দুর্নীতি, স্বজনপ্রীতি ও অনিয়মের একাধিক অভিযোগের প্রেক্ষিতে খাগড়াছড়ি জেলা পরিষদের চেয়ারম্যান জিরুনা ত্রিপুরাকে স্থায়ীভাবে পদচ্যুত করেছে পার্বত্য চট্টগ্রাম বিষয়ক মন্ত্রণালয়। তদন্তে তাঁর বিরুদ্ধে আনা অভিযোগসমূহ প্রমাণিত হওয়ায় এই সিদ্ধান্ত কার্যকর করা হয়।
সরকারি সূত্রে জানা গেছে, জিরুনা ত্রিপুরার বিরুদ্ধে পরিষদের সদস্যদের অবমূল্যায়ন, অধীনস্থ কর্মকর্তা-কর্মচারীদের সঙ্গে অশোভন আচরণ, আত্মীয়স্বজনকে প্রাধান্য দিয়ে প্রশাসনিক কর্মকাণ্ড পরিচালনা, ঠিকাদারদের বিল আটকে ঘুষ গ্রহণসহ নানা ধরনের অনিয়মের অভিযোগ ওঠে। এসব অভিযোগের ভিত্তিতে মন্ত্রণালয় তদন্ত কমিটি গঠন করে এবং তদন্তে অভিযোগগুলো সত্য প্রমাণিত হয়।
এর আগে, চলতি বছরের ৭ জুলাই তাঁকে সাময়িকভাবে দায়িত্ব থেকে অব্যাহতি দেওয়া হয়েছিল। পরবর্তীতে তদন্ত প্রতিবেদন পর্যালোচনা করে মন্ত্রণালয় ১৪ অক্টোবর জিরুনা ত্রিপুরাকে স্থায়ীভাবে চেয়ারম্যানের দায়িত্ব থেকে অপসারণের নির্দেশ জারি করে। মন্ত্রণালয়ের এক বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, তাঁর আচরণ ও কর্মকাণ্ড জেলা পরিষদের ভাবমূর্তি নষ্ট করেছে এবং প্রশাসনিক স্থিতিশীলতায় নেতিবাচক প্রভাব ফেলেছে।
২০২৪ সালের ৭ নভেম্বর খাগড়াছড়ি জেলা পরিষদের চেয়ারম্যান পদে যোগ দিয়েছিলেন জিরুনা ত্রিপুরা। দায়িত্ব গ্রহণের পর থেকেই পরিষদের অভ্যন্তরে নানা অসন্তোষ ও অভিযোগ তৈরি হয়। একাধিক কর্মকর্তা ও পরিষদ সদস্য তাঁর বিরুদ্ধে অসৌজন্যমূলক আচরণ, ক্ষমতার অপব্যবহার এবং উন্নয়ন প্রকল্পে অনিয়মের অভিযোগ জানান। এসব অভিযোগ গণমাধ্যমেও প্রকাশ পায়, যা পরবর্তীতে মন্ত্রণালয়ের নজরে আসে।
তাঁর অপসারণের ফলে এখন জেলা পরিষদের দায়িত্ব ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যানের হাতে অর্পণ করা হয়েছে বলে জানা গেছে। এ সিদ্ধান্তে এলাকায় মিশ্র প্রতিক্রিয়া দেখা দিয়েছে। কেউ কেউ একে প্রশাসনিক স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতার ইতিবাচক উদাহরণ হিসেবে দেখছেন, আবার কেউ এটিকে রাজনৈতিক প্রভাবের ফল বলে মনে করছেন।
সরকারি পর্যায়ে দাবি করা হয়েছে, স্থানীয় সরকার কাঠামোর মধ্যে শৃঙ্খলা ও নৈতিক প্রশাসন প্রতিষ্ঠায় এই সিদ্ধান্ত ভবিষ্যতে দৃষ্টান্ত স্থাপন করবে।
স্টাফ রিপোর্টার 




















