অন্তর্বর্তী সরকারের উপদেষ্টা পরিষদে বড় ধরনের পরিবর্তনের আভাস মিলেছে। প্রশাসনের বিভিন্ন পর্যায়ে গুঞ্জন, শিগগিরই বিদায়ের সুর বাজতে পারে এই পরিষদে। ইতোমধ্যে একাধিক উপদেষ্টা নিজেদের দপ্তরে অসমাপ্ত সংস্কারকাজ দ্রুত শেষ করার নির্দেশ দিয়েছেন, যেন দায়িত্ব শেষ হওয়ার আগে কাজগুলো সম্পন্ন করা যায়।
একজন উপদেষ্টার ঘনিষ্ঠ সহকারী জানিয়েছেন, তাঁর ‘স্যার’ সম্প্রতি বলেছেন, “এখন গুরুত্বপূর্ণ কাজ শেষ করার সময়, কারণ যেকোনো দিন চলে যেতে হতে পারে।” একই ধরনের প্রস্তুতি দেখা যাচ্ছে সচিবালয়ের আরও কয়েকটি দপ্তরে। সূত্র বলছে, নতুন করে উপদেষ্টা পরিষদ পুনর্গঠন নিয়েও আলোচনা চলছে সরকারের উচ্চপর্যায়ে।
বিএনপি, জামায়াতে ইসলামী ও এনসিপি ইতোমধ্যে বিতর্কিত ও দলীয় সম্পৃক্ত উপদেষ্টাদের অপসারণের দাবি তুলেছে। প্রধান উপদেষ্টা ড. মুহাম্মদ ইউনূসের সঙ্গে বৈঠকেও এই দাবিগুলো স্পষ্টভাবে জানানো হয়েছে। প্রশাসনের নিরপেক্ষতা নিয়েও প্রশ্ন তুলেছে এসব দল।
সরকারের একটি নির্ভরযোগ্য সূত্র জানিয়েছে, দুজন ছাত্র প্রতিনিধি উপদেষ্টাকে পদত্যাগের পরামর্শ দেওয়া হয়েছে। তাঁদের মধ্যে স্থানীয় সরকার উপদেষ্টা আসিফ মাহমুদ সজীব ভূঁইয়া নির্বাচনের তফসিল ঘোষণার আগে পদত্যাগ করতে পারেন, আর তথ্য উপদেষ্টা মাহফুজ আলম অনিশ্চয়তার মধ্যে রয়েছেন বলে জানিয়েছেন।
জাতীয় নাগরিক পার্টির আহ্বায়ক নাহিদ ইসলাম অভিযোগ করেছেন, কিছু উপদেষ্টা বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের সঙ্গে যোগাযোগ রেখে “সেফ এক্সিট” পরিকল্পনা করছেন। অপরদিকে জামায়াতের নায়েবে আমির ডা. সৈয়দ তাহের দাবি করেছেন, কিছু উপদেষ্টা ষড়যন্ত্রমূলক কর্মকাণ্ডে যুক্ত। এসব অভিযোগে পরিষদের ভেতরে উত্তেজনা তৈরি হয়েছে।
এমন অস্থির প্রেক্ষাপটে প্রশাসনের নিরপেক্ষতা ও নির্বাচনকালীন দায়িত্ব নিয়ে রাজনৈতিক মহলে সন্দেহ বেড়েছে। বিশ্লেষকরা মনে করছেন, নতুন উপদেষ্টা পরিষদ পুনর্গঠন না হলে আগামী জাতীয় নির্বাচনের নিরপেক্ষতা নিয়ে প্রশ্ন থেকেই যাবে।
স্টাফ রিপোর্টার 






















