দেশে পেঁয়াজের দাম এখন নিম্নমুখী, প্রতি কেজি ৭০ থেকে ৮০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। নভেম্বরের ভরা মৌসুমে দাম আরও কমার কথা থাকলেও কিছু আমদানিকারক এখনই ভারত থেকে পেঁয়াজ আনার চেষ্টা করছেন। অভিযোগ উঠেছে—একটি সিন্ডিকেট বাজারে কৃত্রিম সংকট সৃষ্টি করে দাম বাড়িয়ে আমদানির সুযোগ নিতে চাইছে।
কৃষি মন্ত্রণালয়ের তথ্য অনুযায়ী, বর্তমানে দেশে পেঁয়াজের পর্যাপ্ত মজুত রয়েছে এবং চাহিদার তুলনায় সরবরাহও বেশি। তারপরও উদ্ভিদ সংগনিরোধ উইংয়ে ২ হাজার ৮০০টি আমদানির আবেদন জমা পড়েছে। অথচ দুই মাসের মধ্যেই দেশীয় পেঁয়াজ বাজারে আসবে।
কৃষি মন্ত্রণালয়ের অতিরিক্ত সচিব মাহমুদুর রহমান বলেন, “নভেম্বরেই নতুন পেঁয়াজ উঠবে। এখন আমদানি অনুমতি দিলে কৃষক ক্ষতিগ্রস্ত হবে। কৃষকের ন্যায্য দাম নিশ্চিত করাই আমাদের লক্ষ্য।”
বাজারসংশ্লিষ্টরা জানান, গত মৌসুমে কৃষকরা কম দামে পেঁয়াজ বিক্রি করতে বাধ্য হয়েছিলেন, আর মজুতদারদের হাতে চলে গিয়েছিল অধিকাংশ পেঁয়াজ। এবারও সেই সিন্ডিকেট বাজারে কৃত্রিম সংকট দেখিয়ে ভারতীয় পেঁয়াজ আনার চাপ দিচ্ছে।
একজন আড়তদার জানান, ভারতে দাম কমলে কিছু ব্যবসায়ী দেশে দাম বাড়িয়ে সংকট তৈরি করেন এবং পরে সেখান থেকে কম দামে পেঁয়াজ এনে বেশি দামে বিক্রি করে বিপুল মুনাফা করেন।
সরকারি পরিসংখ্যান বলছে, দেশে বছরে ৩৫ লাখ টনের চাহিদার বিপরীতে উৎপাদন হয়েছে প্রায় ৩৮ লাখ টন। ফলে নতুন করে আমদানির প্রয়োজন নেই। তবুও কিছু ব্যবসায়ী আইপি ছাড়াই এলসি খুলে পেঁয়াজ বন্দরে নিয়ে এসে সরকারকে চাপে ফেলছেন।
কৃষি মন্ত্রণালয়ের সূত্র জানায়, ভারতে ২০ রুপিতে কেনা পেঁয়াজ কাগজে ৩০ রুপি দেখিয়ে টাকা পাচার করা হয়। এমনকি কিছু চালানে অবৈধ পণ্যও যুক্ত করা হচ্ছে।
এদিকে কৃষকেরা আশঙ্কা করছেন, ভরা মৌসুমের আগে ভারতীয় পেঁয়াজ এলে তাদের উৎপাদিত ফসল বিক্রি হবে না। পাবনার কৃষক রহমত আলী বলেন, “আমরা কেজি প্রতি ৪০ টাকা খরচ করছি। এখন যদি ভারতীয় পেঁয়াজ আসে, আমরা ক্ষতিগ্রস্ত হব।”
সরকার কৃষক স্বার্থে দেশীয় উৎপাদন বাড়াতে গ্রীষ্মকালীন পেঁয়াজে ৫০ টন উন্নত বীজ ও সার দিয়েছে। এছাড়া ৮ হাজার ‘এয়ার ফ্লো মেশিন’ বসানো হয়েছে দীর্ঘমেয়াদি সংরক্ষণের জন্য।
কৃষি সচিব ড. এমদাদ উল্লাহ মিয়ান বলেন, “আমাদের লক্ষ্য কৃষক ও ভোক্তা—দুই পক্ষের ভারসাম্য রাখা। তাই এখন পেঁয়াজ আমদানি স্থগিত থাকাই যথাযথ।”
স্টাফ রিপোর্টার 






















