগ গ্রহণ করেছে। এর মধ্যে রয়েছে সারা দেশে সচেতনতা বৃদ্ধি কার্যক্রম, বিভিন্ন জেলায় প্রচারণা এবং ব্যবসায়ীদের ট্রেড লাইসেন্স ইস্যু ও নবায়নের সময় কিউআর কোডের মাধ্যমে পরিশোধ বাধ্যতামূলক করা। বিশ্বের সুইডেন, ফিনল্যান্ড, যুক্তরাজ্য ও দক্ষিণ কোরিয়ার মতো দেশগুলোর সাফল্যের অনুপ্রেরণায় বাংলাদেশও ধাপে ধাপে একই পথে হাঁটছে।

 

বিশ্বব্যাংকের তথ্যানুযায়ী, দেশে ১৮ কোটি ৬০ লাখ মোবাইল সংযোগ ও ১২ কোটি ৯০ লাখ ইন্টারনেট ব্যবহারকারী রয়েছে। এর মধ্যে ৯ কোটি ৩০ লাখ স্মার্টফোন ব্যবহার করেন—যা ডিজিটাল লেনদেনকে আরও সহজ করছে। বর্তমানে ব্যাংকিং খাতে ৩০ শতাংশ অর্থমূল্যের লেনদেন এবং ৪৯ শতাংশ সংখ্যার দিক থেকে লেনদেন ডিজিটালি সম্পন্ন হচ্ছে। তবুও নগদ টাকার চাহিদা প্রতিবছর গড়ে ১০ শতাংশ বাড়ছে।

 

বাংলাদেশ ব্যাংকের মুখপাত্র আরিফ হোসেন খান জানান, এক দিনে পুরোপুরি ক্যাশলেস অর্থনীতি সম্ভব নয়, তবে ধাপে ধাপে এই ব্যবস্থাকে বাস্তবায়ন করা হবে। তিনি বলেন, অনেক ব্যবসায়ী এখনো কর ফাঁকির কারণে নগদ লেনদেনে ঝুঁকে থাকলেও এতে তারাই ক্ষতির মুখে পড়ছেন। ভবিষ্যতে কর কাঠামো সংস্কারের পাশাপাশি মানুষকে উৎসাহিত করতে নগদবিহীন লেনদেনের জন্য প্রণোদনা দেওয়ার পরিকল্পনাও রয়েছে।

 

এছাড়া, দেশব্যাপী ‘বাংলা কিউআর’ ব্যবস্থার সম্প্রসারণে বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে। ইতোমধ্যে ৪৩টি ব্যাংক, পাঁচটি এমএফএস এবং তিনটি পেমেন্ট সার্ভিস প্রোভাইডার এতে যুক্ত হয়েছে। পাশাপাশি ডিজিটাল ব্যাংক স্থাপনের কাজও চলছে, যেখানে সব লেনদেন হবে সম্পূর্ণ অনলাইনে। এই উদ্যোগ বাংলাদেশকে সত্যিকারের ক্যাশলেস অর্থনীতির পথে এগিয়ে নেবে বলে আশা করা হচ্ছে।

 

Share this news as a Photo Card

ট্যাগ :
অধিক পঠিত

কেন্দুয়ায় নতুন কুঁড়ি স্পোর্টস সিজন-২ এর শুভ উদ্বোধন

ইউক্রেনের স্কুলভবনে রুশ বোমা হামলায় নিহত ৩৩, নিখোঁজ ৫০

04 November 2026
« « « বিস্তারিত কমেন্টে » » »
www.dailybexpress.com

বাংলাদেশে ক্যাশলেস লেনদেনে নতুন যুগের সূচনা

পোষ্টের সময় : ১১:২৬:৩৩ পূর্বাহ্ন, শনিবার, ১১ অক্টোবর ২০২৫

 

বিশ্বের বিভিন্ন দেশ দ্রুত নগদবিহীন বা ক্যাশলেস লেনদেন ব্যবস্থার দিকে অগ্রসর হচ্ছে। এই ব্যবস্থার জনপ্রিয়তার পেছনে রয়েছে সময় বাঁচানো, নিরাপত্তা এবং আর্থিক স্বচ্ছতার সুবিধা। বাংলাদেশেও এখন ক্যাশলেস অর্থনীতির পথে এগিয়ে যাওয়ার কার্যকর পদক্ষেপ নিচ্ছে বাংলাদেশ ব্যাংক। কারণ নগদ টাকার ব্যবস্থাপনায়—ছাপানো থেকে সরবরাহ পর্যন্ত—প্রতি বছর প্রায় ২০ হাজার কোটি টাকা ব্যয় হচ্ছে, যা দেশের বড় উন্নয়ন প্রকল্পের বাজেটের সঙ্গে তুলনীয়।

 

বাংলাদেশ ব্যাংক নগদবিহীন লেনদেন বাড়াতে ইতোমধ্যে নানা উদ্যোগ গ্রহণ করেছে। এর মধ্যে রয়েছে সারা দেশে সচেতনতা বৃদ্ধি কার্যক্রম, বিভিন্ন জেলায় প্রচারণা এবং ব্যবসায়ীদের ট্রেড লাইসেন্স ইস্যু ও নবায়নের সময় কিউআর কোডের মাধ্যমে পরিশোধ বাধ্যতামূলক করা। বিশ্বের সুইডেন, ফিনল্যান্ড, যুক্তরাজ্য ও দক্ষিণ কোরিয়ার মতো দেশগুলোর সাফল্যের অনুপ্রেরণায় বাংলাদেশও ধাপে ধাপে একই পথে হাঁটছে।

 

বিশ্বব্যাংকের তথ্যানুযায়ী, দেশে ১৮ কোটি ৬০ লাখ মোবাইল সংযোগ ও ১২ কোটি ৯০ লাখ ইন্টারনেট ব্যবহারকারী রয়েছে। এর মধ্যে ৯ কোটি ৩০ লাখ স্মার্টফোন ব্যবহার করেন—যা ডিজিটাল লেনদেনকে আরও সহজ করছে। বর্তমানে ব্যাংকিং খাতে ৩০ শতাংশ অর্থমূল্যের লেনদেন এবং ৪৯ শতাংশ সংখ্যার দিক থেকে লেনদেন ডিজিটালি সম্পন্ন হচ্ছে। তবুও নগদ টাকার চাহিদা প্রতিবছর গড়ে ১০ শতাংশ বাড়ছে।

 

বাংলাদেশ ব্যাংকের মুখপাত্র আরিফ হোসেন খান জানান, এক দিনে পুরোপুরি ক্যাশলেস অর্থনীতি সম্ভব নয়, তবে ধাপে ধাপে এই ব্যবস্থাকে বাস্তবায়ন করা হবে। তিনি বলেন, অনেক ব্যবসায়ী এখনো কর ফাঁকির কারণে নগদ লেনদেনে ঝুঁকে থাকলেও এতে তারাই ক্ষতির মুখে পড়ছেন। ভবিষ্যতে কর কাঠামো সংস্কারের পাশাপাশি মানুষকে উৎসাহিত করতে নগদবিহীন লেনদেনের জন্য প্রণোদনা দেওয়ার পরিকল্পনাও রয়েছে।

 

এছাড়া, দেশব্যাপী ‘বাংলা কিউআর’ ব্যবস্থার সম্প্রসারণে বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে। ইতোমধ্যে ৪৩টি ব্যাংক, পাঁচটি এমএফএস এবং তিনটি পেমেন্ট সার্ভিস প্রোভাইডার এতে যুক্ত হয়েছে। পাশাপাশি ডিজিটাল ব্যাংক স্থাপনের কাজও চলছে, যেখানে সব লেনদেন হবে সম্পূর্ণ অনলাইনে। এই উদ্যোগ বাংলাদেশকে সত্যিকারের ক্যাশলেস অর্থনীতির পথে এগিয়ে নেবে বলে আশা করা হচ্ছে।

 

Share this news as a Photo Card