আওয়ামী লীগ সরকারের সময় সংঘটিত গুম ও নির্যাতনের অভিযোগে মানবতাবিরোধী অপরাধের দুই মামলায় সেনা কর্মকর্তাসহ মোট ২৮ জন আসামির বিরুদ্ধে পরবর্তী শুনানির তারিখ পরিবর্তন করা হয়েছে। আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল আগের নির্ধারিত ২০ নভেম্বরের তারিখ পিছিয়ে ২৩ নভেম্বর নির্ধারণ করেছে।
রোববার (২৬ অক্টোবর) প্রসিকিউশনের আবেদন গ্রহণ করে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল-১ এই সিদ্ধান্ত দেয়। আদালতের বেঞ্চে ছিলেন বিচারপতি মো. শফিউল আলম মাহমুদ ও বিচারক মো. মোহিতুল হক এনাম চৌধুরী।
প্রসিকিউটর গাজী এমএইচ তামিম আদালতের কাছে সময় প্রার্থনা করেন, যা মঞ্জুর করা হয়। তিনি বলেন, “গুমের দুটি মামলায় সেনা কর্মকর্তাদের উপস্থিতিতে গত ২২ অক্টোবর শুনানি হয়। এরপর প্রসিকিউশন কিছু অতিরিক্ত নথি প্রস্তুত করতে সময় চেয়েছিল, তাই তারিখ পরিবর্তনের আবেদন করা হয়।”
গত ২২ অক্টোবর আদালতে হাজির করা হয় ১৫ জন সেনা কর্মকর্তাকে, যাদের বিরুদ্ধে অভিযোগ রয়েছে র্যাবের টাস্কফোর্স ইন্টারোগেশন (টিএফআই) সেলে বন্দিদের ওপর নির্যাতনের। শুনানি শেষে আদালত তাদের গ্রেপ্তার দেখিয়ে কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দেন এবং শুনানির জন্য ২০ নভেম্বর দিন ধার্য করেছিলেন।
এ ছাড়া, একই ধরনের অভিযোগে আরও একটি মামলায় জয়েন্ট ইন্টারোগেশন সেল (জেআইসি) বা ‘আয়নাঘর’-এ সংঘটিত গুমের ঘটনায় ১৩ জনের বিরুদ্ধে মামলা করা হয়েছে। উভয় মামলাতেই সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ও তার নিরাপত্তা উপদেষ্টা তারিক আহমেদ সিদ্দিকের নাম রয়েছে।
প্রসিকিউশন জানায়, গত ৮ অক্টোবর পৃথক দুটি মামলায় মোট ২৮ জনের বিরুদ্ধে আনুষ্ঠানিক অভিযোগ দাখিল করা হয়। ট্রাইব্যুনাল অভিযোগ আমলে নিয়ে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি করে এবং শুনানির তারিখ নির্ধারণ করে।
মানবাধিকার সংস্থাগুলো বলছে, এসব মামলা দেশের বিচারব্যবস্থায় গুরুত্বপূর্ণ নজির তৈরি করবে। অন্যদিকে, আসামিপক্ষের আইনজীবীরা অভিযোগগুলোকে রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপ্রণোদিত দাবি করে আত্মপক্ষ সমর্থনের প্রস্তুতি নিচ্ছেন।
স্টাফ রিপোর্টার 






















