বাংলাদেশের আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালে একটি আলোচিত মামলায় সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে নিয়ে তীব্র আলোচনা তৈরি হয়েছে। রাষ্ট্রপক্ষের প্রধান প্রসিকিউটর মো. তাজুল ইসলাম অভিযোগ করেছেন, শেখ হাসিনা রাষ্ট্রের বিভিন্ন সংস্থা ও বাহিনীর মধ্যে বিভাজন সৃষ্টি করার চেষ্টা করেছেন এবং এমন কর্মকাণ্ডের মাধ্যমে দেশকে গৃহযুদ্ধের দিকে ঠেলে দিতে চেয়েছিলেন।
আজ বৃহস্পতিবার (২৩ অক্টোবর) ট্রাইব্যুনাল-১–এ মামলার যুক্তিতর্ক উপস্থাপনের সময় প্রসিকিউটর এ বক্তব্য দেন। তিনি বলেন, আসামিদের আচরণে অনুশোচনার কোনো লক্ষণ দেখা যায়নি, বরং তারা নিজেদের কর্মকাণ্ডে গর্বিত বলেই মনে হয়। এই মামলায় মোট তিনজন আসামির বিরুদ্ধে অভিযোগ আনা হয়েছে, যার মধ্যে একজন অভিযোগ স্বীকার করেছেন বলে আদালত সূত্রে জানা গেছে।
প্রসিকিউটর তাজুল ইসলাম আদালতে বলেন, শেখ হাসিনার কর্মকাণ্ড দেশজুড়ে প্রশাসন, সেনাবাহিনী ও আইন-শৃঙ্খলা বাহিনীর মধ্যে বিভ্রান্তি তৈরি করেছে। তাঁর ভাষ্যমতে, এসব কর্মকাণ্ড ছিল রাষ্ট্রের স্থিতিশীলতা নষ্টের এক পরিকল্পিত প্রচেষ্টা। তিনি আরও বলেন, এসব অপরাধ কেবল রাজনৈতিক উদ্দেশ্যে নয়, বরং জাতির ঐক্য ভাঙার অপচেষ্টা হিসেবেও বিবেচিত হতে পারে।
মামলার শুনানিতে রাষ্ট্রপক্ষ যুক্তি দেয়, অভিযুক্ত ব্যক্তিরা ক্ষমতার অপব্যবহার করে এমন পরিবেশ তৈরি করেছিলেন যাতে সরকারি প্রতিষ্ঠানগুলোর মধ্যে আস্থাহীনতা বাড়ে এবং জনগণের মধ্যে ভীতি ছড়িয়ে পড়ে। এ সময় ট্রাইব্যুনাল প্রসিকিউশনের বক্তব্য শুনে আগামী তারিখে রায় ঘোষণার সম্ভাবনার ইঙ্গিত দেয়।
আদালত কক্ষে উপস্থিত আইনজীবী ও গণমাধ্যমকর্মীদের অনেকে বলেন, এই মামলাটি শুধু একজন রাজনৈতিক নেতার বিরুদ্ধে নয়, বরং রাষ্ট্রের আইনি কাঠামোর প্রতি আনুগত্যেরও বড় পরীক্ষা। দেশের রাজনৈতিক অঙ্গনে বিষয়টি নিয়ে ইতিমধ্যে তুমুল আলোচনা চলছে।
প্রসিকিউশন পক্ষের দাবি, রাষ্ট্রবিরোধী কার্যক্রমের এমন উদাহরণ ইতিহাসে খুব কমই দেখা গেছে। তবে, প্রতিরক্ষা পক্ষের আইনজীবীরা যুক্তি দিয়েছেন, এসব অভিযোগ রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপ্রণোদিত এবং প্রমাণের ভিত্তি দুর্বল।
বর্তমানে মামলার রায় ঘোষণার অপেক্ষায় রয়েছে দেশজুড়ে রাজনৈতিক পর্যবেক্ষকরা।
স্টাফ রিপোর্টার 






















