ভারতের ত্রিপুরা রাজ্যে গত ১৫ অক্টোবর গরুচোর সন্দেহে তিনজন বাংলাদেশিকে নির্মমভাবে পিটিয়ে হত্যা করা হয়েছে। নিহতরা হলেন হবিগঞ্জ জেলার চুনারুঘাট উপজেলার বাসুল্লা গ্রামের পণ্ডিত মিয়া, কবিলাসপুর গ্রামের সজল মিয়া এবং আলীনগর গ্রামের জুয়েল মিয়া। তারা সবাই পেশায় দিনমজুর ছিলেন। এই হত্যাকাণ্ডকে কেন্দ্র করে বাংলাদেশ সরকার তীব্র নিন্দা প্রকাশ করেছে।
পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় শুক্রবার (১৭ অক্টোবর) এক বিবৃতিতে জানিয়েছে, এই ধরনের কাজ মানবাধিকারের স্পষ্ট লঙ্ঘন এবং আইনের প্রতি চরম অবজ্ঞা প্রকাশ করে। বাংলাদেশ সরকার আশা করছে, ভারতের সরকার দ্রুত, স্বচ্ছ ও নিরপেক্ষ তদন্ত চালিয়ে অপরাধীদের শাস্তির আওতায় আনবে। এমন ঘটনা যেন পুনরায় না ঘটে, সেজন্য আন্তরিক প্রচেষ্টা চালানোরও আহ্বান জানিয়েছে ঢাকা।
বিবৃতিতে আরও বলা হয়েছে, সীমান্তে যে কোনো ব্যক্তি, তার জাতীয়তা নির্বিশেষে, মানবাধিকার রক্ষার পূর্ণ অধিকার রাখে। অপরাধীদের শনাক্ত করে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি দেওয়া অবশ্যক। এই হত্যাকাণ্ড শুধু পরিবার নয়, পুরো জাতির জন্য একটি শোকের বিষয়।
বাংলাদেশ সরকার আশা করছে, এই ধরনের অমানবিক কাজের পুনরাবৃত্তি বন্ধ করতে ভারত সরকার যথাযথ ব্যবস্থা গ্রহণ করবে। এছাড়া, দুই দেশের মধ্যে বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্ক বজায় রাখার জন্যও যথাযথ পদক্ষেপ নেওয়া প্রয়োজন।
ত্রিপুরার এই হত্যাকাণ্ড স্থানীয় ও আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের মধ্যে তীব্র প্রতিক্রিয়া সৃষ্টি করেছে। বাংলাদেশ সরকারের নিন্দার পাশাপাশি বিভিন্ন মানবাধিকার সংগঠনও ঘটনার নিন্দা জানিয়েছে। হত্যাকাণ্ডের দ্রুত তদন্ত এবং অপরাধীদের শাস্তির দাবি করছে তারা।
বাংলাদেশ-ভারত সীমান্তের নিরাপত্তা ও মানবাধিকার রক্ষা নিয়ে সচেতনতা বৃদ্ধির জন্য এ ধরনের ঘটনার পুনরাবৃত্তি রোধ করা গুরুত্বপূর্ণ। এ ঘটনায় নিহতদের পরিবারকে যথাযথ সহায়তা ও ক্ষতিপূরণ দেওয়ারও প্রয়োজন রয়েছে।
স্টাফ রিপোর্টার 






















